সাক্ষাৎকার

সবার আগে বিজ্ঞাপন, তারপর শিল্প : রাজীব দত্ত

ঢাকা ,০৯ ফেব্রুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

তরুণ প্রচ্ছদশিল্পীদের মধ্যে রাজীব দত্ত স্বকীয়তায় উজ্জ্বল এক নাম। তরুণদের কাছে রাজীবের প্রচ্ছদ আলোচিত হচ্ছে, গ্রহণযোগ্য হচ্ছে। ফলে দিন দিন রাজীবের নাম জনপ্রিয়তার কাতারে ঠায় করে নিচ্ছে। ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রামে জন্মানো রাজীব পড়াশোনা করেছেন চিত্রকলায়। প্রচ্ছদশিল্পী হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও, রাজীব দত্ত মূলত একজন কবি। ২০১৫ সালে বের হয়েছে তার প্রথম কবিতার বই ‘সাবানের বন’। সম্প্রতি প্রচ্ছদশিল্প এবং সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা হয় এ শিল্পীর।

কয়েক বছর ধরে প্রচ্ছদশিল্পে আপনার নাম বেশ গুঞ্জন সৃষ্টি করেছে। আপনার কাজ নিয়ে অনেকে প্রশংসা করছেন। সে অর্থে আপনি এখন প্রচ্ছদশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী।

রাজীব দত্ত : গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছি! আমার তেমনটা মনে হচ্ছে না অবশ্য। প্রচ্ছদ করতেছি তো মাত্র কয়েক বছর। বলার মতোন তেমন কিছু করতে পারলাম, মনে হচ্ছে না। এটা বিনয় না। এটুকুরে ভালো বললে ভালো কাজ সম্পর্কে সন্দেহ আসবে।

আপনার প্রচ্ছদগুলো আলাদা ধরনের। অনেকে বলছেন ধ্রুব এষের পর আপনি ধারাবাহিকভাবে ভালো প্রচ্ছদ করছেন…

রাজীব দত্ত : এটাও ঠিক কথা না। কই ধ্রুব এষ আর কই আমি! ধ্রুব এষের পর সবচে গুরুত্বপূর্ণ প্রচ্ছদশিল্পী সব্যসাচী হাজরা। উনার নিজস্ব একটা ধরন আছে কাজের, যা অনেকেরই নাই। আর ধ্রুব এষ যেইভাবে প্রচ্ছদ করাটারে কঠিন করে তুলেছিলেন, কঠিন এই অর্থে, এরপর যারাই প্রচ্ছদ করতে এসেছেন, সবার উপরই উনার কমবেশি প্রভাব আছে, নানানভাবেই। একমাত্র ব্যতিক্রম সব্যসাচী হাজরা। আমার নিজের কাজেই উনাদের প্রভাব আছে অনেক।

কখন মনস্থির করলেন প্রচ্ছদশিল্পী হবেন?

রাজীব দত্ত : ওইরকম সচেতনভাবে না। ভার্সিটিতে ভর্তি হবার পর নিজেদের কাগজে নিজেরা প্রচ্ছদ আঁকতে গিয়ে প্রথম কাজ করি। এইভাবেই।

প্রচ্ছদ করার ক্ষেত্রে কী বিশেষ কোনো বইকে গুরুত্ব দেন?

রাজীব দত্ত : নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের বইকে গুরুত্ব দিই এমন না। মূলত যেটাতে ফ্রিডম পাই বেশি ঐটাই গুরুত্ব পায় বেশি।

চিত্রকলায় পড়ার ইচ্ছে কী প্রচ্ছদ আঁকার ইচ্ছে থেকেই?

রাজীব দত্ত : প্রচ্ছদ করার জন্য না। শিল্পী-টিল্পী হবো এইরকম কোনো বাসনাও ছিল না। সায়েন্সে ছিলাম। পড়তে হতো। না পড়ার জন্যই চারুকলায় ভর্তি হই। মনে করছিলাম, ওইখানে বোধহয় শুধু আকাঁআঁকি করলেই হয়; পড়াশোনা করা লাগে না।

চারুকলায় পড়াশোনা করেও শুধুই বইয়ের প্রচ্ছদ নিয়ে কাজ করলেনঅন্য কোনো মাধ্যমে কাজ করার ইচ্ছে করেনি কখনো?

রাজীব দত্ত : চারুকলায় পড়াশোনা করেও শুধুই বইয়ের প্রচ্ছদ নিয়ে কাজ করি এমন না। আমি ছবিও আঁকি। মানে অন্য মাধ্যমেও কাজ করি। এসব আমার প্রচ্ছদ করারও আগে থেকে ঘটতেছে।

চাকরি করতে গেলে কি প্রচ্ছদশিল্পীর স্বাধীনতা খর্ব হয়?

রাজীব দত্ত : চাকরি করতে গেলে তো সময় দিতে হয়। তো কেউ ‍যদি অনেক প্রচ্ছদ করতে চান, তাহলে তার সময়ে টান পড়বে। এটাই সমস্যা। মানে স্বাধীনভাবে কাভার করতে চাইলে। আর চাকরি তো চাকরিই। মোটাদাগে বললে, আপনি যেহেতু আরেকজনের বইয়ের মলাট আঁকতেছেন, আপনি আসলে ফ্রি না। আপনাকে অবশ্যই তার পছন্দকে তোয়াজ করতে হবে। তার বইয়ের মলাট, তার ভালো লাগলে তবেই ছাপা হবে। অন্য দেশে কেমন জানি না। আমাদের দেশে এই রকমই নিয়ম। শুধু লেখক না, অনেক সময় প্রকাশকেরও পছন্দ হইতে হয়।

বইয়ের প্রচ্ছদ তৈরিতে কতটুকু স্বাধীনতা পান?

রাজীব দত্ত : এই প্রশ্নটার উত্তর উপরের উত্তরে চলে আসছে মনে হয়। তারপরও বলি, ঘনিষ্ঠ কেউ কেউ স্বাধীনতা দেন। এটা আমার ক্ষেত্রে। তবে শুনেছি ধ্রুবদা বা সব্যদা অনেক স্বাধীনতা পান। স্বাধীনতা মানে লেখক-প্রকাশকের পছন্দ অনুযায়ী বারবার এডিট করাটা মিন করছি।

লেখকের কাছ থেকে নিশ্চয় প্রচ্ছদ কেমন হবে সে ধরনের পরামর্শ থাকে। আপনি কি সেটা গ্রহণ করেন নাকি নিজের মতো স্বাধীনভাবে কাজ করেন?

রাজীব দত্ত : নেয়ার চেষ্টা করি না। অনেকে রং-টংও সাজেস্ট করেন। কম্পোজিশন পর্যন্তও বলে দেন। শুনি না। তবে তাদের পছন্দ মাথায় রাখার চেষ্টা করি।

প্রতিটি বই কি পাণ্ডুলিপি পড়ে প্রচ্ছদ করা সম্ভব হয়?

রাজীব দত্ত : সম্ভব না তো। ধরেন ৫০০ পৃষ্ঠার একটা বই। আমার পড়তে লাগল এক সপ্তাহ। কাভার করতে গেল আরও কিছুদিন। তাইলে কেমনে সম্ভব! এভাবে হলে বছরে ১০/১২টার বেশি প্রচ্ছদ করা আর্টিস্টের পক্ষে সম্ভব না। কবিতার বই হলে এ ক্ষেত্রে সুবিধা। কয়েকটা কবিতা পড়ে বইয়ের ধরন বোঝা সম্ভব।

এখন সবকিছুই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। আবার হাতে আঁকাটাও ইন্টারেস্টিং। আপনি কোনটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন?

রাজীব দত্ত : হাতে আঁকলেও ছাপা তো হবে মেশিনেই। তাই, হাতে করলেও ওইটাকে স্ক্যান বা ছবি তুলে কম্পিউটারে ঢুকাইতে হবে। তারপর বাকিটা। হাতে আঁকার একটা আলাদা স্বাদ আছে। এটা ভালোই। কিন্তু এডিট করতে হলে তখন? বারবার হাতে আঁকা কি সম্ভব? বেটার দুইটার কম্বিনেশন। তবে খালি সফ্টওয়্যারেও ভালো প্রচ্ছদ প্রচুর হচ্ছে।

বর্তমান প্রচ্ছদশিল্পের সংকটগুলো কী কী বলে মনে হয়?

রাজীব দত্ত : সমস্যা তো অনেক। সবচে বড় সমস্যা পেশাদারিত্বের অভাব। আমাদের এইখানে প্রকাশনা জিনিসটাই ভালোমতোন দাঁড়ায় নাই। যারা এই ব্যবসায় আছেন, তাদের বেশিরভাগ অন্য ব্যবসার সাইড ব্যবসা হিসেবে এইটা করেন। তাই ওইভাবেই দেখেন। লেখক-শিল্পীও। যিনি প্রচ্ছদ আঁকেন, তিনি অন্য কাজকামের ফাঁকে এটা করেন। না করে উপায় নাই। যে টাকা দিবে ওই টাকায় এটাকেই পুরাপুরি পেশা হিসেবে নেয়া অসম্ভব। আর ৯০ ভাগ বই বের হয় ফেব্রুয়ারিতে, বাকি টাইমে আর্টিস্ট কীভাবে খাবেন? দেখা যাবে, খাবেন বলায় অনেকে নাখোশ হবেন। অনেকের কাছে বই লেখালেখি, ছবি আঁকা ইত্যাদির সাথে টাকার সম্পর্কটা সরাসরি মানতে নারাজ। এসব পবিত্র কোনো কাজ যেন। পবিত্রতাতেও আপত্তি নাই। আসলে ব্রাহ্মণরেও তো পূজা করে খাইতে হয়, না? প্রকাশকরাও এমন ভান নিয়ে থাকেন, যেন সাহিত্য বিকাশের মহান দায়িত্ব উনার হাতে। আর শিল্পী যেন খালি আর্ট করতেছেন আর সৌন্দর্য সাধনা করতেছেন। ব্যাপারগুলা পারস্পরিক। একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটার ইম্প্রুভমেন্ট সম্ভব না। আর আর্টের একটা ক্রমবিকাশ তো আছেই। লেখালেখির যেমন। একটা চেঞ্জ আছে। এক মাধ্যমের লোকজন আরেক মাধ্যমকে বুঝতে চান না। এ মিডিয়ামের চেঞ্জটা না বোঝার কারণে একটা গ্যাপ তৈরি হয়। ধরেন, একটা প্রচ্ছদ করলাম। এখনকার আর্টের ধরন অনুযায়ী। লেখার মেজাজ ধরে। কিন্তু লেখকের পছন্দ হইলো না। দেখা যাচ্ছে, লেখকের লেখা কনটেম্পরারি হইলেও লেখকের আর্ট রুচি কনটেম্পরারি না। বিপরীতটাও হইতে পারে। আরেকটা যেটা, বইয়ের তুলনায় শিল্পী কম। তাই একজন ধ্রুব এষকে অসংখ্য কাভার করতে হয়। ভালো টাকা পেলে অনেকে এ পেশায় আসবেন। অনেক ভালো শিল্পী ছিলেন তো, এ পেশা ছেড়ে চলে গেছেন। বাধ্য হয়ে। এ রকম আরও অনেক কিছু। আপাতত এগুলা মনে পড়ল।

রাজীবের এমন আঁচড়ই তাকে স্বকীয়তায় উজ্জ্বল করেছে। এবারের বইমেলায় তার আঁকা কিছু প্রচ্ছদ। ছবি: সংগৃহীত

প্রচ্ছদ আঁকার পিছনে কোনো অনুপ্রেরণা কাজ করে কি?

রাজীব দত্ত : আমার আগে পরে-সমসাময়িক, দেশে-বিদেশে, জীবিত-মৃত, যারাই ভালো কাজ করেছেন, করতেছেন, সকলেই আমার অনুপ্রেরণা।

প্রচ্ছদশিল্পী হলেও কবিতা লিখেন জানি। আপনার প্রথম বই তো সাবানের বন। এ দুই মাধ্যমে আপনি কোনটিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

রাজীব দত্ত : লেখালেখি-আঁকাআঁকি সবই ভালো লাগে।  না হলে তো করতাম না।

কবিতার সঙ্গে চিত্রকলার সম্পর্ককে কীভাবে দেখেন?

রাজীব দত্ত : শুধু কবিতা আর ছবি না, সমাজে বিদ্যমান সব রকম ডিসিপ্লিনের মধ্যেই আন্তসর্ম্পক আছে। কি ধর্ম, কি বিজ্ঞান, কি আর্ট- সবকিছুর সাথেই সবকিছুর গোপন প্রেম আছে। সবগুলাই ঈশ্বর, পৃথিবী, মানুষ, নিজেকে এবং অপরকে বোঝার টুলস।

ব্যক্তিমানুষ রাষ্ট্র ও সমাজ কাঠামোর মধ্যে থাকেতাকে সবকিছু স্পর্শ করে-আপনার লেখায় বা আঁকায় কোনো রাজনৈতিক প্রভাব পড়ে কি?

রাজীব দত্ত : প্রভাব পড়ে তো। সবার উপরই পড়ে। যাদেরকে পাগল বলি, তাদের উপরও। যারা পাগল না, তাদের উপরও।

প্রচ্ছদশিল্পী হতে গিয়ে, ‘কবি পরিচয়টা কি আড়ালে পড়ে যায়?

রাজীব দত্ত : পড়ে যায় তো। আসলে আমারে কে কীভাবে দেখতে চায়, তার উপর ডিপেন্ড করে মূলত।

বাংলাদেশের প্রচ্ছদের ভাষাচিত্রের প্রধান প্রবণতাগুলো কী?

রাজীব দত্ত : বিদেশের প্রচ্ছদগুলা ফটোগ্রাফনির্ভর বেশি বেশি। অনেক কনসেপচুয়াল। আর আমাদের প্রচ্ছদ মোটাদাগে ফটোগ্রাফবর্জিত। একদম বর্জিত বলা ভুল হবে। ধ্রুব এষের অনেক বইয়ের প্রচ্ছদে ফটো ব্যবহৃত হয়। তবে অন্যভাবে। তাও নির্দিষ্ট টাইপের কিছু বইয়ে। মোটাদাগে প্রচ্ছদে ফটোগ্রাফ এখনো এখানে ঐভাবে স্বীকৃত না। মনে করা হয়, হাতে করা প্রচ্ছদে যেন বেশি গুরুত্ব। যেমন ধরুন, কবিতার বইয়ের কাভারে ফটোগ্রাফ তো রীতিমতো অসম্ভব। তারপরও দুয়েকটা উদাহরণ আছে। যেমন আবুল হাসান সমগ্র, ধ্রুব এষের করা। ফটোগ্রাফের এ রকম মেধাবী ইউজ কবিতার বইয়ে আর আছে কি না এখানে মনে আসতেছে না। তবে আমাদের এখানে প্রচ্ছদের একটা নিজস্ব স্বভাব আছে। এটা ভালোও, খারাপও। খারাপ এ অর্থে, মনোটোনাস একটা প্রবণতা।  খালি বিউটি আর বিউটি। সুন্দর সুন্দর কালার। গতানুগতিক কম্পোজিশন। এ রকম। আগলিনেসের যে বিউটি-এটা নিতে পারার ক্ষমতা এখনো তৈরি হয় নাই। ব্রাত্য রাইসু, সাখাওয়াৎ টিপুদের বইয়ের প্রচ্ছদে এই ট্র্যাডিশনাল বিউটি নাই। এটা ভালো। মোস্তফা জামান, রনি আহম্মেদের প্রচ্ছদেও এটা পাবেন না। এ রকম আরো কেউ কেউ আছেন। কিন্তু খুব ক্ষীণ এটা।

প্রচ্ছদ শিল্পীর ভাষা লেখকের ভাষাকে অতিক্রম করতে পারে কি?

রাজীব দত্ত : প্রচ্ছদের জন্য তো আর কেউ বই কিনে না। কিনে বইয়ের লেখার জন্য। প্রচ্ছদ বইয়ের একটা অলংকার মাত্র। এটুকুই। অতিক্রম করার প্রশ্ন আসে না। তবে অনেকে অনেক সময় বলে, কাভার ভালো লাগছে। বই ভালো লাগে নাই। এটা জাস্ট পছন্দ-অপছন্দ। বই ছাড়া কোনো  প্রচ্ছদের অস্তিত্ব নাই।

প্রচ্ছদ কি পণ্যমূল্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে?

রাজীব দত্ত : ডিপেন্ড করে। খরচ নির্ভর করে কালারের উপর মূলত। ধরেন চার কালারের কাভারের এক রকম খরচ, দুই কালারের এক রকম। আবার দুইটা চার কালারের কাভারের মধ্যে কোনটার পেপার কী রকম, ছাপা কেমন তার উপর দাম নির্ভর করে। আবার ধরেন, শাওন আকন্দের একটা বইয়ে সবগুলো কাভারেই একটা করে ছোট ছোট হাতপাখা সেট করা। ডিজাইনের অংশ হিসেবে। তো, দাম তো বাড়বেই। এ রকম আরও কিছু বই আছে। এবাদুর রহমানের ‘গুলমোহর রিপাবলিক’-এ কোনো ব্যাক কাভার নাই। যেদিক থেকেই উল্টান সোজা। তার উপর নামটা সুতা দিয়ে সেলাই করা। বুঝেন এইবার।

প্রচ্ছদ কি আপনি বিজ্ঞাপন হিসেবে দেখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, নাকি শিল্প?

রাজীব দত্ত : সবার আগে বিজ্ঞাপন, তারপর শিল্প। সবারই উদ্দেশ্য থাকে পাঠককে এট্রাক্ট করার। তবে শিল্পের যে এমন উদ্দেশ্য থাকে না, এমনও না।

পাঠকের তো আসলে এত সময় থাকে না বই নেড়েচেড়ে তারপরে কেনার। সে ক্ষেত্রে অনেকেই হয়তো প্রচ্ছদ দেখে আকৃষ্ট হয়ে বই কিনেন…

রাজীব দত্ত : এটা পাঠকের ধরনের উপর নির্ভর করে। তবে একটা বই কিনবেন টাকা খরচ করে, নেড়েচেড়ে দেখবেন না, এমন হয় না সচরাচর। আমরা তো আলু-বেগুনও দেখেটেখে কিনি।

অলঙ্করণ এবং প্রচ্ছদের মধ্যে পার্থক্য মূলত কী?

রাজীব দত্ত : একটা বইয়ের ভিতরের জিনিস, একটা বাইরের।

কোনটা গুরুত্বপূর্ণ?

রাজীব দত্ত : দুইটাই গুরুত্বপূর্ণ। দুইটা দুরকম।

বিষয় নির্বাচন করে আঁকেন, নাকি আঁকতে আঁকতে বিষয় এসে যায়?

রাজীব দত্ত : দুইটাই হয়।

কবিতা লেখার বা ছবি আঁকার পেছনে কি কোনো উদ্দেশ্য অথবা সামাজিক দায়বদ্ধতা কাজ করে?

রাজীব দত্ত : এজ অ্যা আর্টিস্ট, আমি কোনো দায়বদ্ধতা মাথায় নিয়ে ঘুরি না। তবে সমাজে যারাই থাকে, মানুষ হিসেবে, তাদের সকলকেই ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় একরকম দায়বদ্ধতার ভিতর দিয়ে যাইতে হয়।

প্রচ্ছদশিল্পীদের নিয়ে একটি অভিযোগে আছে-তারা সময়মতো কাজ বুঝিয়ে দেন নাকমিটমেন্টের জায়গাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

রাজীব দত্ত : আর সবার কথা জানি না। তবে আমি ট্রাই করি। এটা আমার চেয়ে আমি যাদের সাথে ডিল করি, তারা ভালো বলতে পারবেন। তবে এখানে আইডিয়া আসাও একটা বিষয়। ধরেন আমি চাচ্ছি টাইমলি দিয়ে দিতে, কিন্তু যা-ই করি পছন্দ হচ্ছে না। তখন উপায় থাকে না।  অনেক ক্ষেত্রে অনেক সময় হাতে থাকার পরও ভালো প্রচ্ছদ করতে পারি না। আবার দেখা যায় কয়েক ঘণ্টাতেই ভালো কিছু হয়ে যায়। হওয়ার উপর নির্ভর করে সবকিছু। তবে কোনোরকম কিছু একটা করে দিতে চাইলে টাইম সমস্যা না।

আরো সংবাদ...