‘পদ্মাবতী’র আড়ালে অন্য দীপিকা

0
17

ঢাকা, ,১ ডিসেন্বার , (ডেইলি টাইমস ২৪):

প্রাণনাশের হুমকি, গলা-নাক কাটার হুমকি, তার মাঝেও শান্ত, ধীর-স্থির, ভয়শূন্য বিতর্কিত ছবি ‘পদ্মাবতী’র নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোন। কিছুদিন আগে মুম্বাইয়ের এক পাঁচতারকা হোটেলে পুলিশি নিরাপত্তার মাঝে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এই বলিউড সুন্দরী। ‘পদ্মাবতী’কে ঘিরে নানা কথার পাশাপাশি ধরা দেন অন্য দীপিকা। গ্ল্যামারের মোড়কের আড়ালে দীপিকা সাদামাটা, ঘরোয়া। আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতো এই বলিউড তারকা নিজের বাসার চার দেয়ালের মধ্যে সাধারণভাবে থাকতে ভালোবাসেন।

অবসর সময়ে কী করেন? দীপিকা বলেন, ‘বই সেভাবে পড়া হয় না। পড়ার মধ্যে শুধু চিত্রনাট্য পড়ি। আমি অন্যভাবে সময় কাটাই। খেলাধুলা করতে ভালো লাগে। ঘর গোছাতে ভালোবাসি। অবসর সময় ঘর সাফ সাফাই করি। রান্না করতে আমার বেশ ভালো লাগে।’

ভালো রাঁধুনি হিসেবে বলিউডে দীপিকার যথেষ্ট খ্যাতি আছে। অনেক বলিউড তারকা তাঁর রান্না করা খাবার খেয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। জনপ্রিয় নৃত্য নির্দেশক ও চিত্রপরিচালক ফারহা খান এক সাক্ষাৎকারে এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, দীপিকা খুব ভালো রান্না করেন। তাঁর হাতের রসম (দক্ষিণ ভারতীয় খাবার) আর প্রন কারি একবার যে খাবে, সে প্রেমে পড়ে যাবে। ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ ছবির শুটিংয়ের সময় দীপিকা মাঝেমধ্যেই নানা খাবার তৈরি করে সঙ্গে নিয়ে আসতেন। অভিনেতা সনু সুদের কণ্ঠেও দীপিকার রান্নার প্রশংসা ঝরে পড়ে।

অভিনয়শিল্পী দীপিকা থেকে ‘রানি পদ্মাবতী’ হয়ে ওঠার কৃতিত্ব কার বেশি? এ প্রসঙ্গে দীপিকা বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে একাধিক মানুষের ভাবনা আর পরিশ্রম জড়িয়ে আছে। আমি বিশ্বাস করি একটা চরিত্র জীবন্ত করে তুলতে সবার মিলিত প্রয়াস থাকে। একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর যদি ৫০ শতাংশ অবদান থাকে, তো বাকি ৫০ শতাংশ অবদান পর্দার পেছনের মানুষগুলোর। আমরা আমাদের অভিনয়, আবেগ, অভিব্যক্তি দিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছে যাই। কিন্তু সেই চরিত্রের মতো দেখতে বা হয়ে উঠতে আরও অনেকের ভূমিকা থাকে।’

দীপিকা বলেন, ‘রানি পদ্মাবতী তাঁর সৌন্দর্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। আর আমাকে সেই সৌন্দর্য এনে দেয় আমার প্রসাধন, পোশাক, অলংকার, কেশ, আর ক্যামেরা। তাই এ ক্ষেত্রে যাঁরা আমাকে এসব দিয়ে সাজিয়ে “পদ্মাবতী” করে তোলেন, তাঁদের ভূমিকা অনেকটাই। সঞ্জয় লীলা বানসালি তো আছেনই। তিনি এই চরিত্র নিয়ে অনেক ভাবনা-চিন্তা এবং গবেষণা করেছেন। আমাদের কাছে রানি পদ্মাবতীর কয়েকটা ছবি ছিল। তার ভিত্তিতে সঞ্জয় লীলা বানসালি আমাকে সেই চরিত্র অনুযায়ী সাজিয়ে তোলেন। সিনেমাতে সব সময় একজন অভিনেতা ও অভিনেত্রীকে প্রশংসা করা হয়। আমি মানছি একটা ছবির পেছনে আমাদের কৃতিত্ব থাকে, কিন্তু এই প্রশংসার অনেকটা দাবিদার পর্দার পেছনের সেই শিল্পীরা, যাঁদের ভাবনা, কঠোর পরিশ্রম ছাড়া আমি “পদ্মাবতী” হয়ে উঠতে পারতাম না।’

সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত ‘পদ্মাবতী’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল আজ ১ ডিসেম্বর। ছবিটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ‘পদ্মাবতী’র মুক্তি স্থগিত করা হয়েছে।