বিনোদন

কাজী হায়াৎ বললেন, এটাকে কি ভিক্ষা বলবে?

ঢাকা , ১২ ফেব্রুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ। হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এই চলচ্চিত্র পরিচালক-প্রযোজক উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুদান পেয়েছেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করলে ৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পরিচালক-অভিনেতাকে ১০ লাখ টাকার অনুদান দেন।

কাজী হায়াৎ-এর মতো একজন পরিচালককে কেন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুদান নিতে হবে? এমন প্রশ্ন অনেকের মনে। এসব নিয়ে কথা হয় ১২ ফেব্রুয়ারি বিকালে কথা হয় জনপ্রিয় এ নির্মাতার সঙ্গে।

প্রশ্নটি করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এটা ডিজার্ভ করি। ধরেন—আমার এক হাজার কোটি টাকা আছে। ঢাকা শহরে ১৪টি বাড়ি রয়েছে। তারপরও আমার মনে হয় এখন থেকে আমার সকল চিকিৎসার ভার বহন করা উচিত সরকারের। যদিও বহু আগে থেকেই করা উচিত ছিল। আমি তো অন্য সবার মতো না! আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। তিনটি আন্তজার্তিক পুরস্কার পেয়েছি। এসব কথা যারা বলে তারা তো নির্বোধ!’

জনপ্রিয় এ নির্মাতা মনে করেন, বর্তমানে তার শরীরিক যে অবস্থা তাতে তাকে সহযোগিতা করার জন্য কমপক্ষে দশটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা উচিত।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টা শুনেই আমার কাছে অদ্ভুত লেগেছে। কয়েকদিন আগে ডিপজল আমাকে ফোন করেছে, বলেছে যত টাকা লাগবে সব আমি দেবো। এটা কি ভিক্ষা, অনুদান না কি সাহায্য? তারপর নায়ক আলমগীর আমাকে বলেছেন, আপনি কোথায় যাচ্ছেন চিকিৎসার জন্য? আমি বললাম,আমেরিকা যাচ্ছি। সে বলল, টিকিট আমি কেটে দেবো। এখন তুমি এটাকে কি ভিক্ষা বলবে?’

১৯৯৩ সালে কাজী হায়াৎ-এর হার্টে প্রথম সমস্যা দেখা দেয়। তখন তিনি ভারতের বিরালা হার্ট সেন্টারে গিয়ে চিকিৎসা নেন। সে সময় হার্টে রিং লাগানোর ব্যবস্থা ছিল না। তখন হার্টে একটি ব্লক ধরা পড়েছিল। এরপর ২০০৪ সালে আবারও সমস্যা দেখ দেয়। তখন তার হার্টে ৪টি রিং বসানো হয় রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াকে। এরপর তিন মাস ভালো ছিলেন। ফের আবার অসুস্থ হয়ে যান। তারপর ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়। এরপর থেকেই বেশ ভালোই চলছিল তার। সম্প্রতি আবার অসুস্থতা অনুভব করতে শুরু করেন তিনি।

বর্তমানে শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার আবার ব্লক ধরা পড়েছে। এখন বিষয়টা বেশ জটিল। যেহেতু আগে একবার অপারেশন করা আছে।’

কাজী হায়াৎ ১৯৭৪ সালে পরিচালক মমতাজ আলীর সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৭৬-১৯৭৭ মৌসুমে বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবিরের সঙ্গে সীমানা পেরিয়ে ছবিতেও সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে ‘দি ফাদার’ ছবিটি পরিচালনার মধ্যে দিয়ে পূর্ণ-পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। কাজী হায়াৎ অর্ধশতাধিক চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। তার চলচ্চিত্র জীবনে আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও অন্যান্য চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ সর্বমোট ৭৩টি চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন। তিনি চারটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।

Related Articles

Close