মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ৪০ দিনেও মলত্যাগ করেননি!

ঢাকা , ০১ মার্চ, (ডেইলি টাইমস ২৪):

মাদকের পুঁটুলি গিলে ফেলার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে ইংল্যান্ডের পুলিশ। তিনি মলত্যাগ করলে মলের মাঝে সেই মাদক পাওয়া যাবে-এই ধারণা করে বিশেষ এক টয়লেটের তাকে আটকে রাখা হয়। আটক হওয়ার পর ৪০ দিন ধরে সেই ব্যক্তি মল চেপে রেখেছেন বলে জানা গেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারির ১৭ তারিখে এক ব্যক্তির গাড়ি ধাওয়া করে ইংল্যান্ডের এসেক্স অঞ্চলের পুলিশ। গাড়ি থামানোর পর পুলিশ দেখে তিনি কিছু একটা গিলে ফেলছেন।

লামার চেম্বারস নামের ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি মুরগির মাংস খাচ্ছিলেন, কিন্তু পুলিশ ধারণা করে তিনি মাদকের পুঁটুলি গিলে ফেলেছেন। এই সন্দেহে তাকে আটক করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেই কক্ষে বিশেষ একটি টয়লেট আছে, যাতে মলত্যাগ করলে মলের ভেতরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়।

আটক করার পর থেকেই সেই ব্যক্তি ‘টয়লেট স্ট্রাইকে’ আছে এবং মলত্যাগ করতে অস্বীকার করছেন। এখন পর্যন্ত ৪০ দিন হয়ে গেছে, তবু একবারও মলত্যাগ করেননি তিনি।

তিনি খাবার কম খাচ্ছেন, যাতে মলত্যাগের ইচ্ছে না হয়। তবে তার আইনজীবী বলছেন, তিনি স্বেচ্ছায় মল আটকে রাখেননি।

আরেক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, তিনি মলত্যাগে সহায়তার জন্য ল্যাক্সেটিভ বা জোলাপ গ্রহণ করতে এবং এক্স-রে করতে অস্বীকার করেছেন।

এর আগে পুলিশি হেফাজতে ৩২ দিন পর্যন্ত এক ব্যক্তি মল আটকে রেখেছিল বলে রেকর্ড আছে। লামার চেম্বারস মৃত্যুর ঝুঁকিতে আছেন বলে দাবি করে তার আইনজীবী। তাকে কোনো গোপনীয়তা দেওয়া হচ্ছে না, সর্বক্ষণ তার সঙ্গে দুজন পুলিশ আছে। এতেও তার অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি করেন ওই আইনজীবী।

আসলেই কি মৃত্যুর ঝুঁকি আছে? 

লামার চেম্বারসের মৃত্যুর ঝুঁকি আছে কি না তা নিয়ে আইএফএল সায়েন্সের প্রতিবেদনে বেশ কিছু সম্ভাবনার কথা বলা হয়।

প্রথমত, সন্দেহভাজন খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করছেন, তাই অনাহারে মৃত্যুর কোনো সম্ভাবনা নেই।

পুলিশের সন্দেহ যদি সত্যি হয় এবং তিনি আসলেই মাদকের পুঁটুলি গিলে থাকেন, তাহলে মল চেপে রাখার কারণে একটা সময়ে তার পেটের ভেতরেই ওই পুঁটুলি ফেটে মাদক ছড়িয়ে পড়বে এবং তিনি ড্রাগ ওভারডোজে মারা যেতে পারেন। তাকে কোকেইন এবং হেরোইন সরবরাহের দায়ে আটক করা হয়। ফলে এসব মাদক তার শরীরে ছড়িয়ে পড়লে আসলেই মৃত্যুর ঝুঁকি আছে।

তিনি যদি মাদকের পুঁটুলি না গিলে থাকেন এবং আসলেই মুরগি খেয়ে থাকেন, তাহলেও ঝুঁকির কারণ আছে। এত বড় সময় মল চেপে রাখাটা ক্ষতির কারণ হতে পারে।

২০১৫ সালে এক তরুণী টয়লেটের প্রতি মানসিক ভীতি থেকে আট সপ্তাহ মল চেপে রেখেছিলেন। এতে তার বৃহদন্ত্র ফুলে-ফেঁপে বুকের ওপর চাপ দেন এবং তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।

পোস্টমর্টেমে দেখা যায়, চিকিৎসা গ্রহণে অস্বীকৃতি না জানালে হয়তো তাকে বাঁচানোর সম্ভাবনা ছিল।

লামার চেম্বারের পরিস্থিতি এখনো এতটা সঙ্গিন হয়নি। তবে বেশি সময় মল চেপে রাখার কারণে তার তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে এবং সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।