সাক্ষাৎকার

বাংলা জ্ঞানকাণ্ড সম্প্রসারিত করতেই অনুবাদ: পুশকিন

ঢাকা , ০৬ মার্চ , (ডেইলি টাইমস ২৪):

অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে আবেদীন পুশকিনের দুটি ধর্মগ্রন্থের অনুবাদ বই। ‘ইয়াজিদি ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থ’ এবং ‘আজটেক প্রার্থনা’ নামের বই দুটি প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ‘চৈতন্য’। বই দুটি ইতোমধ্যেই পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। বই দুটি নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন অনুবাদক আবেদীন পুশকিন।

এত বিষয় রেখে ইয়াজিদি ধর্মগ্রন্থের অনুবাদে আগ্রহী হলেন কেন?

আবেদীন পুশকিন: ইয়াজিদিরা পৃথিবীর অন্যতম নির্যাতিত জনগোষ্ঠী। কিছুদিন আগে আইসিসের কারণে তারা আবার মিডিয়ার সামনে আসে। ইয়াজিদিদের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে খোঁজ করতে গিয়েই সন্ধান পাই তাদের দুটি ধর্মগ্রন্থের। ইয়াজিদিদের দুটি ধর্মগ্রন্থের নাম-মিশেফা রেশ এবং কিতাব আল জিলওয়া। ইয়াজিদিদের দুটি ধর্মগ্রন্থ অনুবাদের সঙ্গে থাকছে ইয়াজিদিদের প্রাত্যহিক ব্যবহৃত দুটি প্রার্থনা। বইতে ভূমিকার বদলে থাকছে একটি সংক্ষিপ্ত পূর্বপাঠ।

‘ইয়াজিদি ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থ’ বইটির প্রচ্ছদ। ছবি: প্রিয়.কম

এমন আর কোনো ধর্মগ্রন্থ অনুবাদের পরিকল্পনা করেছেন কি?

আবেদীন পুশকিন: মূলত একটি বৃহৎ অনুবাদ প্রজেক্টের অংশ হিসেবে গ্রন্থ দুটি বাজারে এসেছে। ক্রমে এই তালিকায় যুক্ত হবে সেসব ধর্মগ্রন্থ, যার অনুবাদ বাংলায় পাওয়া যায় না। এই অনুবাদ প্রজেক্টে ধর্মগ্রন্থ ছাড়াও যুক্ত হবে দর্শন, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক টেক্সট।

‘আজটেক প্রার্থনা’ সম্পর্কে পাঠকদের কিছু বলুন।

আবেদীন পুশকিন: আজটেকরা ম্যাক্সিকোর আদিবাসী জাতি। আজটেকদের আসলে একক কোনো ধর্মগ্রন্থ নেই। তাদের দেবতাদের আলাদা আলাদা প্রার্থনা ছিল। এ রকম ২০টি প্রার্থনার একটি অনুবাদ সংকলনই হচ্ছে আজটেক প্রার্থনা গ্রন্থ। এই গ্রন্থেও ভূমিকার বদলে আছে একটি সংক্ষিপ্ত প্রবেশিকা। প্রবেশিকা দেয়ার কারণ, যেন আজটেকদের দৈনন্দিন জীবন এবং সমাজ-সভ্যতা সম্পর্কে আমরা সহজেই জেনে নিতে পারি।’

আজটেক প্রার্থনার প্রচ্ছদ। ছবি: প্রিয়.কম

এই অনুবাদ প্রজেক্টে আপনি ছাড়া আর কে কে আছেন?

আবেদীন পুশকিন: আপাতত অনুবাদ প্রজেক্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে। আমি ছাড়াও জাহাঙ্গীরনগরের আরও অনেক প্রতিভাবান সাবেক-বর্তমান ছাত্র রয়েছেন। আশা করি এই অনুবাদ প্রজেক্ট সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছড়িয়ে পড়বে।

গ্রন্থগুলো বাংলায় অনুবাদ করার পেছনে বিশেষ কারণ কী?

আবেদীন পুশকিন: অনুবাদের কারণ মূলত দুটি। প্রথমত, বাংলা জ্ঞানকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত করা। দ্বিতীয়ত, ছাত্ররা যেন যেকোনো টেক্সট বাংলায় পড়তে পারে।

আরো সংবাদ...