লাইফস্টাইল

এক ঘণ্টায় পুষিয়ে নিন অফিসের ৮ ঘণ্টার ধকল

ঢাকা, ৩১ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

আধুনিক জীবনের কর্মদিবস মানসিক চাপে পরিপূর্ণ। প্রযুক্তিগত কারণে এমনিতেই স্ট্রেসের ভার বইতে হয় সব সময়। কর্মদিবসের প্রাণঘাতী সময় পার করে তাই স্বাস্থ্যকর অবস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হয়। এই অস্বাস্থ্যকর ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের পর পুরো প্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনতে মাত্র ১ ঘণ্টার শারীরিক কার্যক্রম জাদুকরী হয়ে উঠতে পারে বলে এক গবেষণায় বলা হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা ১০ লাখ কর্মজীবী নারী-পুরুষের ওপর গবেষণা করেন। দেখা যায়, দিনে ৮ ঘণ্টা বসে থাকার কাজ করা এবং কোনো কায়িক কার্যক্রমে না জড়ানোর ফলে মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়।

পর্যবেক্ষণকৃত কর্মজীবীদের মধ্যে যারা কেবল বসে সময় কাটান এবং পরে অন্য কোনো দৈহিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন না, তাদের মৃত্যুঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি ছিল। কায়িক শ্রমের অভ্যাস যাদেন নেই তাদের মৃত্যুঝুঁকি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করে আর্টিয়ারি ডিজিস ও ক্যান্সার।

সমাধানের দারুণ উপায়ের কথাও বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। আট ঘণ্টা বসে থাকার ফলে দেহ যে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তার পুরোটাই কাটিয়ে ওঠা যায় মাত্র ১ ঘণ্টার শ্রমের বিনিময়ে। এটাও খুব বেশি কিছু নয়। এক ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি বা সাইকেল চালনা বা সাঁতার ইত্যাদি। আর মাধ্যমে মৃত্যুঝুঁকি বিস্ময়কর হারে কমে আসে।

এ ছাড়া বিজ্ঞানীরা কর্মীদের কাজের ফাঁকে একটু হেঁটে আসা বা চেয়ার থেকে উঠে কিছু একটা করতে তাগাদা দেন। এমনকি কাজের ফাঁকে এক-দুইবার চা খেতে উঠলেও উপকার মেলে।

প্রধান গবেষক ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর উলফ ইকল্যান্ড জানান, মাত্র ১ ঘণ্টার দৈহিক শ্রম গোটা কর্মদিবসের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়। হাঁটা বা সাইকেল চালনার মাধ্যমেও উদ্দেশ্য সাধন হতে পারে। এর জন্যে খেলাধুলায় অংশ নিতে হবে না। নিয়মিত শরীরচর্চা কেন্দ্রে যেতে হবে না। সময় ভাগ করেও কাজ করা যায়। তবে সব মিলিয়ে ১ ঘণ্টার শ্রম ঢালতে হবে।

আবার অফিস চলাকালীন এক ঘণ্টা পর পর ৫ মিনিটের ব্রেক নিতে পারেন। প্রতিদিন এমন অভ্যাস গড়ে তুললে ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

পূর্বের প্রায় ১৬টি গবেষণা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ব্রাজিলের অলিম্পিককে সামনে রেখে ‘দ্য ল্যানসেট’ মেডিক্যাল জার্নালে এক গবেষণার সিরিজ হিসাবে এই অংশটি প্রকাশিত হয়েছে। ওইসব গবেষণায় যারা অংশ নেন তাদের সবার বয়স গড়ে ৪৫ বছর। পশ্চিম ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়ার অধিবাসী তারা। তাদের ৪টি সমান দলে ভাগ করে গবেষণার বেশ কিছু অংশ পরিচালিত হয়।

দেখা যায়, কিছু মানুষ প্রতিদিন ৬০-৭৫ মিনিট শারীরিক শ্রম দেন কর্মদিবসের পরও। আর কিছু মানুষ মাত্র ৫ মিনিট বা তারও কম সময়ের জন্য পরিশ্রমী হয়ে ওঠেন। এদের মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে তুলনা করা হয়।

৫ লাখ মানুষের টেলিভিশন দেখার অভ্যাসের ক্ষেত্রেও মৃত্যুঝুঁকি পরীক্ষা করা হয়। প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা টিভি দেখার কারণেও মৃত্যুঝুঁকি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় বলে গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। এমন অভ্যাসও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের লক্ষণ বলে জানান বিজ্ঞানীরা। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট

 

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button