সারাদেশ

আড়াই মাস পরও সাকির হত্যা মামলায় কোন আসামি গ্রেফতার হয়নি

ঢাকা , ১৩ ফেব্রুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

বরিশালের গৌরনদীর কলেজ ছাত্র সাকির হত্যার পর দীর্ঘ আড়াই মাস পার হয়েছে। কিন্তু কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অপরদিকে সাকির হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত এক আসামিকে গ্রেফতারের পর থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্লোজ করা হয়েছে গৌরনদী থানার ওসি মনিরুল ইসলামকে। মামলার আইও পরিবর্তন করা হয়েছে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে।

আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাদের গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে নিহতের স্বজনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে, এলাকায় চলছে চরম উত্তেজনা। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে  আসামিদের বাড়ী-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কয়েক দফা হামলা ও ভাংচুরসহ মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে নিহত কলেজ ছাত্র সাকিরের স্বজন, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

জানা গেছে, বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ সাকির হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া সত্যেও তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ।

সাকিরের মা আলেয়া বেগম ও বড় ভাই জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, গত ২১ নভেম্বর দুপুরে ঘটঁনার পর স্থানীয়রা সাকিরের উপর হামলাকারী ও হত্যা মামলার ৬ নং আসামি ফাহিমকে (১৮) ঘটনাস্থল থেকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। গৌরনদী থানার এসআই সামসুদ্দীন ফাহিমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।  কিন্তু রহস্যজনক কারণে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেন ওসি মনিরুল।

আসামি থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে ঘটনার সত্যতা মেলে। এ অভিযোগে গত ৬ ফেব্রুয়ারী গৌরনদী মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ নভেম্বর সকালে স্থানীয় বখাটে সোহেল গোমস্তা (২৮), ইলিয়াছ খান (২২), সুমন হাওলাদার (২৩) ও এমরান মির (২০), ফাহিমসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জন বখাটে যুবক কলেজ ক্যাম্পাসে এসে পালরদী মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তপন কুমার রায়কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। সাকির এর প্রতিবাদ জানালে বখাটেরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। ওইদিন দুপুরে পরিক্ষা শেষে বাড়ী যাবার উদ্দেশ্যে শাকির কলেজের গেটের সামনে বের হলে ওই বখাটেরা ক্রিকেটের ব্যাট ও লাঠিসোটা দিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে তার মাথায় রক্তাক্ত জখম হয়।

গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে বরিশাল শেরইবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ওইদিন গভীর রাতে সাকির মারা যায়। এ ঘটনায় সাকিরের মা আলেয়া বেগম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনকে আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু গত আড়াই মাসেও কোন আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে সাকির হত্যা মামলার বর্তমান আইও গৌরনদী মডেল থানার সাবেক ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ও বর্তমান ওসি মোঃ আফজাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আসামিদের গ্রেফতারের ব্যাপারে জোর তৎপরতা চলছে। আসামিরা পলাতক রয়েছে, তারা কেউই এলাকায় নেই বলে তিনি জানান।

আরো সংবাদ...