টেক

গোপনে যে বইগুলো মহাকাশে পাঠিয়েছেন ইলোন মাস্ক

ঢাকা , ১২ ফেব্রুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

গত সপ্তাহে বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী রকেটের সাথে চকচকে একটি গাড়িকে মহাশূন্যে পাঠিয়েছেন ধনকুবের ইলোন মাস্ক। এই গাড়িতে একটি ডিস্কের সাহায্যে তিনি গোপনে কিছু বইও পাঠিয়েছেন আর্ক মিশন ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে। আর্ক মিশন ফাউন্ডেশনের তৈরি এই ডিস্কটি ১৪ বিলিয়ন বছরেও নষ্ট হবে না বলে দাবি করা হয়েছে।৯ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার আর্ক মিশন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা নোভা স্পিভাক গণমাধ্যম ম্যাশেবলকে এই তথ্য জানান।

৬ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেস এক্স তাদের ফ্যালকন হেভি রকেট উৎক্ষেপণ করে। এই রকেটের ভেতর দেওয়া হয় টেসলার নামে একটি ইলেকট্রিক কার। এই তথ্যটা অনেকেই জানেন। কিন্তু সেই চকচকে লাল রোডস্টার গাড়িটিতে করে মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছে আইজ্যাক আসিমভের ফাউন্ডেশন ট্রিলজির বইগুলোও।

এই তথ্যটা গোপন রেখেছিলেন ইলোন মাস্ক। রকেট উৎক্ষেপণ হয়ে যাবার পরই কেবল এই তথ্য সবাইকে জানানোর অনুমতি দেওয়া হয় নোভা স্পিভাককে।

রকেট উৎক্ষেপণের ছয় ঘণ্টা পর এই গাড়িটি মহাশূন্যে ছেড়ে দেওয়ার কথা। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই গাড়ি পৃথিবী থেকে ২৫০ মিলিয়ন মাইল দূর থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করবে এবং কোনো একসময়ে মঙ্গল গ্রহে আছড়ে পড়তে পারে বলে গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান ইলোন মাস্ক। এই গাড়িটিতেই দেওয়া আছে ৩৬০ টেরাবাইটের একটি কোয়ার্টজ ডিস্ক, যা ধারণ করছে আইজ্যাক আসিমভের ফাউন্ডেশন ট্রিলজি।

ডিস্কে করে মহাকাশে বই পাঠানো হয়েছে, এটা ছোট একটা ব্যাপার মনে হতে পারে। চমকটা হলো, মহাকাশযানের জানালা যে উপাদান দিয়ে তৈরি হয়, এই ডিস্কও সেই উপাদান দিয়েই তৈরি। এই ডিস্কের প্রস্তুতকারক আর্ক মিশন ফাউন্ডেশনের মতে, আগামী ১৪ বিলিয়ন বছরেও এই ডিস্ক নষ্ট হবে না।

কিন্তু শুধু একজন লেখকের কয়েকটি বই কেন পাঠানো হলো ৩৬০ টেরাবাইট ধারণক্ষমতার এই ডিস্কে? ‘আমরা পরীক্ষা করার জন্যই এটা করেছি,’ বলেন নোভা স্পিভাক। ‘যদি নিশ্চিত জানতাম এটা মহাকাশে যাবে, এতে আরও কিছু দিতাম।‘

কীভাবে ইলোন মাস্কের মহাকাশযানে এই ডিস্কের ঠাঁই হলো, সেটা আরেক কাহিনি। গত বছর ৩ ডিসেম্বর এক টুইটে ইলোন মাস্ককে নোভা স্পিভাক বলেন, তারা ৫ গ্রামেরও কম ওজনের একটি ডিস্কে আসিমভের ফাউন্ডেশন সিরিজ রেখেছেন, যা ১৪ বিলিয়ন বছরেও নষ্ট হবে না, মঙ্গল যাত্রায় মহাকাশযানে এর জায়গা হবে কি?

দ্রুতই তিনি উত্তর পেয়ে যান। ক্যালিফোর্নিয়ায় স্পেস এক্সের ভবনে ইলোন মাস্কের সাথে এক মিটিংয়ে ডাক পড়ে তার। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই ডিস্ক চলে যায় মহাকাশে।

Related Articles

Close