সাক্ষাৎকার

দেশের ১৬ কোটি মানুষের পক্ষে দাঁড়াতে চাই

ঢাকা, ১৩ জানুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট করা আইনজীবীদের মধ্যে অন্যতম ড. ইউনুছ আলী আকন্দ। ঢাকা আইনজীবী সমিতির (বার) আজীবন সদস্য এই ব্যক্তি ১৯৭৯ সালে আইন পেশায় আসেন। পেশার শুরু থেকেই জনস্বার্থে একের পর এক মামলা করে চলেছেন। রায় নিজের পক্ষে আসুক বা না আসুক, মামলা খারিজ হয়েও গেলেও হাল ছাড়েন কোনোমতেই। জনস্বার্থে করা তার মামলাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে স্থানীয় এমপিরা থাকতে পারবেন না’। এই মামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বলেন।

জনস্বার্থে মামলা কেন করেন?

ইউনুছ আলী আকন্দ: আমি দেশের ১৬ কোটি মানুষের কথা চিন্তা করি। তাদের স্বার্থের কথা চিন্তা করেই এসব মামলা করি।

সবচেয়ে আলোচিত মামলা কোনটি আপনার?

ইউনুছ আলী আকন্দ: সবচেয়ে আলোচিত মামলা হলো ২০১৩ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজনৈতিক দলের প্রধানদের একসাথে বসে সংলাপ করার নির্দেশনা চেয়ে রিট করি। শুনানি শেষে, নির্বাচনের আগে সকল দলের প্রধানদের একসাথে সংলাপে বসতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় রিটের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়।

জনগণ উপকৃত হয়েছে এ রকম, কি মামলা করেছেন?

ইউনুছ আলী আকন্দ: দেখুন বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অধঃপতন হচ্ছে। কারণ রাজনৈতিক নেতারা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করায় সঠিক শিক্ষা পাচ্ছে না আমাদের ছেলে-মেয়েরা। সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি হচ্ছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। তারা একেকজন তিন-চারটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এমনকি তাদের নিজেদের লোক দিয়ে এ সকল প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতির পদে যেন কোনো স্থানীয় সাংসদ না থাকতে পারেন, এ রকম নির্দেশনা চেয়ে আমি রিট করেছিলাম। ভালো রায় পেয়েছি। আমার রিটের কারণে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করেছেন যে, কোনো সাংসদ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। এ মামলার পর থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা নির্বাচিত হচ্ছেন।

ভিকারুন্নিসা স্কুল ও রাশেদ খান মেনন নিয়ে কিছু বলতে চান?

ইউনুছ আলী আকন্দ: ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন তৎকালীন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী (বর্তমানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী) রাশেদ খান মেনন। তিনি ও তার লোকেরা এখানে দায়িত্ব নিয়ে অনেক অনিয়ম করেছেন, দুর্নীতি করেছেন। এগুলো নিয়ে আমি ১২টি মামলা করেছি, একটি মামলায় আমি জয় পেয়েছি। আমার মামলার কারণেই রাশেদ খান মেননকে এ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থেকে সরতে হয়েছে।

মেডিকেলে ভর্তি নিয়ে কোনো রিট করেছেন?

ইউনুছ আলী আকন্দ: আমি মেডিকেলে ভর্তির বিষয় নিয়ে হাইকোর্টে একটি মামলা করেছি। আদালত আমার রিট আবেদনের শুনানি করে রায় দিয়েছেন যে, এখন মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে ভর্তি করাতে হবে। আগে জিপিএর মাধ্যমে ভর্তি করানো হতো।

শুনেছি, মামলা করে আপনি মেডিকেলের কাছ থেকে জরিমানা পেয়েছেন?

ইউনুছ আলী আকন্দ: আমি বলব বাংলাদেশর সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। এখানে অনিয়ম-দুর্নীতি সব সময়ই লেগে থাকে। আমার মেয়ে জিপিএর ভিত্তিতে সরকারি মেডিকেলে চান্স পায়নি। আমি এ বিষয়ে উচ্চ আদালত একটি রিট করি। শুনানি শেষে আদালত আমার পক্ষে রায় ঘোষণা করেন। ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি করানোর নির্দেশ দেন আদালত। জিপিএর ভিত্তিতে ভর্তি করানোর কারণে আমার মেয়ে সরকারি মেডিকেলে ভর্তি হতে পারেনি। এ মামলার শুনানি শেষে আপিল বিভাগ মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে ১৪ লক্ষ টাকা আমাকে দিতে নির্দেশ দেন।

ভবিষ্যতে জনস্বার্থ নিয়ে আর কি করতে চান?

ইউনুছ আলী আকন্দ: ভবিষ্যতে আমি দেশের ১৬ কোটি মানুষের পক্ষে দাঁড়াতে চাই। আমি সকলকে নিয়েই কাজ করতে চাই। সে যে শ্রেণীর লোকই হোক না কেন।

আপনার জনস্বার্থমূলক এত কাজের পেছনে সবচেয়ে বেশি সহয়োগিতা করেছে কে?

ইউনুছ আলী আকন্দ: আমি বলব মিডিয়া। দেখুন একটি ভালো কাজের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সাংবাদিক, আইনজীবী, আদালত, বিচারক সবাই যদি সচেতন হয়ে কাজ করেন, তাহলে দেশের জনগণ উপকৃত হবেন। তাদের স্বার্থ উদ্ধার করতে পারবেন।

Related Articles

Close