সাক্ষাৎকার

ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের চেয়ে তেলের মূল্য বেশি

ঢাকা , ১৩ ফেব্রুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

এই প্রজন্মের অভিনেতা বাপ্পি চৌধুরী। চলচ্চিত্রে কাজ দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করতে চান তিনি। তবে চলচ্চিত্র শিল্পে গ্রুপিং আর নানা জটিলতা তার মনোবল অনেক সময় ফিকে করে দেয় তাকে। তারপরও দমে যেতে চান না।  চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান হালহকিকত, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

কালই তো ভ্যালেন্টাইন ডে, প্ল্যান কী?

বাপ্পি চৌধুরী: শুটিং আছে। ‘ভোলা’ সিনেমার শুটিং চলছে গত তিন দিন ধরে। আজ যদি শুটিং শেষ না হয়, তবে কালও শুটিং করতে হবে। তবে কাল সকালে সিনেমা দেখার প্ল্যান রয়েছে। আর সন্ধ্যার পরে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে বের হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে। এ ছাড়া পছন্দের যে মানুষজন রয়েছেন, তাদের সঙ্গে রাতে আড্ডা দেওয়ার প্ল্যান রয়েছে, আপাতত এই। পরে কিছু কিছু বিষয় যোগও হতে পারে।

তবে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে ঘোরাঘুরির প্ল্যান কী?

বাপ্পি চৌধুরী: সে যদি আমাকে নক করে, তাহলে তাকে নিয়ে ঘোরাঘুরির প্ল্যান রয়েছে। তবে ‘সে’ কিন্তু শুধু একজন নয়, দুই-তিনজন (হা হা হা)। আপাতত এর বাইরে আর কোনো প্ল্যান নেই। তবে সব কিছুই ডিপেন্ড করছে আজকের শুটিংয়ের ওপর। এই আর কি!

বেশ কয়েক বছর হলো কাজ করছেন ইন্ডাস্ট্রিতে। যে লক্ষ্য কিংবা উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলেন, ঠিক সে পথেই আছেন?

বাপ্পি চৌধুরী: ঠিকঠাকমতো এগোতে চাই, কিন্তু সেটা তো পারছি না। কারণ তো অনেকগুলো। ইন্ডাস্ট্রিতে এখন সবচেয়ে বড় যে সমস্যা, সেটি হলো গ্রুপিং। কিন্তু আমি তো কোনো গ্রুপের সঙ্গে নেই, যার কারণে এগোতে কষ্ট হচ্ছে। ভালো কাজ করার লক্ষ্য তো সবারই থাকে। কিন্তু যখন গিয়ে দেখি অবস্থা এমন, তখন আর সে মনোবলটা থাকে না। ইন্ডাস্ট্রিতে এখন কাজের মূল্যের চেয়ে তেলের মূল্য বেশি। তবে আমি বিশ্বাস করি, কোনো না কোনো সময় কাজটাই মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। আমার প্রত্যেকটি সিনেমা রিলিজের সময় কোনো না কোনো ঝামেলায় পড়েছে! তারপরও চেষ্টা থাকে সব সময় আমার যে উদ্দেশ্য, সেটিকে কেন্দ্র করেই এগিয়ে যাওয়ার। তবে প্রধান সমস্যা যেটা হয়েছে, আমি আলাদা হয়ে কাজ করার কারণেই সমস্যাতে পড়ে গিয়েছি।

আচ্ছা, এখন যে অবস্থানে আছেন, সে জায়গাটা নিয়ে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?

বাপ্পি চৌধুরী: এত চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়েও আমি এখনো বেঁচে আছি। এটাই সবচেয়ে বড় কথা। এতগুলো হিট দিয়েছি। কিন্তু আমি সে পরিমাণ নাম অর্জন করতে পারি নাই। এটা একদিক থেকে ব্যাড লাক। কিন্তু আমি বলতে পারি, মানুষ বাপ্পি চৌধুরীকে চেনে। তবে আমার মধ্যে আমার কাজের জায়গা নিয়ে কোনো ধরনের স্যাটিসফেকশন (সন্তুষ্টি) নেই।

ভালো কাজের জন্য আপনাকে এখনো কতটা স্যাকরিফাইস কিংবা কাঠখড় পোড়াতে হয়?

বাপ্পি চৌধুরী: এটা তো ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই করতে হচ্ছে। কয়টা সমস্যার কথা বলব? তবে আমি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখি। লাইফে স্ট্রাগল না থাকলে সে জীবনটা আবার একটা সময় গিয়ে পানসে মনে হয়। এটা আমার ব্যক্তিগত মত। তবে আমি কঠিন সময়ের দেয়ালটাকে একটা সময় গিয়ে ভেঙে ফেলতে চাই। কিন্তু আরেকটি বিষয়ে কথা বলতে চাই, আমার মনে হয় বাংলাদেশে সিনেমার বুকিং সিস্টেমটাকে চেঞ্জ করা উচিত। কারণ একজন আর্টিস্টের ক্যারিয়ারের অনেক কিছুই এটার ওপর নির্ভর করে, যার কারণে তারা এককভাবে বিষয়টি নির্ধারণ করছে।

সিনেমার মান থেকে শুরু করে নানান বিষয় নিয়ে তো অভিযোগের অন্ত নেই। কিন্তু একটা বিষয় খেয়াল করলে দেখা যাচ্ছে, আপনারা যারা তরুণ নায়ক-নায়িকা রয়েছেন, তাদের মধ্যেই তো বিভক্তি রয়েছে?

বাপ্পি চৌধুরী: গ্রুপিংটাই আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আর এর সাফারার কম-বেশি সবাই। কিন্তু তারপরও অনেকেই দেখেও না দেখার ভাব করছে, যার কারণে আজ ইন্ডাস্ট্রির এ অবস্থা। এ নিয়ে নানান সময়ে বহু কথা হয়েছে। তারপর কোনো এক কারণে আর সামনে এগোয় না। যে যার মতো করেই চলছে। তাই আমিও বিষয়টি নিয়ে এখন আর অতটা কথা বলি না। চলছে, চলুক। যে যেভাবে ভালো থাকতে পারে, কারণ সবার আগে ভালো থাকাটা জরুরি।

আচ্ছা, আপনার কী মনে হয়, সময় কী টাকার চেয়ে বেশি মূল্যবান?

বাপ্পি চৌধুরী: দুটোই মূল্যবান। ধরো আজ যদি আমার অনেক টাকা থাকতো। তাহলে আমি নিজেই সিনেমাতে লগ্নি করতাম। সব ইন্ডাস্ট্রিতেই ভালো কাজের জন্য লবিংয়ের দরকার হয়। একেক জায়গায় একেক রকম। আমাদের এখানে লবিং করতে গেলে আমাকে ছোট হতে হবে। কিন্তু আমার সমস্যা হলো আমার ইগো প্রবলেমটা বেশি, যার কারণে আমি ওই ধরনের কাজ করতে পারি না। আমি একটা বিষয় বিশ্বাস করি, আমি যদি কাজ জানি, তাহলে মানুষ আমাকে ডাকবে। কাজ না জানলে যতই লবিং করা হোক, সে অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব না।

মনে করেন, এখন থেকে পৃথিবীর সমস্ত টাকা আপনার কাছে। বসে বসে সময় কাটানো এবং আরাম-আয়েশ করা ছাড়া কোন উদ্দেশ্যটি আপনাকে জীবনে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করেন?

বাপ্পি চৌধুরী: একটা সময় বাংলাদেশে ১৬০০ হল ছিল। আর এখন? আমার কাছে এত টাকা থাকলে, তখন আবার সেই আগের অবস্থানে প্রেক্ষাগৃহগুলোকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতাম। থিয়েটার বানাতাম। সবগুলো হতো ডিজিটাল। পুরো চিত্রটাই পাল্টে দিতাম। আমাদের এখানে তো সিনেমা নিয়ে কাজ করার অনেক জায়গা আছে। বিনিয়োগ করার জায়গার তো অভাব নেই। যাই হোক, যদি এমন সুযোগ কখনও পাই, আমি করে দেখাব।

অপু বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে আপনাকে ঘিরে তো নানা টাইপের গুঞ্জন শোনা যায়?

বাপ্পি চৌধুরী: বিষয়টা খুবই আমাকে পেইন দিচ্ছে। দিনকে দিন অসহ্য হয়ে যাচ্ছি। আর কত? একজন সহশিল্পীকে ঘিরে অন্যরা কীভাবে এমন ধরনের কথা বলে! যত সমস্যা আমাদের বাংলাদেশে। বাংলাদেশে কেউ চায়ই না, কেউ অন্য কাউকে ওভারকাম করুক। যারা এসব কথা বলে তাদের আসলে কোনো কাজ নেই। এ নিয়ে পারিবারিকভাবেও নানান ঝামেলায় আছি।

আরো সংবাদ...