সুস্থ জমজ সন্তানের জন্ম দিলেন ক্যান্সার আক্রান্ত মা

ঢাকা, ১০ জানুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

চার সন্তানের জননী যখন আট মাসের গর্ভবতী তখন ধরা পরে ক্যান্সার। সেই ক্যান্সার শরীরে নিয়েই সুস্থ সবল জমজ সন্তানের জন্ম দিলেন এক নারী।

৩৭ বছর বয়সী জেসিকা বোসমিলার গত নভেম্বর মাসে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা গেল তার চোখে অকুরলার মেলানোমা (Ocular Melanoma) দেখা দিয়েছে, যা জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ এক ধরণের ক্যান্সার টিউমার।

গর্ভধারণের ৩২ সপ্তাহে জেসিকা হুট করেই ঘোলা দৃষ্টিশক্তির সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন জেসিকা। তিনি বলেন, ‘কাজ থেকে গাড়ি চালিয়ে ঘরে ফেরার সময় এই সমস্যাটি দেখা দেয়। আমি ভেবেছিলাম, ক্লান্তির জন্য এমন হচ্ছে। সেদিনের পর থেকে গাড়ি চালাতে খুব অস্বস্তি হতো।’

চোখে ঘোলা দেখার পাঁচদিনের মাথায় ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছিলেন জেসিকা। তিনি সন্দেহ করেছিলেন, গর্ভজনিত কোন জটিলতার জন্যেই হয়তো এমন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পরে ডাক্তারের পরীক্ষা থেকে জানা যায়, ভয়ঙ্কর এই টিউমার বাসা বেঁধেছে জেসিকার ডান চোখের ভেতরে।

জেসিকা এবং তার স্বামী মার্ক দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেন দ্রুত অস্ত্রোপচারের যাতেগর্ভস্থ শিশুদের ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে। রেডিয়েশন থেরাপি বা শক থেরাপি বেশ ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠত মা ও শিশুর জন্য, তাই সেদিকে পা বাড়াননি তারা।

চোখের অপারেশন এবং সিজারিয়ান অপারেশনের মাঝে এক সপ্তাহের এই বিরতি রাখা হয়েছিল যেন জেসিকা পুর্বের অস্ত্রোপচার থেকে সেরে উঠতে পারেন এবং সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন।

পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পাবার তিন সপ্তাহের মাথায় অস্ত্রোপচারের সাহায্যে জেসিকার ডান চোখের আইবল সম্পুর্ণ সরিয়ে ফেলা হয়। অস্ত্রোপচারটি হয় নর্থ ক্যারোলিনের ডারহামের ডিউক হসপিটালে।

জমজ সন্তানদের প্লাসেন্টা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানরা ক্যান্সারের আশঙ্কামুক্ত। শিশুরা বিপদমুক্ত হলেও জেসিকা, তার স্বামী মার্ক এবং তার বড় দুই সন্তান অপেক্ষা করছিলেন সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষার ফলাফলের জন্য।

অপারেশন রুমে দুই সন্তানের সাথে জেসিকা ও মার্ক। ছবি: সংগৃহীত

জেসিকা ও মার্ক যুগলের বড় দুই সন্তান ৯ বছর বয়সী কনার এবং সাত বছর বয়সী ক্যালেব নতুন দুই সহোদরদের সাথে ভালোভাবেই মানিয়ে নিতে পেরেছে। পাশাপাশি তারা মায়ের যত্ন ও দেখভালও করছেন বলে জানান জেসিকা।

চোখের অস্ত্রোপচারের পরে চোখের চারপাশের টিস্যুতে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল প্রাথমিকভাবে। তবে আশার কথা হচ্ছে, আগামী এক মাসের মাঝে জেসিকার ডান চোখের কোটরে নকল চোখ প্রতিস্থাপন করা হবে।

এই ম্যালিগ্ন্যান্ট টিউমার চোখের মাঝের অংশে বেড়ে ওঠে বলে আয়নাতে দেখার সময় সহজে চোখে ধরা পড়ে না। দুর্লভ এই রোগে প্রতি বছর আমেরিকার ২৫০০ মানুষ আক্রান্ত হয়।

অনেক ক্ষেত্রেই এই ক্যান্সারের অস্তিত্ব বোঝা যায় না। যার ফলে অকুলার মেলানোমিয়া খুব সহজেই লিভার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তাই আক্রান্ত রোগীদের অর্ধেকই সাধারনত মারা যান।

সূত্র: Daily Mail