ফিচার

ঘুরে আসুন সাপের খামার

ঢাকা , ০৭ মার্চ , (ডেইলি টাইমস ২৪):

সাপের নাম শুনলে তো অনেকেই আতকে ওঠেন। আর বহু লোক সাপ দেখামাত্র মেরে ফেলেন। এই মেরে ফেলার কারণে আর আবাসস্থল কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে সাপের সংখ্যা কমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু দেশীয় প্রজাতির সাপ বিলুপ্ত হয়েছে। আর বিলুপ্তির পথেও আছে বেশ কিছু। সাপ বিষাক্ত হলেও এটি সচরাচর মানুষকে কামড়ায় না। নিজের ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই আত্মরক্ষা করতে হয় তাকে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাপের টিকে থাকা খুবই জরুরি। তাই প্রথমেই যে বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখা দরকার, তা হলো এই প্রাণীটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা যায় কীভাবে। আর সে জন্য দরকার সাপ রক্ষণাবেক্ষণকেন্দ্র বা খামার গড়ে তোলা।

বাংলাদেশে সাপের খামার খুব একটা চোখে পড়ে না। মাত্র কয়েক বছর হলো এই ধরনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দেশে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু সাপের খামার। এর মধ্যে বিখ্যাত আর উল্লেখযোগ্য খামার রয়েছে রাজবাড়ীতে। জেলার কালুখালী উপজেলার কাঁসাদহ গ্রামে ২০ জন যুবক মিলে গড়ে তুলেছেন এই খামার।

২০ জন তরুণের নেতৃত্বে আছেন উদ্যোক্তা মো. রবিউল ইসলাম রঞ্জু মল্লিক। তিনি এই খামারে এখন ছয় থেকে আট প্রজাতির ৮০টিরও বেশি বিষধর সাপ পালন করেছেন। খইয়া গোখরা, রাজ গোখরা, অজগরসহ বিভিন্ন ধরনের সাপ রয়েছে এই খামারে। খামারে সাপগুলোকে পালন করা হয় প্লাস্টিকের খাঁচায়। আর বংশ বিস্তারসহ নানান বিশেষ সেবা যত্নের জন্য রয়েছে ১৫টি হাউস।

সাপের খামার নিয়ে কথা হয় সাপ রক্ষায় ২০১৪ সাল থেকে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে আসা কামরুজ্জামান বাবুর সঙ্গে। তিনি জানান, সাপ যদি সরাসরি প্রকৃতি থেকে সংগ্রহ করা না হয়ে থাকে, অর্থাৎ সাপের প্রজননের মাধ্যমে নতুন করে উৎপাদন করে খামার পরিচালনা করা হয়, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। পাশাপাশি যদি এই খামারে এমন সাপগুলোকে পুনর্বাসন করা হয়, যেগুলোকে প্রকৃতার্থে মেরে ফেলা হতো, তাহলেও কোনো অসুবিধা নেই। আর তিনি যতটুকু জানেন, রাজবাড়ীর খামারে এই দুটি কাজই করা হয়ে থাকে। তাই মূলত তারা সাপ রক্ষায়ই কাজ করছেন।

এ ধরনের খামারের অর্থনৈতিক গুরুত্ব জানতে চাইলে বাবু জানান, পাশের দেশ ভারত এই ধরনের সাপের খামার করে অনেক লাভবান হচ্ছে। তাই যদি সঠিকভাবে এ ধরনের সাপের খামার করা যায়, তাহলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর ওষুধ শিল্পের প্রয়োজনে দেশের বাইরে থেকে বিশাল অঙ্কের টাকার সাপের বিষ আমদানি করা হয়। কিন্তু যদি সঠিকভাবে আমরা সাপের খামার করতে পারি, তাহলে এই সাপের বিষের চাহিদা আমরা অভ্যন্তরীণভাবে মেটাতে সক্ষম হব।’

রাজবাড়ীর এই খামারে দর্শণার্থীদের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে। তবে সব সময়ের জন্য নয়। প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত থাকে খামারটি।

কীভাবে যাবেন 

রাজধানীর গাবতলী থেকে রাজবাড়ীগামী হানিফ, রোজিনা কিংবা লালন পরিবহনে উঠতে হবে। জেলার কালুখালীতে গিয়ে বাংলাদেশ হাটে নামতে হবে। সেখান থেকে ৪ কিলোমিটার দূরেই সাপের খামার। ভ্যান অথবা রিকশায় সাপের খামার বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে।

আরো সংবাদ...