মিয়ানমারে ফেরা নিয়ে রোহিঙ্গাশিবিরে উদ্বেগ

ঢাকা, ২১ জানুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে থাকা লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম।

রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্স অনলাইনের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, আগামী দুই বছরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একটি চলমান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিরিয়ে নেবে মিয়ামনার। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মিয়ানমারে প্রত্যাসাবিত হওয়ার পর নাগরিকত্ব, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে কিনা এবং সংখ্যালঘু হিসেবে রাষ্ট্রীয় তালিকায় স্থান পাবে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রোহিঙ্গারা।

রোববার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এলে কয়েক ডজন রোহিঙ্গা কাপড়ের ব্যানার প্রদর্শন করে মিয়ানমারে তাদের স্থানান্তর ব্যবস্থার বিরোধিতা করে। কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতা দাবি করেছেন, মিয়ানমারে ফিরে না গেলে তাদের কাছ থেকে খাবারের রেশন কার্ড নিয়ে নেওয়া হবে বলে বাংলাদেশি সেনাকর্মকর্তারা হুমকি দিয়েছেন।

গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের সীমান্তের কাছে মিয়ানমার তাদের এলাকায় দুটি কেন্দ্র ও একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে ফিরিয়ে নেওয়া রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে থাকার ব্যবস্থা করবে। এরপর তাদের পুনর্বাসিত করা হবে। আগামী দুই বছরে প্রতি সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে প্রতিদিন ৩০০ জন করে রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার। মঙ্গলবার থেকে এই চুক্তি বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং নাগরিকত্ব ও রাষ্ট্র স্বীকৃত সংখ্যালঘু তালিকায় রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি মিয়ানমার মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা দেশে ফিরতে চায় না। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় জ্বালিয়ে দেওয়া বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ পুনর্নির্মাণ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে রোহিঙ্গারা।

রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, গত বছর ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনবাহিনী নির্যাতন-নিপীড়ন শুরু করলে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে অভিহিত করে কিন্তু মিয়ানমার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

বয়ঃজ্যেষ্ঠ রোহিঙ্গারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে বাংলাদেশি সেনাকর্মকর্তারা তাদের ডেকে পাঠিয়ে অথবা তাদের সঙ্গে দেখা করে প্রত্যাবাসনের জন্য ক্যাম্পে থাকা পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করতে বলেছেন। আশ্রয়শিবিরে হাজার হাজার রোহিঙ্গার নেতৃত্ব দেওয়া ৭০ জন জ্যেষ্ঠ নেতার মধ্যে চারজন রয়টার্সকে বলেছেন, শনিবার গুংদুম ক্যাম্পে সেনাকর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন তারা।

মুসা নামে গুংদুম ক্যাম্পের এক রোহিঙ্গা নেতা বলেন, ‘যখন বললাম, আমরা তালিকা দিতে পারব না, কারণ লোকজন ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়, তখন তারা বললেন, তোমরা তোমাদের ডব্লিউপি কার্ড নিয়ে এসো।’ ডব্লিউপি কার্ড বলতে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের বিতরণ করা কার্ডক-কে বোঝানো হয়েছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র রাশেদুল হাসান বলেছেন, ফুড কার্ড নিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সেনাকর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবহিত নন।

প্রতিদিন সকালে ক্যাম্পে ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে রোহিঙ্গারা লাইনে দাঁড়িয়ে ফুড কার্ড দেখিয়ে খাবার সংগ্রহ করে থাকে। বাংলাদেশি সেনাকর্মকর্তারা এসব ত্রাণকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) বারবার বলেছে, রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার বিষয়টি হতে হবে স্বেচ্ছামূলক। এই সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ক্যারোলাইন গ্লুক শনিবার ই-মেইলে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার দিনক্ষণ নির্ধারণের আলোচনায় ইউএনএইচসিআর অংশগ্রহণ করেনি। তবে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার প্রস্তাব দিয়েছে তারা- এটি নিশ্চিত করতে যে, শরণার্থীদের কণ্ঠ শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘ফিরে যাওয়ার বিষয়টি শরণার্থীদের মাধ্যমে নির্ধারিত হতে হবে।’