অর্থ ও বাণিজ্য

আর্থিক সেবায় যুক্ত হলো পৌনে দুই কোটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষ

ঢাকা, ২৭ ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস ২৪):

যারা কোনোদিনই ব্যাংকে যেতে পারতেন না, আর্থিক সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন–এমন হতদরিদ্র, কৃষক, পথশিশুসহ আর্থিক সেবা থেকে বঞ্চিত প্রায় দুই কোটি মানুষ এখন ব্যাংক সেবা পাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক খাতে এক কোটি ৭২ লাখ ১৫ হাজার ৩৯৩ জন বঞ্চিত মানুষ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় এসেছেন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় কৃষকসহ সমাজের ১৩ ধরনের বঞ্চিত ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কৃষক রয়েছেন ৯১ লাখ ৯১ হাজার ৭৮৮ জন। হতদরিদ্র মানুষ রয়েছেন ২২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ জন। প্রতিবন্ধী রয়েছেন এক লাখ ৬০ হাজার ১৭৬ জন, তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিক তিন লাখ ৬১ হাজার ৩৩৯ জন। এর বাইরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগী রয়েছেন ৪৪ লাখ ২২ হাজার ৭৭ জন।

এছাড়া, ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে দুস্থদের পুনর্বাসনের অনুদানের উপকারভোগী রয়েছেন এক হাজার ২৮৩ জন। ফুড ও লাইভলিহুড সিকিউরিটি প্রকল্পে রয়েছেন ৯৭ হাজার ৮০৯ জন। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা শ্রমিক রয়েছেন ৯ হাজার ৭৩৭ জন। মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন দুই লাখ এক হাজার ৬৪৯ জন।

এর বাইরে এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার হাজার ৬৭১ পথশিশুর ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এখন জমা রয়েছে ৪৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকাও বেশি অর্থ। ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৬১৭ জন স্কুল শিক্ষার্থী এখন ব্যাংক হিসাবধারী।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যারা কোনোদিনই ব্যাংকে আসার কথা চিন্তাও করতো না, নাগরিক হিসেবে যারা বঞ্চিত ছিলেন আর্থিক সেবা থেকে, তাদের ব্যাংকিং সেবায় নিয়ে আসা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ব্যাংক যেহেতু চলেই মানুষের টাকায়, সেহেতু ব্যাংকের উচিত মানুষকে বঞ্চিত না করা।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কর্মসূচিতে ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে কৃষকদের অন্তর্ভুক্তি। এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে খোলা বিশেষ হিসাবের ৫৩ শতাংশই কৃষকদের। এসব হিসাবে সঞ্চয়ের পরিমাণ ২৭০ কোটি ২৭ লাখ কোটি টাকা। এর বাইরে ২২ হাজার ৮১৬ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকার তহবিলের ৫৪ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সুবিধাবঞ্চিতদের অর্থনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে কৃষকের ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হতদরিদ্র, পথশিশুসহ আর্থিকসেবা বঞ্চিতদের ব্যাংকিং সেবায় নিয়ে আসা হয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সময়মতো সরকারের দেওয়া ভর্তুকি জমা ছাড়াও স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ১০ টাকায় খোলা কৃষকের হিসাবের মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে কৃষকের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠছে, যা সামগ্রিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ প্রক্রিয়াকে বেগবান করছে।

আর্থিক সেবা থেকে বঞ্চিত মানুষদের ব্যাংকিং সেবায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। তার প্রচেষ্টায় ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো মাত্র ১০ টাকায় কৃষকের হিসাব খুলতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে দেশের সুবিধাবঞ্চিতদের অর্থনীতির মূল ধারায় আনার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে অতিদরিদ্র উপকারভোগী, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির সুবিধাভোগী, কর্মজীবী পথশিশু-কিশোর ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীসহ অন্যদের জন্যও ১০ টাকার বিনিময়ে ব্যাংকগুলো হিসাব খোলার বিশেষ কার্যক্রম নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ বা কৃষি উপকরণ সহায়তার কার্ড নিয়ে যেকোনও সরকারি ব্যাংকে গিয়ে এ হিসাব খোলা যায়। কোনও ব্যাংক এসব হিসাবে ন্যূনতম স্থিতি রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ কিংবা কোনও ধরনের চার্জ নিতে পারবে না।

আরো সংবাদ...