১৫২ বছর পর বিরল এক রাত

ঢাকা , ০১ ফেব্রুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

৩১ জানুয়ারি, বুধবার এমন একটি রাত পার হলো যা মানব জীবনে একবারের বেশি দুবার দেখা সম্ভব নয়। যদি কালকের রাতটি দেখার ভাগ্য আপনার হয়ে থাকে, তাহলে জানবেন যে প্রকৃতির এক দুর্লভ ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইলেন। বিজ্ঞানিদের ভাষায় কাল রাতটি ছিলো ‘সুপার ব্লাড ব্লু মুন এক্লিপস’।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। কেবল চন্দ্রগ্রহণই নয়, কাল একই সাথে দেখা গেছে সুপারমুন ও ব্লু মুন। অর্থাৎ, কালকের রাতে একই সাথে চাঁদের ভিন্ন ভিন্ন তিন অবস্থার সাক্ষী হয়েছি আমরা। শেষবার এই ঘটনা দেখা গিয়েছিল প্রায় ১৫২ বছর আগে, ১৮৬৬ সালের ৩১ মার্চ। এ ছাড়াও ১৯৮২ সালে একবার দেখা গিয়েছিল, কিন্তু তা আংশিক।

কাল বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪ টা ৫১ মিনিট থেকে শুরু হয় চন্দ্রগ্রহণ, চলে রাত ১০ টা ৮ মিনিট পর্যন্ত। জোর্তিবিদরা বলছেন, গ্রহণ শেষে পৃথিবীর ছায়া সরে যাওয়ার পর চাঁদের উজ্জ্বলতা হবে দেখার মতন। নিজের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতার চাইতে অন্তত ১৪-৩০% বেশি উজ্জ্বল দেখা যাবে আজকের চাঁদ। চন্দ্রগ্রহণের সময় যখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদকে গ্রাস করবে, তখন চাঁদে দেখা যাবে রক্তিম আভা, ফলে কালকের পূর্ণিমাকে ‘ব্লাড মুন’ নামেও অভিহিত করা হচ্ছে।

একই মাসে যখন দুটি পূর্ণিমা দেখা যায়, সেটাকে বলে হয় ব্লু মুন। অন্যদিকে চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচাইতে কাছে চলে আছে, তখন তাকে অভিহিত করা হয় সুপার মুন নামে। আর নিজের কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবী যখন চলে আসে চাঁদ ও সূর্যের মাঝে এবং একই সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন চাঁদ ঢাকা পড়ে যায় পৃথিবীর ছায়ায়- এই অবস্থাকে বলা হয় চন্দ্রগ্রহণ। চাঁদের এই গ্রহণ আংশিক বা পূর্ণগ্রাস হতে পারে। এই তিনটি বিশেষ মহাজাগতিক ঘটনাই একত্রে ঘটতে চলেছে আজকের রাতে।

নাসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, পূর্ব রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড থেকে এই দৃশ্য দেখা যায় ৩১ জানুয়ারি চন্দ্র উদয়ের সময়। আমেরিকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে দেখা যায় ভোরে চাঁদ ডুবে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে।

তথ্যসূত্র: দি গারডিয়ান, স্পেস.কম, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস