আধুনিক অলিম্পিকের ইতিহাস

0
30

ঢাকা, ৩১ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ক্রীড়াযজ্ঞের নাম অলিম্পিক। গ্রীষ্মকালীন আসরটি এবার বসতে যাচ্ছে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোয়। আন্তর্জাতিক বহুজাতিক এই ক্রীড়া আসর ৫ আগষ্ট শুরু হয়ে শেষ হবে ২১ আগষ্ট। রেকর্ড সংখ্যক দেশ এখন পদকের জন্য অপেক্ষা করছে। বহু অখ্যাত ব্যক্তি অপেক্ষা করছেন বিখ্যাত হওয়ার জন্য। এবারের অলিম্পিকে কসাভো ও দক্ষিণ সুদানসহ ২১৬টি জাতীয় অলিম্পিক কমিটি (এনওসি) থেকে ১০,৫০০ জনেরও বেশি ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করবে। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) মাধ্যমে সংযুক্ত ক্রীড়া রাগবি সেভেনস ও গলফসহ ২৮টি অলিম্পিক ক্রীড়ায় ৩০৬টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। বৃহৎ এই প্রতিযোগিতার জন্য ব্রাজিলের বিখ্যাত শহর রিও তো থাকছেই। এর পাশপাশি ব্রাজিলের আরেকটি বড় শহর সাও পাওলো, রাজধানী ব্রাসিলিয়া, মানাউশ এবং সালভাদোরও প্রস্তুত।

অলিম্পিকের ইতিহাস বহু প্রাচীন। খৃষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দিতে গ্রীসের অলিম্পিয়া থেকে শুরু হওয়া প্রাচীন অলিম্পিক গেমস থেকেই মূলত আধুনিক অলিম্পিক গেমস ধারণার জন্ম। ১৮৯৪ সালে ব্যারন পিয়ের দ্য কুবার্তা সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) গঠন করেন। এই কমিটিই অলিম্পিক গেমস সংক্রান্ত যাবতীয় কিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

অলিম্পিক আন্দোলন থেকেই বিংশ ও একবিংশ শতাব্দিতে অনেক কিছু সংযোজন বিয়োজন হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শীতকালীন অলিম্পিকের প্রচলন, প্রতিবন্ধীদের জন্য প্যারা অলিম্পিক ও কিশোর ক্রীড়াবিদদের জন্য যুব অলিম্পিক গেমস। এসব পরিবর্তনকে সার্থক করার জন্য আইওসিকে অনেক ধরনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন করতে হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অলিম্পিকের আসর বন্ধ ছিল।

অলিম্পিক গেমস ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস ফেডারেশন, জাতীয় অলিম্পিক কমিটি এবং প্রতিটি আসরের জন্য নির্দিষ্ট কমিটির সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক আসরের জন্য আয়োজক দেশ নির্বাচনের ক্ষমতা সংরক্ষণ করে আইওসি। অলিম্পিক সনদ অনুযায়ী আয়োজক দেশ অলিম্পিক আয়োজনের সব খরচ বহন এবং তহবিল সংগ্রহ করবে। তবে ক্রীড়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আইওসিই গ্রহণ করে। ক্রীড়া ছাড়াও অলিম্পিক গেমসে আরো বেশ কিছু রীতিনীতি প্রচলন রয়েছে। এই যেমন অলিম্পিক মশাল, পতাকা, উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান ইত্যাদি। প্রত্যেক বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে যথাক্রমে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক দেওয়া হয়।

তবে আধুনিক অলিম্পিক গেমস বলতে সপ্তদশ শতাব্দির দিকে শুরু হওয়া আধুনিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকেই বোঝানো হয়ে থাকে। এই ধরনের প্রথম অনুষ্ঠান ছিল ইংল্যান্ডে শুরু হওয়া কোটসউল্ড গেমস বা কোটসউল্ড অলিম্পিক গেমস। ১৬১২ থেকে ১৬৪২ সালের মধ্যে এই কোটসউল্ড গেমসের প্রধান আয়োজক ছিলেন রবার্ট ডোভার। তিনি ছিলেন একজন ব্রিটিশ আইনজীবী। লন্ডনে অনুষ্ঠিত ২০১২ সালের অলিম্পিক গেমসের বিদায়ী অনুষ্ঠানে সপ্তদশ শতকের এই ঘটনাকে ইংরেজরা অলিম্পিকের সূচনা অভ্যূদয় হিসেবে ঘোষণা করে।

ফ্রান্সে ১৭৯৬ থেকে ১৭৯৮ সালের মধ্যে মধ্যে এল অম্পিয়েডে ডি লা রিপাবলিক গেমসও প্রাচীন অলিম্পিক গেমসের ঐতিহ্যর স্বাক্ষর বহন করে। প্রাচীন গ্রীক অলিম্পিকে অনুষ্ঠিত কিছু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এই অলিম্পিকেও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

১৮৯৬ সালেই প্রথম আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির তত্ত্বাবধানে অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হয় এথেন্সের প্যানাথেনেইক স্টেডিয়ামে। এই ক্রীড়াযজ্ঞে ৪৩টি প্রতিযোগিতায় ১৪টি দেশের প্রায় ২৪১ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছিলেন। গ্রীক সরকার ও সেদেশের মানুষ অলিম্পিক গেমস আয়োজন করে গর্বিত ছিল। কিছু ক্রীড়াবিদ এই গেমসকে চিরতরে এথেন্সে আয়োজনের পক্ষে মত দিলেও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি বিভিন্ন দেশে এই গেমসের আয়োজনকে ছড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। ১৮৯৬ সালে গ্রীস অলিম্পিকের পরবর্তী আসর বসে ফ্রান্সের প্যারিসে।