সারাদেশ

সবুজ চট্টগ্রাম গ্রাস করছে ধুলা আর বহুতল দালান

ঢাকা , ১১ মার্চ , (ডেইলি টাইমস ২৪):

অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে উন্মুক্ত স্থান ক্রমেই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামে। শহরে নেই আগের মতো সবুজের সমারোহ।  এক সময়ের সবুজ শহরটি দিনদিন গ্রাস করে ফেলেছে ধুলা আর বহুতল ভবনে। নগরীর বাকলিয়া, হালিশহর, পাহাড়তলী, অক্সিজেনসহ কয়েকটি এলাকায় বিশাল বিশাল মাঠ ছিল। যেখানে সবুজ ফসলাদিতে পরিপূর্ণ ছিল। এমনকি বর্ষায় তার অনেকাংশ জলাধার হিসেবে দেখা যেত। অতি বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের পানির সংরক্ষণাগার হিসেবে নগরবাসীকে রক্ষা করতো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তা সংকুচিত হতে থাকে। বর্তমানে সে সকল মাঠ ও খোলা জায়গায় অট্টালিকাসহ বসতঘর এবং প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কিন্তু তাও আবার অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠায় ওই সকল স্থানে স্বাভাবিকভাবে পৌঁছানো কষ্টদায়ক হচ্ছে। একইসাথে বর্ষায় পুরো এলাকা জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকে। সড়ক ও ড্রেনেজ সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী হয়নি। ওই সকল স্থানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) থেকে নেয়া নকশা অনুযায়ী অবকাঠামোও গড়ে উঠেনি। ভেঙে পড়েছে সড়ক ও ড্রেনেজ সিস্টেম। প্রতিটি অবকাঠামো যতটুকু স্থান ছেড়ে নির্মাণ করার নিয়ম রয়েছে তার ন্যূনতমও রক্ষা করা হয়নি।

এদিকে আজ রবিবার সিডিএ মিলনায়তনে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের উপস্থিতিতে নগরীর সকল সংস্থার উর্ধ্বতন কর্তা-ব্যক্তি নিয়ে পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

নগরীকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসার জন্য সিডিএ ১৯৯৫ সালে নগরীর মহাপরিকল্পনা তৈরি করলেও কোন সংস্থাই তা অনুসরণ করেনি। ওই মহাপরিকল্পনায় সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, বিদ্যুত্, টিএন্ডটিসহ সকল সেবা সংস্থার কাজের পরিকল্পনা কী হওয়া উচিত্ তা উল্লেখ রয়েছে।

নগরীর সীমিত সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে যানজট বেড়েই চলেছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের পক্ষ থেকে বর্তমান সড়ককেই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নির্বিঘ্ন যাতায়াতের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। কিন্তু বাস্তবায়নের পর্যায়ে গিয়ে তা অনুসরণ করা হয়নি।  নগরীতে যানজট কমাতে গড়ে তোলা হয় বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার ও ওভারপাস। এর অনেকগুলোতে যানবাহন ও লোকজন চলাচল পর্যাপ্ত না হওয়ায় অনেকে এর জন্য পরিকল্পনার অদূরদর্শীতাকে দায়ী করেছেন। এখনও ফ্লাইওভারের কাজ চলছে।

নগরীর অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে গত বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ও জোয়ারের পানিতে নগরীর বেশির ভাগ অংশ নিমজ্জিত ছিল।

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আলী আশরাফ ইত্তেফাককে বলেন, সরকারের নীতি নির্ধারক, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং জনগণ আইন মানার ক্ষেত্রে উদাসীন। এতে করে প্রতিনিয়ত নগরীর সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালে নগরীতে খাল ছিল ৭০টি। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন বলছে ৩৬টি। কিছুদিন পর এ সংখ্যা আরো কমে যাবে। অর্থাত্ ক্রমান্বয়ে খালগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী নগরীর কোথায় কী থাকবে তা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু কেউ মাস্টার প্ল্যান মানছে না। এভাবে সবুজ নগরী তার অস্তিত্ব হারাতে বসছে।

আরো সংবাদ...