ভবিষ্যতে অনেক মেয়ে পাইলট হবে: লামিয়া খালেদ

0
23

ঢাকা , ০৯ মার্চ , (ডেইলি টাইমস ২৪):

তুমি নারী, তুমি দুর্বল, তোমার সঙ্গে সমার্থক শব্দ জুড়ে দেওয়া হয়েছে ‘অবলা’। আসলে তুমি কী? সাতকাহনের দীপা, নাকি প্রীতিলতা? সৃষ্টির শুরু থেকে আজ অবধি নির্যাতন আর শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেই বেঁচে আছেন তারা। পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার এই লড়াই যেন এখনো নারীদের নিত্যসঙ্গী। প্রাচীন বর্বর যুগ থেকে সভ্যতার এ যুগে পৌঁছানোর পেছনেও রয়েছে অসংখ্য নারীর অবদান।৮ মার্চ, বৃহস্পতিবার পালিত হলো বিশ্ব নারী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে কথা বলেন পাইলট ফারহাত লামিয়া খালেদ টিপ। বর্তমানে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন ২৪ বছর বয়সী এই তরুণী। আলাপকালে তিনি জানান, বাংলাদেশে পাইলট হওয়া নারীদের জন্য কতটা বন্ধুসুলভ, এ পেশায় নারীদের প্রতিবন্ধকতা-সম্ভাবনার কথা।

পাইলট ফারহাত লামিয়া খালেদ টিপ বলেন, ‘পাইলট পেশায় মেয়ে আর ছেলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ আমি যখন এয়ারক্রাফট চালাই তখন তো সেই এয়ারক্রাফট জানে না, তার চালক মেয়ে নাকি ছেলে; কিংবা চালকের বয়স। এয়ারক্রাফটকে যেভাবে চালাব, তা সেভাবেই চলবে। এমন তো না যে, মেয়েদের বুদ্ধি কম।’

ফারহাত লামিয়া খালেদ টিপ। ছবি: সংগৃহীত

‘পাইলটের পুরো বিষয়টা নির্ভর করছে, তার দক্ষতার ওপর। তাই এখানে নারী বা পুরুষ হিসেবে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ বুদ্ধিতো সব মানুষেরই সমান। ব্যাপারটা এমন নয় যে, পুরুষ হলে সে ভালো বিমান চালাবে, আর নারী হলে নয়।’ একটা ছেলের কাছে এই পেশাটা যেমন খুবই স্বাভাবিক, ঠিক একটি মেয়ের কাছেও এটা তেমনই একটি স্বাভাবিক পেশা’, যোগ করেন তিনি।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ফারহাত লামিয়া। ছবি: সংগৃহীত

ফারহাত লামিয়া বলেন, ‘যদিও সামাজিকভাবে এখনো নারীদের প্রতি কিছু অসহযোগিতামূলক মনোভাব রয়েছে। আমার কাছে মনে হয়, এটা মেয়েদের জন্য অন্য সব পেশার মতোই একটি সাধারণ পেশা। কেননা এখানে মেয়েদের যে সমস্যা পোহাতে হয়, একই সমস্যা ছেলেদেরও পোহাতে হয়। এ ছাড়া আর বিশেষ আলাদা কোনো ব্যাপার নেই।’


বিমানের ককপিটে টিপ। ছবি: সংগৃহীত  

‘যদিও এখনো পর্যন্ত আমাদের দেশের নারী পাইলটের সংখ্যা খুবই কম। তবে ইদানিং ফ্লাইংস্কুলগুলোতে এখন প্রচুর মেয়েরা ভর্তি হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে আমাদের দেশে অনেক মেয়ে পাইলট হিসেবে কাজ করবে’, আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ম্যাপেল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্রী ছিলেন পাইলট ফারহাত লামিয়া খালেদ। এরপর ‘এ’ লেভেল শেষ করে চার বছর এরিরাং ফ্লাইংস্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে বনে যান পেশাদার পাইলট।