ধর্ম ও জীবন

মেসওয়াক করবেন কখন কিভাবে

ঢাকা , ০৯ মার্চ , (ডেইলি টাইমস ২৪):

মেসওয়াক অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতি আমল। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক বেশি মেসওয়াক করতেন। কারণ প্রিয়নবির ভাষায়, ‘মেসওয়াক মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়।’ (বুখারি, মিশকাত)

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেসওয়াক করার গুরুত্ব সম্পর্কে বর্ণনা করেন-

‘মেসওয়াকবিহীন নামাজের চেয়ে মেসওয়াক করে যে নামাজ আদায় করা হয়, তাতে সত্তর গুণ বেশি ফজিলত রয়েছে।’ (বায়হাকি)

মেসওয়াকের গুরুত্ব তুলে ধরে অন্য হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন-

‘কখনো এমন হয়নি যে, জিবরিল আলাইহিস সালাম আমার কাছে এসেছেন; অথচ আমাকে মেসওয়াক করতে বলেননি। এতে আমার আশংকা হতো মেসওয়াকের কারণে আমার মুখে অগ্রভাগ ছিন্ন-ভিন্ন করে না ফেলি।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত)

নিয়মিত মেসওয়াকে রয়েছে অনেক ফজিলত ও উপকারিতা। কিন্তু মেসওয়াক কখন করতে হবে বা কখন মেসওয়াক করা উত্তম। আবার কিভাবে মেসওয়াক করতে হবে। তার কিছু সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরা হলো-

মেসওয়াক যেভাবে করতে হয়
>> মুখের ডানদিক থেকে মেসওয়াক শুরু করা।
>> দাঁতের প্রস্থের দিক থেকে মেসওয়াক করা। অর্থাৎ দৈঘ্যের দিক থেকে (উপর-নিচে) নয়।
>> ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলী মেসওয়াকের নিচে রেখে আর তর্জনী, মধ্যমা ও শাহাদাত আঙ্গুল মেসওয়াকের ওপর রেখে বৃদ্ধাঙ্গুলীর পেট দ্বারা ভালভাবে ধরা।

Meswak-Inner

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এ নিয়মটি বর্ণিত রয়েছে।

মেসওয়াকের উত্তম সময়গুলো হলো-
>> ঘুম থেকে ওঠার পর মেসওয়াক করা।
>> অজুতে কুলি করার আগে মেসওয়াক করা। অনেকে ওজুর শুরু করার আগে মেসওয়াক করার কথা বলেছেন।
>> নামাজ আদায়ের আগে মেসওয়াক করা।
>> কুরআন-হাদিস পড়ার আগে মেসওয়াক করা। কুরআন-হাদিস পড়ার আগে মেসওয়াক করাকে অনেকে মুস্তাহাব বলেছেন।
>> মানুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের আগে মেওয়াক করা।
>> কোনো মজলিসে যাওয়ার আগে মেসওয়াক করা।
>> ঘরের প্রবেশ করে মেসওয়াক করা।
>> মুখে দুর্গন্ধ ছড়ালে মেসওয়াক করা।
>> দাঁতে হলুদ আবরণ বা ময়লাযুক্ত হলে মেসওয়াক করা।
>> ক্ষুধা লাগলে মেসওয়াক করা।
>> জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মেসওয়াক করা।

পরিশেষে…
মেসওয়াক করার ফলে মানুষের দারিদ্র্যতা দূর হয়ে সচ্ছলতা আসে এবং উপার্জন বাড়ে। পাকস্থলী শক্তিশালী হয়, জ্ঞান ও স্মরণ শক্তি বাড়ে,কুলুষমুক্ত অন্তর তৈরি হয়, ফেরেশতারা মেসওয়াককারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। সর্বোপরি মেসওয়াকের ফলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত নিয়মে ও সময়ে মেসওয়াক করার তাওফিক দান করুন। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় আমলটি বেশি বেশি করার তাওফিক দান করুন। হাদিসে ঘোষিত ফজিলত ও উপকারিতা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরো সংবাদ...