ফিচার

একটু উষ্ণতার খোঁজে

ঢাকা, ০৮ জানুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

পৌষের বিদায় বেলায় সারাদেশে তীব্র আকারে জেঁকে বসেছে শীত। জানুয়ারি মাসে বেশি মাত্রার শীত থাকা স্বাভাবিক হলেও জনজীবনে পড়েছে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া। দিনের বেলা রাস্তায় মানুষের আনাগোনা দেখলেই বোঝা যায়, এই শীতে ঘরের চেয়ে বাইরে থাকাই শ্রেয়। শীতকালে ঘরের ভেতর ঠাণ্ডার পরিমাণ একটু বেশিই থাকে। তাই সাধারণ মানুষ খোঁজে রোদ অথবা আগুন জ্বালানোর জায়গা। ছিন্নমূল বা নিম্ন আয়ের মানুষদের শীতের কষ্ট একটু বেশিই। কারণ, তাদের রাতের বেলা কাটাতে হয় রাস্তার পাশে অথবা টিনের ঘরে। তাই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ।

তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে গত কয়েকদিন সারাদেশের তাপমাত্রা ক্রমশ কমছে। গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় সোমবার (৮ জানুয়ারি) সকালে । এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায়। এর আগে ১৯৬৮ সালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। রাজধানীর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ।

রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরও দু-একদিন এই শৈত্যপ্রবাহ থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর ।

এই মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহে কাবু হয়ে গেছেন নগরবাসী। দিনের বেলায় বিল্ডিং থেকে বের হয়ে রোদ পোহাতে দেখা যায় অনেককেই। রাজধানীর পল্টন, প্রেসক্লাব এবং সচিবালয় এলাকা ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র। রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাজের আলাপ সেরে নিতে দেখা গেছে অনেককে। জরুরি কাজে সচিবালয়ে এসে বাইরে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিলেন তমরুদ্দিন সরকার। রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে কেন জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘ভাই বিল্ডিংয়ের ভেতরে ঠাণ্ডা বেশি। বাইরে রোদে দাঁড়ালে একটু আরাম পাওয়া যায়।’

অন্যদিকে, জাতীয় প্রেসক্লাবের বাইরে রোদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা গেছে অনেক সাংবাদিককে। তারাও জানালেন একই কথা। প্রেসক্লাবে ভেতরের থেকে বাইরে মানুষের সংখ্যা বেশি। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউবা গাড়ি পার্কিং এলাকায় রাখা বাঁশের ওপর বসেই রোদ পোহাচ্ছেন। প্রায় একই চিত্র দেখা গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায়। ছায়াঘেরা জায়গায় কেউ নেই। সবাই রোদ পোহাচ্ছেন। এর ফাঁকে বন্ধুদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলাপটাও সেরে নিচ্ছেন। সবার পরনে শীতের কাপড় থাকলেও তাতে শীত মানছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, এবার শীতের দাপট বেশি। হলের ভেতরে আরও বেশি ঠাণ্ডা। শীতের তীব্রতায় ঘরে থাকা মুশকিল, তাই বাইরেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছি। এদিকে, শীত জেঁকে বসায় ব্যবসা বেড়ে গেছে চা দোকানিদের। টিএসসি এলাকার কয়েকজন চা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীতে চায়ের চাহিদা বেড়ে যায় সবসময়ই। তবে আজকে (সোমবার) শীত বেশি হওয়ায় চায়ের বিক্রি বেড়ে গেছে। টিএসসি এলাকার চা বিক্রেতা সুমন জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ১৫০-২০০ কাপ চা বিক্রি করেছেন তিনি।

শীতে কাঁপছে সারাদেশ। সৈয়দপুরে সোমবার (৮ জানুয়ারি) দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এরপরই রয়েছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা। সেখানকার তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর দিনাজপুরের তাপমাত্রা ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরও  দু-একদিন এই শৈত্যপ্রবাহ থাকবে বলে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে।

Related Articles

Close