আলোচিত সংবাদ

পাঁচ উপায়ে শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে হীনতার পরিচয় ভারতীয় গণমাধ্যমের

ঢাকা , ২৭ ফেব্রুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

বলিউডের প্রথম নারী সুপার স্টার শ্রীদেবীর মৃত্যুর ঘটানায় কেঁদে উঠেছে পুরো ভারত। কিন্তু শুধু তার অপ্রত্যাশিত মৃত্যু দেখেই নয় বরং ভারতীয় গণমাধ্যমের হীন মানসিকতা দেখেও লোকে দুঃখ পেয়েছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম শ্রীদেবীর মৃত্যুর খবর নিয়ে এর সবচেয়ে কম পারদর্শীতার পরিচয় দিয়েছে। এমনকি রেটিংয়ের জন্য টিভি চ্যানেলগুলো কতটা নীচে নামতে পারে তারও একটি নমুনা দেখা গিয়েছে এই ঘটনায়।

শ্রীদেবীর মৃত্যুর খবর প্রচার নিয়ে যে পাঁচ উপায়ে হীন মানসিকতার পরিচয় দিল ভারতীয় গণমাধ্যম…

১. টিভি চ্যানেলগুলো শ্রীদেবীর মৃত্যু ঘিরে বাস্তব কী তা জানার চেষ্টা করেনি!
শ্রীদেবী কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন এমন খবর শোনার পরই টিভির টক শোগুলোতে শ্রীদেবীর সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

শ্রীদেবী ফিগার ধরে রাখার জন্য কী ধরনের ওষুধ খেতেন এবং কয়বার প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন বা কী ধরনের খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতেন সেসব নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ায়। আর তা দেখেই অনেক টিভি বিশ্লেষকও সেসব নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। অথচ তারা তার অফিসিয়াল পোস্ট মর্টেম রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করেননি। যেখানে বলা হয়েছে ‘জ্ঞান হারানোর পর দুর্ঘটনাবশত বাথটাবের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর’।

এর মধ্য দিয়ে শুধু শ্রীদেবীর প্রতি অসম্মান প্রদর্শণই হয়নি। বাস্তব কী তা না জেনেই কারো মৃত্যু নিয়ে রিপোর্ট করা মিডিয়ার নীতি বিরুদ্ধও বটে।

২. শ্রীদেবীর মৃত্যুর দৃশ্যের নকল ভিডিও প্রচার!
কয়েকটি টিভি চ্যানেলে শ্রীদেবীর মৃত্যুর দৃশ্যের নকল ভিডিও তৈরি করে প্রচার করা হয়।

আজতক নামের একটি টিভি চ্যানেল তাদের রিপোর্টারকে শ্রীদেবীর নকল মৃত্যুর দৃশ্যপটে হাজির করে। সেখানে একটি বাথটাব স্থাপন করা হয়। যাতে লেখা ছিল, ‘মউত কি বাথটাব’।

সিএনএন নিউজ ১৮ নামের একটি চ্যানেলে বাথটাবে শ্রীদেবীর ভেসে থাকা মরদেহের নকল ভিডিও দেখানো হয়েছে। যাতে শ্রীদেবীর ছবি জুড়ে দেওয়া হয়েছে ফটোশপ করে।

আরেকটি চ্যানেলে শ্রীদেবীর ছবির পাশাপাশি মদের গ্লাসও দেখানো হয়েছে।

টিভি ৯ তেলেগু-তে বাথটাবে শ্রীদেবীর মরদেহের পাশে তার স্বামী বনি কাপুরের ছবিও জুড়ে দিয়েছে।

এবিপি নিউজ এমনকি শ্রীদেবীর শেষ ১৫ মিনিটের দৃশ্য প্রচারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল!

৩. শ্রীদেবীর স্বামী বনি কাপুরকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ নিয়েও অতিরঞ্জন
সাধারণত কেউ অপ্রত্যাশিতভাবে মারা গেলে পুলিশ প্রথমে মৃতের সবচেয়ে কাছের মানুষকেই জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে ২-৩ ঘন্টার বেশি করে না। কিন্তু বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমে বলা হয় বনি কাপুরকে ১৬-১৮ ঘন্টা থানায় রাখা হয়েছিল জিজ্ঞাসবাদের জন্য।

৪. মদপানের কারণেই শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়েছে কিনা তা নিয়ে মুক্ত আলোচনা
ফরেনসি রিপোর্টে শ্রীদেবীর দেহে অ্যালকোহলের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে বলার পর টিভি চ্যানেলগুলো শ্রীদেবী কীভাবে মদপান করতেন কোন মদ পান করতেন সেসব নিয়ে খোড়াখুড়ি শুরু করে। এক বিশ্লেষক তো বলেই ফেলেন এক গ্লাস মদ এবং একটি অবসাদরোধী ওষুধ খেয়েই হয়তো তার মৃত্যু হয়েছে। অথচ শ্রীদেবীর অবসাদরোধী ওষুধ খাওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। এরপর তারা শ্রীদেবী কেন হতাশ ছিলেন সেসব নিয়ে খোড়াখুড়ি শুরু করেন।

৫. অপ্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ
ভারতীয় গণমাধ্যমে শ্রীদেবীর মৃত্যুর খবর প্রচারের ধরন নিয়ে লেখা নিবন্ধে বারখা দত্ত বলেন, টিভি চ্যানেলের নিউজ অ্যাঙ্কররা নাকি আলোচনা করছিল, ‘শ্রীদেবীর মতো প্রশিক্ষত কোনো নৃত্যশিল্পী বাথটাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যেতে পারেন কিনা’ বা ‘ভারতীয় হওয়ার কারণেই কি এমন হয়েছে? কেননা ভারতীয়দের বেশিরভাগই শাওয়ার ব্যাবহার করে বা বালতি থেকে পানি নিয়ে গোসল করে। আর তাছাড়া ভারতীয়দের বাথটাব ব্যবহার করার সংস্কৃতিও নেই।’

সূত্র: দ্য ডন

আরো সংবাদ...