সারাদেশ

বাঘের অবস্থান জানতে সুন্দরবনে শুরু হচ্ছে ‘ক্যামেরা ট্র্যাপিং’

ঢাকা , ১৩ ফেব্রুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

সুন্দরবনে আগামীকাল বুধবার থেকে বাঘের অবস্থা ও অবস্থান নির্ণয়ে মনিটরিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ‘ক্যামেরা ট্র্যাপিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে এ মনিটরিংয়ে বাঘের অবস্থা ও অবস্থানের পাশাপাশি সংখ্যাও জানা যাবে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে খাল সার্ভে অর্থাৎ খালের পাশে বাঘের পায়ের ছাপ এবং তাদের আবাসস্থল কেমন তাও নির্ণয় করা হবে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের (ওয়াইল্ড লাইফ ম্যানেজমেন্ট) বিভাগীয় কর্মকর্তা মদিনুল আহসান তথ্য জানান।

এ কর্মকর্তা জানান, এ মনিটরিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সুন্দরবনের বাঘের অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে ধারণা অর্জন। বাঘের সংখ্যা নির্ণয় এ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য নয়। তবে এ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই বাঘের সংখ্যাও জানা যাবে।

তিনি বলেন, বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে ইউএসআইডি’র অর্থায়নে ২৩৯টি ড্রিটে (পয়েন্টে) ৪৭৮টি ক্যামেরার মাধ্যমে জরিপ চালানো হবে।

বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের বাঘ বিচরণ করে এমন এলাকাগুলোতে ওই ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছে। ক্যামেরাগুলোর সামনে দিয়ে বাঘ হেঁটে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি উঠবে। বাঘ মনিটরিংয়ের কাজে ৫৬ জন কর্মী সুন্দরবনে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করবেন।

সুন্দরবনে ২০১৫ সালে সবশেষ প্রথম ক্যামেরা পদ্ধতির মাধ্যমে বাঘ গণনা করে বনবিভাগ। ওই গণনায় বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায় ১০৬টি। এরপর নতুন করে আর গণনা হয়নি।

বণ্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের (ওয়াইল্ড লাইফ ম্যানেজমেন্ট) বিভাগীয় কর্মকর্তা মদিনুল আহসান জানান, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে সবশেষ বাঘ জরিপের কাজ করা হয়। এবার পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনে ‘ক্যামেরা ট্র্যাপিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে বাঘের অবস্থান ও অবস্থা জানতে কাজ শুরু করা হচ্ছে। ডিসেম্বর নাগাদ এর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশ এই পদ্ধতিতে বাঘ গণনার কাজ করে থাকে। তবে অর্থনৈতিকভাবে এ পদ্ধতি খুব বেশি টেকসই নয়। এই পদ্ধতিতে বাঘ সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাবে, এর বেশি কিছু নয়।’

Related Articles

Close