পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক ঘোষণা নয়

0
22

ঢাকা , ২০ ফেব্রুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা না করার পক্ষে মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, এই ঘোষণা কঠিন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সাহায্য করবে না। বরং চাপ প্রয়োগ করে ইসলামাবাদকে তাদের নীতি পরিবর্তনে এটা ব্যর্থ হবে। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোভাবেই সাহায্য করবে না পাকিস্তান।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনের থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠান উড্রো উইলসন সেন্টারের এশিয়া প্রোগ্রামের একটি আলোচনায় তিন প্যানেললিস্টের সবার বক্তব্যে একই ধরনের মতামত উঠে আসে। আলোচনায় অংশ নেওয়া ওয়াশিংটনের আমেরিকান ইউনিভার্সির পাবলিক অ্যাফেয়ার্স স্কুলের সহকারী অধ্যাপক স্টেফেন ট্যানকেল বলেন, একটি দেশকে ‘সন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকের’ তকমা দেওয়া সমস্যা সমাধানের উপায় (অস্ত্রোপচারের যন্ত্র) নয়, এটা সত্যি সত্যি একটি বড় আঘাত (হ্যামার)। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা যেকোনো সুযোগের প্রায় সবটাই নষ্ট করে দিতে পারে বলে মত দেন তিনি।
পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র ঘোষণার চিন্তাভাবনা থেকে মার্কিন প্রশাসনকে সরে আসার আহ্বান জানান রেডিও মার্শালের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক দাউদ খাত্তাক। দাউদ বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন—এটা পাল্টা প্রতিরোধ তৈরি করবে। মার্কিন প্রশাসনের প্রতি তিনি বলেন, ‘আজই পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দিন। কিন্তু এরপর কী করবেন, যদি সেখানে কোনো পরিবর্তন না আসে? আপনারা কি আরও কঠিন পদক্ষেপ নেবেন?’
পাকিস্তানকে বাগে আনতে সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র ঘোষণা না করে ট্রাম্প প্রশাসনকে অন্য পথে হাঁটার পরামর্শ দেন ওয়াশিংটনের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের ফেলো ও পাকিস্তানের রাজনীতির পর্যবেক্ষক মাদিহা আফজাল। তিনি বলেন, একটি উপায়ে নয়, অন্য আরও পন্থায় এগোনো যেতে পারে। আফগানিস্তানে ইসলামাবাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে পাকিস্তানকে প্রভাবিত করার জন্য মার্কিন প্রশাসনকে চীনের সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
চলতি সপ্তাহে মিউনিখে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ইনটেলিজেন্স কমিটির ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের মহাপরিচালক ড্যান কোটস এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার বৈঠক হয়। বৈঠকে উভয়ের বক্তব্যে দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষত আফগানিস্তানে নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উঠে আসে।
দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ অবস্থা ও নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে কোটস বলেন, ‘পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যথাযথ পথেই হাঁটছেন। তালেবান ও সহযোগী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর চলমান অভিযান সম্ভবত এই গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে আরও বেশি পদক্ষেপের জন্য আমাদের অনুরোধকে আরও
সক্রিয় এবং প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here