আইন ও আদালত

খালেদা জিয়াকে স্যাঁতসেঁতে ঘরে রাখা হয়েছে: ফখরুল

ঢাকা , ১১ ফেব্রুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এখন পর্যন্ত কোনো ডিভিশন দেওয়া হয়নি। তাঁকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে সম্পূর্ণ একাকী রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের জ্যেষ্ঠ ও কেন্দ্রীয় নেতারা এক জরুরি বৈঠক বসেন। রাত ৮টার দিকে বৈঠকস্থল থেকে বেরিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজকে পাঁচজন সিনিয়র আইনজীবী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। শুনে বিস্মিত হবেন, তাঁকে সম্পূর্ণ সলিটারি কনফারমেন্টে রাখা হয়েছে। কারাগারের যে ঘর-বাড়িগুলোতে কেউ বাস করে না, স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে, সেই কারাগারে তাকে সম্পূর্ণ একা একজন প্রিজনার হিসেবে রাখা হয়েছে। সারা জাতি শুনলে ব্যথিত হবে যে, তাঁকে কোনো ডিভিশন এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ৭৩ বছরের একজন বয়স্ক মানুষ, তাঁর যে সার্বক্ষণিক পরিচারিকা যেটা জেল কোডের মধ্যে রয়েছে, সেই পরিচারিকাকেও তাঁর সঙ্গে থাকতে দেওয়া হয়নি। এই বিষয়গুলো সম্পূর্ণ অমানবিক। তিনি বলেন, জেল কোডে খুব পরিষ্কার করে বলা আছে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা সাবেক বিরোধী দলের নেত্রী তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ডিভিশন পাবেন। এর জন্য কোনো অনুমতির দরকার নেই, আদালতের দরকার নেই।

বিএনপির মহাসচিব অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দিয়ে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। তিনি বলেন, অন্যথায় তাঁর কিছু হলে এর দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে।

শনিবারের বৈঠকে আলোচনা হয় যে, দল পরিচালনা ও নেতাদের ঐক্য নিয়েও নানা মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সরকারের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে সবাইকে একতাবদ্ধ থেকে একসুরে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে রোববার বিকেলে ২০-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে বিএনপি।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত সভা হয়। বৈঠকে চেয়ারপারসনের সম্মানে সভাপতির আসনটি খালি রাখা হয়।

বৈঠকে চলাকালে মোবাইল ফোনে লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য শোনানো হয়। সাড়ে ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত সভা হয়। রাত ৮টার দিকে বৈঠকস্থল থেকে বেরিয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। তিনি (তারেক রহমান) বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে বিভিন্ন নেতারা বক্তব্য রাখেন। দল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। সভায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দলকে অনুপ্রাণিত করবে।

খালেদার আসন খালি রেখে বৈঠকে নেতারা
খালেদা জিয়ার অবর্তমানে দলের চার স্তরের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে এই সভাটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। সভায় সভাপতির আসনটি খালি রাখা হয়। এর এক পাশে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অপর পাশে স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বসেন। সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে শাহজাহান ওমর, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত ‍উল্লাহ, মো. শাহজাহান, মীর নাসির, খন্দকার মাহবুব হোসেন, রুহুল আলম চৌধুরী, মাহমুদুল হাসান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, গিয়াস কাদের চৌধুরী ও শওকত মাহমুদ।

চেয়ারপারসনের ‍উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে সাবিহউদ্দিন আহমেদ, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আ ন হ আখতার হোসেইন, জয়নুল আবদিন ফারুক, কামরুল ইসলাম, এস এ কাইয়ুম, সুজাউদ্দিন, আবদুল রশিদ, শাহিদা রফিক, গোলাম আকবর খন্দকার, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, এনামুল হক চৌধুরী, সুকোমল বড়ুয়া, শাহজাহান মিঞা, বিজন কান্তি সরকার, তৈমুর আলম খন্দকার, আবদুস সালাম, মোহাম্মদ শাহজাদা মিয়া, আমিনুল হক। মামুন আহমেদ, আবদুল হালিম ডোনার, আবদুল হাই শিকদার।

যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, হারুনুর রশীদ, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী বৈঠকে ছিলেন।

আরো সংবাদ...