অত গুণ নাই, অভিনয়ও ভালো পারি না

ঢাকা , ০১ মার্চ, (ডেইলি টাইমস ২৪):

সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো হুট করেই মাহিয়া মাহির ক্যারিয়ারের কক্ষপথও বদলে গেছে। বিয়ের পর কিছুদিনের বিরতি। এখন আবার আগের অবস্থানে ফেরার চেষ্টায় আছেন এই নায়িকা। এ বিষয়ে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী তিনি। শুধু সময় ও ভাগ্যের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন, অপেক্ষা করছেন ভালো মানের কাজের। তারপর হয়তো শুরু হবে মাহির জীবনের নতুন অধ্যায়ের গল্প। আলাপকালে সম্প্রতি সেসব প্রসঙ্গেই কথা বলেছেন এই নায়িকা।

আপনার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে যে ধরনের সিনেমাগুলোতে অভিনয় করতে দেখা গেছে, অনেকদিন হলো, সে মানের কোনো কাজে আপনাকে দেখা যাচ্ছে না?

মাহি: এটা হচ্ছে কী, শুরুর দিকে সবকিছু যে রকম ছিল, এখন তো আর সে রকম নেই, এটা সত্যি। আবার আমি তো কাজে একটা গ্যাপও দিয়েছিলাম। তাই ওই জায়গাটাতে আবার আমাকে আসতে হলে কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু আমি যদি আবার কোনো কাজ না করি, তাহলে আবার ভালো কাজ আমার কাছে আসবে না। ভালো কাজ কখন আসবে, সেটাও তো বলা যায় না। আবার কাজে ইরেগুলার হয়ে গেলে তো সমস্যাও হবে। তাই ভালো কাজের অপেক্ষায় রয়েছি। নিজেকে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে মার্চ করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

যখন দেখলেন, আপনি আপনার অবস্থান ধরে রাখার দৌড়ে পিছিয়ে যাচ্ছেন, সে সময়গুলো ঠিক কেমন ছিল?

মাহি: আমার চিন্তা-ভাবনাটা একটু ভিন্ন। আমি কখনো ফুল প্রফেশনালি চিন্তা করি না। আমি সবসময় একটা বিষয় বিশ্বাস করি, আমার ভাগ্য অনেক ভালো। সেটা ফেবার করে একটু সময় নিয়ে। আর জীবনে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার আগে একটা বিরতি নিতে হবে। মানুষের লাইফে আপ অ্যান্ড ডাউন থাকে না। তাই আমি ভাবি, সব কিছুতেই আপ অ্যান্ড ডাউন থাকবে। কাজের জায়গায় সবসময় যে এক রকম থাকবে, তা-ও কিন্তু নয়। আমার কখনো এগুলো নিয়ে মন খারাপ হয় না। কারণ আমার বাজে সময়গুলোকে এনজয় করার চেষ্টা করি। নিশ্চয়ই আমার জীবনে ভালো সময় আসবে।

যখন মাহি ক্যারিয়ারের দুর্দান্ত সময় পার করছিলেন, তখন তো অনেকেই মাহির পাশে ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে অবস্থানগত দিক থেকে কিছুটা ভিন্ন। সেই মানুষগুলোকে এখনো মাহি যেকোনো বিষয়ে তার পাশে আগের মতো করেই পান?

মাহি: আজ থেকে পাঁচ বছর আগের আমার আশপাশে যারা ছিল, তারা কিন্তু এখন আর আমার পাশে নেই। যখন জাজে কাজ করতাম, তখন তাদের ঘিরেই আমার সবকিছু আবর্তিত হতো। তখন হয়তো সবসময় সুনামই শুনতাম। এখন যেমন হচ্ছে, মধ্যিখানে বিয়ে গেল, নানান ঝামেলা গেল। এরপর যখন ব্যাক করলাম, ‘ঢাকা অ্যাটাক’ যখন মুক্তি পেল, আমাকে যারা পছন্দ করেছে, সবাই অভিনয়ের জন্য অ্যাপ্রিসিয়েট করেছে। আবার বদনামও করেছে।

আবার আমি যখন বাজে বাজে সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হই, তখন এরাই আবার আমাকে প্রচুর বকা দেয়। আমি বুঝতে পারছি, আমি যে সিনেমাগুলোতে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছি, সেগুলো ভালো না। সবাই আমার কাছ থেকে ভালো কাজ চাচ্ছে, সেটাও আমি দিতে পারছি না। আমাকে ভালো কাজ করতে হবে। এটা আমি নিজেই ফিল করি। আমার খারাপ দিকগুলো আমি নিজেই ভালো বুঝি। আমি ইচ্ছা করলেই আবার আগের জায়গায় নিজেকে নিয়ে যেতে পারব। কিন্তু আমার চেষ্টাটা একটু বাড়াতে হবে। কারণ চেষ্টাটা একটু কম।

ঠিক কেন আপনার নিজেরই মনে হচ্ছে, আপনার চেষ্টাটা কম হচ্ছে?

মাহি: চেষ্টা কম বলতে কী, আমি আগেও চেষ্টা করতাম না। কিন্তু এখন চেষ্টা করতে হবে। আমি বরাবরই ভাগ্যে বিশ্বাস করি। আবার যখন আমার একটি ছবি হিট করবে, তখন আবার সব ঠিক হয়ে যাবে। সবকিছুর পরও আমার কেন জানি মনে হয়, আমার লাকটা আবারও ফেবার করবে। কবে করবে, এটা জানি না। আবার আগের মতো আমার সে জায়গাটিতে যাবো। এখন তো প্রতিযোগিতার জায়গাটা আগের থেকে আরও বেশি কঠিন হয়ে গেছে। আমাকে কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি চুজি হতে হবে। ফিটনেস সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। আগে এসব বিষয়ে যদিও আগে চিন্তা করতাম না।

আপনার কথায় বাস্তবতার ভীষণ ছাপ রয়েছে। আগেও কি এমনই ছিলেন নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনবোধও পাল্টেছে?

মাহি: না, আমি আগেও এমনই ছিলাম। আমি জানি, আমি ঠিক কেমন। নিজেকে খুব ভালো করে চিনি। আমি যদি বলি আমার সব ছবি হিট করেছে, আমি অনেক সুন্দর। এ ছাড়াও নিজের সম্পর্কে আরও বানিয়ে বানিয়ে কথা বললাম, এতে করে তো চাপাবাজি ছাড়া আর কিছুই হবে না। আমার মধ্যে অত গুণ নাই, অভিনয়ও ভালো পারি না। তবে আমার মধ্যে সব সময়ই চেষ্টা ছিল। তারপরও স্রষ্টা আমাকে অনেক ভালো জায়গায় নিয়ে আসছে। এ জন্য আমি তার প্রতি গ্রেটফুল। আমি চাপাবাজি করতে পারি না, এটা আমার দিক থেকে বড় একটা সমস্যা।

অনেকগুলো সিনেমায় কাজ করেছেন। কিন্তু কোনো একটি সিনেমার কথা বলুন কিংবা একটি চরিত্রের কথা বলুন, যার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন?

মাহি: হুম, অনেকগুলো সিনেমার মধ্যে একটা কাজ করেছিলাম। কিন্তু সে সিনেমাটি সুপার ফ্লপ হয়েছে। সেটা হলো ‘অগ্নি ২’। এ সিনেমাটির কাজ করার সময় আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছিলাম। ওই সিনেমার শুটিং চলাকালীন আমি আমার জীবনের পুরো রুটিনটাই বদলে ফেলেছিলাম। কিন্তু ওই ছবিটাতেই নাকি আমার অভিনয় অনেকেরই পছন্দ হয়নি।

আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ভয় কী?

মাহি: আমার কোনো একটি সিনেমা রিলিজ হবে, আর আমি যেকোনো একটি হলে গিয়ে দেখব। আমি ছাড়া সেখানে আর কোনো মানুষ নেই। এটা ভেবে আমার সবচেয়ে বেশি ভয় হয়। আমার হার্ট অ্যাটাক হবে, কারণ হলে আমি ছাড়া আর কেউ থাকবে না। এটা যে এখন বলছি, সেটা বলতেও কষ্ট হচ্ছে। তবে নিশ্চয়ই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকেও বদলে নিবো।

ব্যক্তিজীবনে মাহিকে যারা চিনেন, তারা জানেন, মাহির খামখেয়ালিপনার কথা। এর জন্য এনার্জিটা কোথা থেকে পান?

মাহি: আমি একেক সময় একেকটা প্রজেক্ট করি। যেমন ধরো, একবার মনে হলো, আমি লাইট বিক্রি করব। সেটা কয়েকদিন করলাম। পরে হঠাৎ করে একদিন মনে হলো এগুলো আমার কাজ না। কয়েকদিন পর পর এমন সব পাগলামি আমার মধ্যে ভর করে আবার চলেও যায়। বেশি দিন থাকে না। শিল্পী হতে গেলে একটু-আধটু পাগলামি তার জীবনে থাকবেই। পাগল ছাড়া কেউ শিল্পী হতে পারবে না। যারা পাগল, একমাত্র তারাই শিল্পী হতে পারবে।

কাজের বাইরে এবার আপনার সংসার জীবনের প্রসঙ্গে আসি। কেমন চলছে সে জীবন?

মাহি: আমি খুব বেশি ড্রামাবাজ, ফিল্মিক ও রোমান্টিক। আর অপুও আমাকে খুব বেশিই ভালোবাসে। তবে আছে না, স্বামী তার স্ত্রী লুকিয়ে দেখবে, খুনসুটি করবে। তেমনটিই করতে ওকে আমি কখনো দেখি নাই। আমি খুব আশা করি ও সিনেমার নায়কদের মতো করে লুকিয়ে আমায় দেখবে, রোমান্টিক কথা বলবে। ও তেমন না।

তবে এ জন্য আমি ওর সঙ্গে খুব ঝগড়া করি। কিন্তু ও ভীষণ ঠান্ডা মেজাজের একজন মানুষ। আমি বিয়ের আগে ভাবতাম, থাকে না স্কুলের সবচেয়ে বাজে ছাত্রটা হবে আমার হাজব্যান্ড। অনেক বেশি দুষ্টু থাকবে, চঞ্চল থাকবে। অপু হচ্ছে, আমি যদি ওর সঙ্গে সারাদিনও তর্ক করি, আমাকে শুধু একাই পকপক করে যেতে হবে। ও রিটার্ন একটা কথা যে বলবে, তেমনটিই এখন পর্যন্ত ঘটেনি। এ জন্য আমার মাঝেমধ্যেই মেজাজ খারাপ হয়।

আরেকটা বিষয়, শুটিংয়ের কারণে অনেক সময় টানা আপনাকে বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। এ জন্য আপনাদের মধ্যে কখনো কি বিয়ের পর মনোমালিন্য হয়নি?

মাহি: না, তেমন কোনো ধরনের বিষয় এখনো ঘটেনি। আমার কাছে মনে হয়, এটাই ভালো হয়েছে। আমি বেশির ভাগ সময় শুটিংয়ের জন্য বাড়ির বাইরে বাইরে থাকি। যদি এমন হতো আমরা অনেকদিন একসঙ্গে আছি, তাইলে তো মনে হয় আমাদের মধ্যে মারামারি লেগে যেত। আমার প্রতি অপুর ইন্টারেস্ট আরও কমে যেতো। যদি বলো চলো লং ড্রাইভে যাই, ও বলবে চলো লুডু খেলি। এখন টানা অনেকদিন শুটিং করি। এরপর দেখা হয়। আমি শুটিং শেষে ঢাকায় ফিরি, ও সিলেট থেকে ঢাকায় আসে। এরপর আমরা একসঙ্গে সিলেটে যাই। মানে অনেকটা স্বামী সৌদি আরবে ছিল, বাংলাদেশে আসছে।

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

মাহি: বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘অন্ধকার জগৎ’ সিনেমার শুটিং চলছে। গোয়েন্দা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমি। অপরাধীদের ধরতে একেক সময় একেক রূপ ধারণ করতে হয় আমাকে। এ ছাড়াও ‘প্রেমের বাঁধন’, ‘মনে রেখো’, ‘অবতার’, ‘আমার মা আমার বেহেস্ত’ ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি।