ফিচার

অনুভবে প্রাণের বইমেলা

ঢাকা ,০৯ ফেব্রুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

বই আপনার প্রকৃত বন্ধু। এই বন্ধুর সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর সুযোগ আসে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। প্রতিবছর ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারিজুড়ে থাকে এ মেলার আয়োজন। এক বিকেলে বইয়ের গন্ধ আর স্পর্শ নিতে গেলাম বইমেলায়। কথা হলো ব্রেইল প্রকাশনা স্পর্শের সঙ্গে। কথা হলো আরও কিছু প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে। অনুভব করলাম মেলার প্রাণের স্পন্দন।

নাজিয়া জাবিনের উদ্যোগে ব্রেইল প্রকাশনা স্পর্শের স্টল রয়েছে বইমেলায়। দৃষ্টিজয়ী শাহিনুল হক এবং তাসলিমা সুলতানা পালা করে স্টলে বসেন। এ ছাড়া সব সময় বসেন রিপা ও তাবাসুম। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা এখানে এসে বই পড়তে পারেন। মেলা শেষে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের বই দেওয়া হবে। যাঁরা বই নিতে চান, তাঁদের এ জন্য অবশ্যই নাম নিবন্ধন করতে হবে।

জানা গেল, স্পর্শ স্টলে ব্রেইল পদ্ধতিতে ১৪টি বই পড়ার সুযোগ পাবেন আমাদের মতো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা। এর মধ্যে কয়েকটি হলো (১) আমি এবং আমরা ক’জন (১ম ও ২য় খণ্ড) মুহাম্মদ জাফর ইকবাল (২) সুফিয়া কামাল (মালেকা বেগম) (৪) কলঙ্কভাগী (শাহরিয়ার হোসেন) ও অন্যান্য।

আরও বেশ কিছু বই প্রকাশ করেছে স্পর্শ।

উদ্যোক্তাসহ অন্যরা জানালেন, দৃষ্টিজয়ী মানুষ যখন এখানে এসে বই পড়েন, তখন তাঁদের মধ্যে অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে।

বইমেলা এখনো খুব বেশি জমেনি। ভিড় রয়েছে। তবে কেনাকাটা খুব বেশি বাড়েনি। শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের স্টলের বিক্রেতা মো. আক্কাস জানালেন, গড়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০টি বই বিক্রি হচ্ছে তাঁদের। তবে প্রচুর পাঠক আসছেন। দেখছেন। পছন্দ করে যাচ্ছেন। হয়তো পরে একসঙ্গে কিনবেন।

ঢুঁ দিলাম বাংলা একাডেমির স্টলে। একাডেমির ভেতরে ভিড় কম। স্টলের কর্মী জাহিদ হোসেন, আহম্মেদ পাওয়াল ও বিপুল চৌধুরী জানালেন, প্রতিদিন গড়ে তাঁদের ২০ থেকে ২৫টা বই বিক্রি হচ্ছে। রম্যপত্রিকা ‘উদ্ভট’ ও ‘উন্মাদ’-এর স্টল ঘুরে জানা গেল প্রায়ই একই তথ্য। গড়ে প্রতিদিন তাঁদের ২০ থেকে ২৫ কপি বই বিক্রি হচ্ছে। দুই স্টলেই বেশ ভিড়। ‘উদ্ভট’-এর সম্পাদক নিয়ন রহমান জানালেন, বাংলাদেশের প্রথম রম্য ম্যাগাজিনে তাঁরা রম্য কবিতা ও গল্প, সায়েন্স ফিকশন নিয়ে কাজ করছেন। দৃষ্টিজয়ী একজনের সাক্ষাৎকার নিতে দেখে বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন তাঁরা।

এক রঙা এক ঘুড়ি প্রকাশনীর নীল সাধু জানালেন, তাঁরা আগামীতে ব্রেইল পদ্ধতিতে বই প্রকাশ করার চেষ্টা করবেন। তাঁরা দৃষ্টিজয়ী মানুষের জন্য কাজ করতে চান। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে সবার পাশে থাকতে চান।

কথা বলে, বইয়ের গন্ধ নিয়ে ফেরার পথে বাড়তি পাওয়া হলো গরম-গরম পিঠা।

বাংলা একাডেমি চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একুশে বইমেলা। প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলছে মেলা। ছুটির দিনে শুক্র ও শনিবার মেলা শুরু হয় বেলা ১১টায়। সকালবেলায় চলে শিশু প্রহর। তাই শীতের বিকেলে বা ছুটির দিন সকালে ঘুরে আসতে পারেন বইমেলায়। কেবল বই তো নয়, আড্ডা ও বন্ধুত্বের মিলনমেলা এই বইমেলা।

লেখক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাংবাদিক

Related Articles

Close