ফিচার

প্রাণঘাতী রোগের সাথে যুদ্ধ করে ৭৬তম জন্মদিনে পা রাখলেন স্টিফেন হকিং

ঢাকা, ১২ জানুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

প্রখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংয়ের জন্মদিন গেল সম্প্রতি। আর ৭৬তম জন্মদিন পালন করে তিনি আবারও নিজের শরীরে বাসা বাঁধা প্রাণঘাতী অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (এএলএস) রোগের বিরুদ্ধে নিজেকে জয়ী প্রমাণ করলেন। ২১ বছর বয়স থেকে তিনি এএলএস’র সাথে যুদ্ধ করে চলেছেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। কিন্তু হকিং নিজের চেয়ে বরং মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়েই বেশি চিন্তিত।

৮ জানুয়ারি নিজের জন্মদিনটা অন্যরকমভাবেই পালন করেছেন তিনি। তার ‘ফেভারিট প্লেসেজ’ সিরিজের নতুন একটি এপিসোড এসেছে। এই এপিসোডে শুক্র গ্রহের আবহাওয়া এবং পৃষ্ঠ নিয়ে আলোচনা হয়। হকিং সাবধান করে দেন, শিগগিরই পৃথিবীর অবস্থাও এমন হতে পারে, যদি জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো ভালো সমাধান না পাওয়া যায়।

হকিং মানবজাতির চিন্তায় বিভোর থাকলেও সাধারণ মানুষের চোখে তার এই দীর্ঘ জীবন অনেকটাই অবিশ্বাস্য এক রূপকথার মতো। এএলএস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, রোগটি ধরা পড়ার পর মাত্র অর্ধেক মানুষ তিন বছর বা তার বেশি সময় বাঁচেন। এর মাঝে ২০ শতাংশ বাঁচেন ৫ বছরের বেশি। আর ১০ বছরের বেশি বাঁচতে দেখা যায় মাত্র ১০ শতাংশ মানুষকে। স্টিফেন হকিং সেই রোগ নিয়েই বেঁচে আছেন ৫২ বছর!

গত অর্ধ শতক তার জন্য সহজ ছিল না মোটেই। তিনি নিজের বেশিরভাগ পেশী ব্যবহার করতে অক্ষম এখন। একটি মোটোরাইজড হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল তিনি। ১৯৮৫ সালে কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন এবং কম্পিউটার সিস্টেমের সাহায্যে কথা বলতে হয় তাকে।

এত কঠিন রোগ নিয়ে কীভাবে তিনি বেঁচে আছেন, তা ব্যাখ্যা করা সহজ নয়। ২০১২ সালে সায়েন্টিফিক আমেরিকান লিও ম্যাকক্লাস্কির সাথে এ ব্যাপারে কথা বলেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়ার এএলএস সেন্টারের মেডিক্যাল ডিরেক্টর এবং নিউরলজির একজন সহকারী অধ্যাপক। তিনি জানান, আসলেই স্টিফেন হকিংয়ের ব্যাপারটা বিরল।

এএলএস হলো একটি প্রগ্রেসিভ নিউরোডিজেনারেটিভ ডিজিজ। রোগটি ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের এবং সুষুম্নাকান্ডের স্নায়ুকোষ নষ্ট করে ফেলে। ফলে রোগী সময়ের সাথে মোটোর ফাংশন হারায়, কিন্তু কগনিটিভ ফাংশন বজায় থাকে। অর্থাৎ সে নড়াচড়া করতে পারে না কিন্তু সুস্থ মানুষের মতো চিন্তা করতে পারেন। বেশির ভাগ এএলএস রোগী রেসপিরেটরি ফেইলিওরের কারণে মারা যান, ডায়াফ্রাম মাসল কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে। অথবা খাবার গিলতে সাহায্য করা পেশী কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে পুষ্টিহীনতা ও পানিশূন্যতায় মারা যেতে পারেন।

ম্যাকক্লাস্কি নিজে স্টিফেন হকিংয়ের চিকিৎসা করেননি বটে। কিন্তু এএলএস, স্টিফেন্ হকিংয়ের শারীরিক অবস্থা ও তার শরীরে এই রোগের অবস্থার ব্যাপারে তিনি অবগত। তার ধারণা অনেক কম বয়সে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে হয়তো তার রোগটি এখনও মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। এর পাশাপাশি তিনি ধারণা করেন, সম্ভবত এ সময়ের সবচেয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানী হিসেবে স্টিফেন হকিংয়ের খুবই ভালো যত্ন নেওয়া হয় যা কিনা তার দীর্ঘায়ুর পেছনে মূল কারণ।

আরো সংবাদ...