ধর্ম ও জীবন

বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলা: আস্তিকতা বনাম নাস্তিকতা

ঢাকা , ১০ মার্চ , (ডেইলি টাইমস ২৪):

মানুষ মরার পর কী হয়? পৃথিবীর আদিমতম এই প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে সৃষ্টিলগ্ন থেকেই নিরন্তর ছুটে চলেছে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। কেউ ভাবে-‘মরার পর মানুষ গলে যায়, পচে যায়, জৈব সার হয়। কেউ বা বেঁচে থাকে মানুষের অন্তরে। তাদের কাজের কারণে নামটি পেয়ে যায় অমরত্ব।’

কিন্তু ব্যক্তি মানুষটির কী হয়? কোথায় হারিয়ে যায় সে? সে কি আর কখনো জন্ম নেয়? যারা জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস করে, তারাও এই মায়াময় পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার জন্ম নেবে-এমনটা মন থেকে মানতে পারেন না।

তাহলে কী হয় মরণের পর? সত্যি সত্যি কি এই মহাবিশ্বের ধূলিকণা কিংবা জলকণার সঙ্গে  চিরতরে বিলীন হয়ে যায় সে?

‘মরার পরে আবার কী হয়?’-এই প্রশ্নটা মনের গহিনে জাগে না অন্য কোনো প্রাণীর। তাই তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য-ভোগ, ভক্ষণ, প্রজনন। অতঃপর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অনন্ত অসীমকালের জন্য হারিয়ে যাওয়া। তাদের জীবনচক্রে বৈচিত্র্য নেই। তারা বিকশিত হয় না। চিন্তা করার বিস্ময়কর ক্ষমতাও তাদের নেই। এ কারণে গরু, বাছুর, ভেড়া, বরকি, হাঁস, মুরগি-ওরা মানুষ নামক এই জটিল প্রাণী থেকে আপাতদৃষ্টিতে অধিকতর নিশ্চিন্ত ও সুখী।

কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল পৃথিবীর? জলরাশির? ভূমির? পাহাড়ের? পর্বতের? কীভাবেই বা সৃষ্টি হয়েছিল মানুষ নামের এই বিস্ময়কর প্রাণীটির?

একটা ‘বিগ ব্যাং’ থেকেই কি? হঠাৎ করে পৃথিবীতে বিশাল একট শব্দ হলো, আর ঝাঁকে ঝাঁকে জন্ম হলো এত এত প্রাণীর! তাও আবার জোড়ায় জোড়ায়!

তাহলে এই ‘বিগ ব্যাং’-এর আগে কী ছিল? কিছুই কি ছিল না?

কেবল কি শূন্যতা আর শূন্যতাই ছিল? সেই শূন্যতার সবটা জুড়ে কি কিচ্ছু ছিল না?

যদি কোনো বাহ্যিক শক্তি সেই বহুল আলোচিত ‘বিগ ব্যাং’ ঘটিয়ে থাকে-তবে কে সে জন? কী তার পরিচয়? কোথা থেকে, কীভাবে এত নিখুঁত প্রাণী, প্রকৃতি, গ্রহ, নক্ষত্র, আকাশ, বাতাস সৃষ্টি হলো? এই রহস্যের কি কিনারা আছে? অন্ত আছে?

এই কঠিন ও সহজ প্রশ্নের উত্তর যারা খোঁজেন, তারা দুই ভাগ হয়ে যান-কেউ কেউ বলেন, ‘সেই তো স্রষ্টা আমার! সেই সে জন, যিনি এই পৃথিবীর সবকিছু নিজ হাতে করেছে সৃজন।’

আরেক দল বলে, ‘সব এমনি এমনি হয়েছে। সবই প্রকৃতির লীলাখেলা। ঈশ্বরে বিশ্বাস করে বোকারা। মরার পরে কল্পিত স্বর্গ-নরকে বিশ্বাস করে গাধারা।’

আচ্ছা, মানুষ তো একদিন মরে যাবে-এটা তো সত্যি। পৃথিবীতে কেউ আর ফিরে আসেনি, আসবেও না- এটাও তো সত্যি। তাহলে কোথায় চলে যায় মানুষ? কার কাছে যায়?

কেন এত এত প্রাণীর মধ্যে মানুষেরই কেবল থাকল চিন্তা করার ক্ষমতা? কেন কেবল মানুষেরই আছে বিবেক, মন, মানবিকতা, ভালোবাসাবোধ?

কেন? কেন? এতসব কেনর উত্তর খুঁজতে গিয়েও কি স্রষ্টায় অবিশ্বাসী হওয়া যায়? একজন স্রষ্টা ছাড়াই কি থাকতে পারে এতটা মনোমুগ্ধকর সব সৃষ্টি?

ভাবো মানুষ! ভাবো তো!

সূত্রঃ প্রিয়.কম

আরো সংবাদ...