প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন হয়রানির অভিযোগ

0
8

ঢাকা , ১ মার্চ , (ডেইলি টাইমস ২৪):

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার জিনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় একাধিক অভিভাবক রবিবার বিকেলে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জানতে চাইলে পাথরঘাটা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ বলেন, বিষয়টি শুনেই আমি যৌন হয়রানির অভিযোগটি গত শনিবার তদন্ত করেছি। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শাকিল আহম্মেদ শিবু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবক ও ছাত্রীরা এ শ্লীলতাহানি কথা আমাদের বলে আসছিল। কিন্তু প্রতিবারই হেড মাস্টার অভিভাবকদের সঙ্গে ক্ষমা চেয়ে ফয়সালায় যেতেন। বিষয়গুলো একের পর এক এভাবেই সমাধান হতো। এতে প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে কোন সময়ই কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
বেশ কয়েকজন ছাত্রীরা বলেন, ‘বিদ্যালয় শুরুর আগে প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের ওই বিদ্যালয়ে কোচিং করান। ওই কোচিং ক্লাসে ও বিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাসে পড়া নেয়ার ছলে প্রতিদিন ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন হয়রানি করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে যৌন হয়রানি করে আসায় বর্তমানে চরম পর্যায় পৌঁছে গেছে। যা আমরা বাড়িতে গিয়ে মায়েদের কাছে বলেছি।’
ওই বিদ্যালয়ের এক নারী অভিভাবক বলেন, ‘এ যৌন হয়রানির কথা কী বলবো, ৯ থেকে ১০ বছরের এতোটুকু মেয়েদের সঙ্গে একের পর এক খারাপ কাজ করে চলেছেন ওই প্রধান শিক্ষক। মেয়েদের কাছ থেকে যা শুনেছি তাতে এখন তাকে শিক্ষক বলতেও লজ্জা লাগে।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘তারা নাকি এ ঘটনার ভিডিও করেছে তবে ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আর কমিটি নিয়ে একটু ঝামেলা থাকায় এ ঘটনা রটানো হচ্ছে।’
বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. হোচেন খান বলেন, ‘এ শ্লীলতাহানির ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েক বার স্কুলে বৈঠক করা হয়েছে। তবে বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি।’
এ ব্যাপারে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুয়ায়ুন কবির বলেন, ‘যৌন হয়রানির মতো এতো বড় একটি ঘটনা আমাকে কেউ জানায়নি। তবে দ্রুত এ বিষয়টিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’