রাজনীতি

৮০ ভাগ মানুষ বিএনপির পক্ষে : ফখরুল

ঢাকা, ১ জানুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে দেশের ৮০ ভাগ মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে সরকারকে জনপ্রিয়তা যাচাইয়েরও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ চ্যালেঞ্জ জানান।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হলে ৮০ ভাগ মানুষ বিএনপিকেই ভোট দেবে। সরকারকে বলব, আজকে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে দেখুন না, ৮০ ভাগ মানুষ এই বিএনপিকে ভোট দেবে।’

সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পদত্যাগ করুন, একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করুন। অতি শিগগিরই নির্বাচন দিন এবং জনগণের একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করুন।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা গেছে, অনেক অনেক ডিক্টেটর, অনেক অনেকে ফ্যাসিস্ট, তারা কিছুদিনের জন্য হয়ত অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে গেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের জন্য তারা পারেনি। তাদের পরিণতি হয়েছে, ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে তারা নিক্ষিপ্ত হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে দর্শন দিয়ে গেছেন, তিনি যে দল গঠন করেছেন, আজও সেই দল এ দেশের মানুষের বুকের মধ্যে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এখনো জীবনসায়াহ্নে এসে জিয়াউর রহমানের সেই পতাকাই তুলে নিয়েছেন।’

নেতাকর্মীদের হতাশ না হয়ে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই অচলায়তন ভেঙে ফেলতে হবে। আর আমরা কোনোমতেই এই গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চাই না। আসুন, আমরা সংগঠিত হই। কখনো হতাশ না হই। আগামী দিনে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে অবশ্যই আমরা বাধ্য করতে পারব- এই বিশ্বাস আমাদের আছে।’

আদালতে খালেদা জিয়াকে প্রতিদিন হাজির হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এ সময় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।

সরকার নির্যাতন-নিপীড়ন করছে
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘যেখানে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে সেখানেই জিয়াউর রহমান সফল হয়েছেন বলেই তারা শহীদ জিয়াউর রহমান, তার পরিবার এবং বিএনপিকে ভয় পায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘সেজন্য তারা আমাদের সভা-সমাবেশ করতে দেয় না। তারা ৯ বছর যাবত নিপীড়ন-নির্যাতন করে যাচ্ছে। আমরা বলতে চাই, যত নির্যাতন করুক না কেন, বিএনপির পেছনে এ দেশের জনগণ আছে। আগামী নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দিতে হবে।’

‘অনুমতিনির্ভর’ রাজনীতি বর্জনের ডাক মওদুদের
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘তারা (সরকার) আমাদেরকে সভা-সমাবেশ করার অনুমতি দেয় না। আমরা এই অনুমতিনির্ভর রাজনীতি বর্জন করি, এটা আমরা প্রতিহত করব। আমরা এই অনুমতির জন্য আর বসে থাকব না।’

তিনি বলেন, ‘যে বাঁধ তারা সৃষ্টি করেছেন, তারা মনে করেছে যে, এই বাঁধ চিরদিন থাকবে। আমাদেরকে ঘরের মধ্যে রেখে দেবে। আমি বলতে চাই, এই বাঁধ ভাঙবে, এই বাঁধ ভেঙে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে। আবার দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা হবে।’

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, শামসুজ্জামান দুদু, অধ্যাপক এ জে এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির ব্যারিস্টার আমীনুল হক, আহমেদ আজম খান, হাবিব উন নবী খান সোহেল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, নুরী আরা সাফা, হেলেন জেরিন খান, শফিউল বারী বাবু, ব্যারিস্টার বদরুদ্দেজা বাদল, রফিকুল ইসলাম রাসেলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরো সংবাদ...