জনগণ চাইলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুনর্বহাল : এরদোয়ান

0
35

ঢাকা, ১৯ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

দেশে আবারো মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। দেশটিতে অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনার বিষয়টি চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। খবর বিবিসির।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা বলছেন, মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনলে তুরস্কের ইইউতে যোগ দেয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবে রূপ নেয়ার কোনো সম্ভাবনাই আর থাকবে না।

শুক্রবার রাতে তুরস্কের অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তার প্রতিপক্ষের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগকে ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড পুনরায় চালু করার ব্যাপারে তার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এদিকে, ইউরোপের নেতারা সর্তক করে বলেছেন, তুরস্ক যদি মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনে তাহলে ইইউতে যোগ দেয়ার আশা তাদের জন্য শেষ হয়ে যাবে।

মার্কিন টেলিভিশন সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাতকারে মৃত্যুদণ্ড প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছেন, মানুষ বলে কেন তাদেরকে আমি বছরের পর বছর জেলখানায় রাখব? এই অবস্থার দ্রুত অবসান চায় তারা। কারণ তারা আত্মীয়, পরিবার এবং শিশুদের হারিয়েছে। তারা খুব সংবেদনশীল হয়ে আছে তাই আমাদেরকেও বাস্তবসম্মত ও সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে।

এসব কারণেই তুরস্কের পশ্চিমা মিত্ররা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এরদোয়ানের এই ঘটনার পর পরিমিত প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলসহ ইউরোপের নেতারা বলছেন, তুরস্ক যদি আবারো মৃত্যুদণ্ড চালু করে তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়ার বিষয়ে তাদের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে সেটা এখানেই শেষ হয়ে যাবে।

এদিকে, এই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পেছনে ফেতুল্লাহ গুলেনের মদদ আছে কি নেই সে প্রসঙ্গে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, এ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রমাণ চাইতে থাকে তাহলে তাদের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক পূর্ণমূল্যায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, গুপ্তঘাতকরা একটি নির্বাচিত সরকারকে সরাতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, যদি আমাদের বন্ধু দেশের এ বিষয়ে প্রমাণের দরকার হয় তাহলে তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আমাদের আবারো ভাবতে হবে।

অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় প্রায় ৯ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা এবং ছয় হাজার সেনাসদস্যকে আটক করেছে। এছাড়া প্রায় তিন হাজার বিচারককে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে।