যে সাহসিনীর ততপরতায় বাঁচে ২৬১ জনের প্রাণ!

ঢাকা , ১২ ফেব্রুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভারতের মুম্বাইয়ের আকাশে এয়ার ইন্ডিয়া ও ভিস্তারা বিমানের ধাক্কা না লাগার খবর আগেই জানানো হয়েছে। কীভাবে মাত্র ১০০ ফুট দূরত্বের মধ্যে এসে পড়া প্লেন দুটি শেষ মুহূর্তে চরম বিপদ বাঁচায়। এবার জানানো হবে কীভাবে এয়ার ইন্ডিয়ার নারী কো-পাইলটের উপস্থিত বুদ্ধি সেদিন বাঁচিয়েছিল ২৬১ জনের প্রাণ।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুটি যাত্রীবাহী বিমানের এক চুলের জন্য ধাক্কা এড়ানোর ঘটনার তদন্ত চলছে। সেদিন ভিস্তারার পাইলটদের সঙ্গে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কিছু ভুল বোঝাবুঝি যে হয়েছিল, তা স্পষ্ট। সাসপেন্ড করা হয়েছে এয়ার ট্র্যাফিক কনট্রোলের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের। ভিস্তারার দিল্লি থেকে পুনেগামী UK 997 বিমানটি হঠাত্‍ করে যখন ২৯,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে ২৭,০০০ ফুট উচ্চতায় নেমে আসে তখন দুই বিমানের ককপিটের দায়িত্বেই ছিলেন দু-জন নারী কো-পাইলট। দুই বিমানেই পাইলটরা টয়লেট ব্রেক নিয়েছিলেন।

২৭,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে থাকা এয়ার ইন্ডিয়ার মুম্বাই থেকে ভোপালগামী এয়ারবাস AI631-এর কো-পাইলট ক্যাপ্টেন অনুপমা কোহলি হঠাত্‍ দেখেন সামনে থেকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে ভিস্তারার বিমান। আর মাত্র কয়েক মুহূর্ত, এখনই কিছু না করলে মুখোমুখি ধাক্কা লেগে আকাশেই টুকরো টুকরো হয়ে যাবে দুটি বিমানই। ককপিটে ততক্ষণে জ্বলে উঠেছে বিপদ সংকেত দেওয়া লাল আলো। আর সময় নষ্ট করেননি ২০ বছরের বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ক্যাপ্টেন অনুপমা। সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটিকে আরও ৬০০ ফুট ওপরে নিয়ে যান তিনি। মুহূর্তের জন্য এড়ানো যায় চরম বিপর্যয়।

ক্যাপ্টেন অনুপমা কোহলির এই বিপদে মাথা ঠাণ্ডা রাখার ক্ষমতার জন্য তাঁর বিশেষ ভাবে প্রশংসা করেছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ।

ভিস্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি। তবে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের নির্দেশেই যে ভিস্তারার বিমানটি ২০০০ ফুট নিচে নেমে আসে, সে বিষয়ে অনড় রয়েছে তারা।