ধর্ম ও জীবন

মানব জীবনে আমলের সফলত ও ব্যর্থতা যেখানে

ঢাকা , ১২ ফেব্রুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

কাজের মাধ্যমেই মানুষের মূল্যয়ন হয়। তা হোক দুনিয়াতে কিংবা পরকালে। যার দুনিয়ার কাজ ভালো হবে, সে দুনিয়া ও পরকাল উভয় স্থানেই সফল। আর দুনিয়ার কাজ ভালো হবে না; সে সাময়িকভাবে দুনিয়াতে সফলতা পেলেও তার আখেরাত হবে বিষাদময়। অনেক সময় দুনিয়াও শান্তি ও নিরাপত্তাহীন হয়ে যায়।

এ কারণেই প্রবাদ রয়েছে যে, যেমন কর্ম তেমন ফল। মানুষের কাজের ওপর নির্ভর করে তার ভবিষ্যৎ। ভালো কাজে রয়েছে সফলতা আর মন্দ কাজের ব্যর্থতা সুনিশ্চিত। হাদিসে পাকে রয়েছে এ রকম অসংখ্য ঘোষণা।

আখিরাতের কল্যাণ লাভে মানুষের ভাল কাজের বিকল্প নেই। যেহেতু মানুষকে তার কর্মের হিসাব দিতে হবে, সেহেতু আল্লাহ তাআলা নির্দেশিত পথে ও মতেই তাকে কাজ করতে হবে। তবেই অর্জিত হবে পরিপূর্ণ সফলতা। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসেই তা প্রমাণিত। প্রিয়নবি বলেন-

হজরত আবু মালিক হারেছ ইবনে আছেম আল-আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করে বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পবিত্রতা ঈমানের অর্ধাংশ। আর আলহামদুলিল্লাহ ওজন দণ্ডের পরিমাপক (পাল্লা) কে পরিপূর্ণ করে দেবে।

আর সুবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দেবে।

নামাজ হচ্ছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি।

সাদকা হচ্ছে (ঈমানের) নিদর্শন।

সবর বা ধৈর্য হচ্ছে জ্যোতির্ময়।

আর আল-কুরআন হবে তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে দলিল প্রমাণ স্বরূপ।

মূলত সব মানুষই প্রতি(দিন) ভোরে নিজেকে আমলের বিনিময় বিক্রি করে দেয়। তার আমল দ্বারা নিজেকে (আল্লাহর আজাব থেকে) মুক্ত করে অথবা তার নিজের ধ্বংস সাধন করে। (মুসলিম)

উল্লেখিত হাদিসে প্রিয়নবি পবিত্রতাকে ঈমানের অর্ধেক হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দৈহিক ও আত্মিক পবিত্রতার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। কারণ দৈহিত ও আত্মিক পবিত্রতা ছাড়া আত্মশুদ্ধি অর্জিত হবে না।

অতঃপর আল্লাহ শুকরিয়া আদায়স্বরূপ শ্রেষ্ঠ বাক্য আলহামদুলিল্লাহর ফজিলত বর্ণনা করে প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের শিক্ষা দিয়েছেন। যা তাকে অন্যায় ও শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে ফিরিয়ে রাখবে।

অতঃপর আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণায় জিকিরের ফজিলত বর্ণনা করেছেন। যা মানুষকে যাবতীয় অন্যায় কাজ থেকে হেফাজত করবে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়ক হবে।

একজন পরিপূর্ণ ঈমানদারের অন্যতম বৈশিষ্টই হলো নামাজ, সবর, সাদকা এবং কুরআনের অধ্যয়ন করে সে অনুযায়ী জীবন-যাপন করা। যা তাকে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণসহ আল্লাহর দিদারের চূড়ান্ত সফলতা দান করবে।

প্রিয়নবি হাদিসের শেষাংশে বলেন, দুনিয়ার প্রতিটি মানুষই নিজেকে আমলের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়। যার কাজ ভালো হয় সে সফল। আর যে হাদিসের পরিপন্থী কাজ করবে সে ক্ষতিগ্রস্ত।

উম্মাতে মুহাম্মাদির উচিত হাদিসে ঘোষিত আমলগুলো দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করে দুনিয়ার জীবনকে সাজানো এবং পরকালের চূড়ান্ত সফলতা লাভ করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনে সফলতা লাভের পাশাপাশি খারাপ কাজ ছেড়ে দিয়ে জীবনের ব্যর্থতা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Related Articles

Close