এ লজ্জা রাখি কোথায়?

0
11

ঢাকা , ০৬ মার্চ , (ডেইলি টাইমস ২৪):

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। সে মেরুদণ্ডকে সোজা রাখতে যিনি দিন-রাত পরিশ্রম করেন তিনিই শিক্ষক। সেই শিক্ষকের প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণ কি সহ্য করা যায়? বলছিলাম সিলেট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাফর ইকবাল স্যারের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার কথা। যে ঘটনা আমাদের লজ্জায় নুয়ে দিয়েছে।

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ব‌লে‌ছি‌লেন, ‘যে দে‌শে গুণীর কদর নেই, সে দেশে গুণীজ‌নের জন্ম হয় না।’ আর বর্তমানটা এমন দাঁড়িয়েছে যে গুণী লোক জন্মালেও তাকে সম্মান দিতে আমাদের যত কুণ্ঠাবোধ। শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অবদান সত্যি অসাধারণ। ড. জাফর ইকবাল আমাদের দেশের সম্পদ। তার হাত ধরে আমরা শিক্ষার আন্দোলনে এগিয়ে চলেছি। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. জাফর ইকবাল শিক্ষার্থীদের জন্য ছিলেন প্রাণস্বরূপ। লেখক, শিক্ষক, মুক্তচিন্তার অধিকারী জাফর ইকবাল আমাদের সমাজে যে আলো ছড়াচ্ছেন তা সত্যি অনন্য। গত কয়েক বছর ধরেই মৌলবাদীরা এ মুক্তমনা লেখককে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। নিরাপত্তাও করা হয়েছে জোরদার। কিন্তু কেন এমনটা ঘটে গেল ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।

মাথায় আঘাত করল কেন? তবে কি ওনার মেধাশক্তিকে নষ্ট করে দিতে চেয়েছিল? বিজ্ঞানমনস্ক একজন মানুষকে মারতে কারা-ই বা উঠেপড়ে লেগেছে? শরীরের আর কোনো জায়গায় আঘাত না করে মাথায় আঘাত করাটা নতুন এক চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে।

আমাদের দেশে বরাবরই কিছু বদমাশ আছে, যারা মেধাবীদের মূল্যায়ন করেনি। এমনকি ভবিষতেও বোধহয় করবে না। ‘৭৫-এ যে জাতি তার স্বপ্নদ্রষ্টাকে হত্যা করতে পেরেছিল, সে জাতির কুলাঙ্গাররা এখনো ওত পেতে আছে মেধা ধ্বংসের জন্য। স্বস্তির কথা হচ্ছে ড. জাফর ইকবাল স্যারকে যে ছুরিকাঘাত করেছে সেই ব্যক্তি জনতার হাতে ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছে। আশা করি, কঠিন বিচার হবে তার। এর ফাঁকে পেছনের গল্পটাও বড় হবে। কার মদদে এমন ঘৃণিত, জঘন্য কাজ করতে পেরেছে সে যুবক? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার পেছনে কারা জাড়িত তাদের খুঁজে বের করা। এমন শাস্তির ব্যবস্থা করা, যাতে ভবিষতে কেউ এমন নিন্দনীয় ও ন্যক্কারজনক কাজ না করে।

একজন শিক্ষককে এভাবে আঘাত করা কোনো মানুষের কাজ নয়। শিক্ষাগুরুর মর্যাদা সমাজে যুগ যুগ ধরে আছে-থাকবে এটাই প্রত্যাশা।