ক্যাম্পাস

জবিতে চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

ঢাকা , ১৩ মার্চ , (ডেইলি টাইমস ২৪):

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল এবং স্লোগান দিয়ে চেয়ারম্যান পদ থেকে অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ড. আবুল কালাম আজাদ ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরেই বিভাগে শুরু হয় নানা, অনিয়ম। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখেন তিনি। এছাড়া নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে বিভাগটিতে সেশনজট সৃষ্টি হয়েছে।

বিভাগের একমাত্র অধ্যাপক হওয়ার কারণে ২৪(২) ধারা মোতাবেক গত বছর ৩ এপ্রিল ড. আবুল কালামকে বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চেয়ারম্যানের মেয়াদকাল তিন বছর হলেও মাত্র ৯ মাস পরে এ বছর ২২ ফেব্রুয়ারি তাকে বিশেষ ক্ষমতাবলে চেয়ারম্যান থেকে অপসারণ করেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য।

কিন্তু তিনি হাইকোর্টে আবেদন জানালে গত ৪ মার্চ থেকে আগামী তিন মাসের জন্য চেয়ারম্যান অপসারণ আদেশ স্থগিত করে হাইকোর্ট। পরে ফের জরুরি আদেশে চেয়ারম্যান হিসেবে নিজ পদে বহাল থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লিখিত অনুমতি পান। হাইকোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ আসার পরেই ফের ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

অপসারণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, বিভাগের ১৯ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৬ জন শিক্ষকই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে। বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ১১(১০) ধারা মোতাবেক তাকে অপসারণ করে চিঠি পাঠিয়েছি।

তিনি বলেন, আমার কাছে তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০০টি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ পত্রে এতসব উল্লেখ করিনি, কারণ একজন অধ্যাপক ও বিভাগের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ লিখে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সবারই সম্মান নষ্ট হবে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি জানি না কেন আমাকে অপসারণ করানো হয়েছে। অপসারণ পত্রে আমাকে জানানো হয়েছে, আমার বিভাগের শিক্ষকদের পত্রের ভিত্তিতে অপসারণ করানো হলো। পরে আমি হাইকোর্টে আবেদন করলে অপসারণ আদেশ স্থগিত করে আপাতত তিন মাসের জন্য আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে থাকার আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক ষড়যন্ত্র করছে। তারা নিজেদের স্বার্থের জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে আমাকে অপসারণ করতে চাইছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে শিক্ষক হয়ে অপর একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এভাবে আন্দোলন করানো হতাশজনক। শিক্ষকদের সমস্যা থাকলে আমার সঙ্গে বসবে।

 

আরো সংবাদ...