বিনোদন

শ্রীদেবীর জন্য কাঁদছেন জাহ্নবী ও খুশি

ঢাকা , ১৩ মার্চ , (ডেইলি টাইমস ২৪):

মা শ্রীদেবীকে হারিয়েছেন ১৭ দিন আগে। এখনো সেই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি বলিউডের এই বরেণ্য নায়িকার দুই মেয়ে জাহ্নবী আর খুশি। গত রোববার বিকেলে চেন্নাইয়ের এই হোটেলে শ্রীদেবীর স্মরণসভার আয়োজন করে তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কুশীলবেরা। এখানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীদেবীর স্বামী বনি কাপুর, দুই মেয়ে জাহ্নবী ও খুশি আর পরিবারের অন্য সদস্যরা। ছিলেন শ্রীদেবীর বন্ধু, জনপ্রিয় ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রা। আরও ছিলেন দক্ষিণের জনপ্রিয় চিত্রতারকা প্রভুদেবা, রজনীকান্ত, সুরিয়াসহ বলিউড আর দক্ষিণের কয়েকজন তারকা। চেন্নাইয়ে শ্রীদেবীর স্মরণসভার অনুষ্ঠানটি সাজানো হয় তাঁর পছন্দের সাদা রঙের ফুল দিয়ে।

স্মরণসভা অনুষ্ঠানের পুরোটা সময় জাহ্নবী আর খুশির চোখ ছিল ভেজা। এর আগে সকালে যখন তাঁরা চেন্নাই বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান, তখন জাহ্নবী ও খুশিকে খুবই বিষণ্ন দেখাচ্ছিল। কারও সঙ্গে টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করেননি।

হরিদ্বারে অস্থি বিসর্জনের পর এবার চেন্নাইয়ে শেষ বিদায় জানানো হলো শ্রীদেবীকে। তামিলনাড়ুর শিবকাশীতে ১৯৬৩ সালের ১৩ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন শ্রীদেবী। তামিল ছবিতেই তিনি প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৬৯ সালে ‘থুনাইভান’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় জগতে হাতেখড়ি হয় শ্রীদেবীর।

শ্রীদেবীর মৃত্যুর জন্য তাঁর স্বামী বনি কাপুরকে দোষারোপ করছেন মামা বেণুগোপাল রেড্ডি। তেলেগু ভাষার আইড্রিম নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কয়েকটি ছবিতে বনি কাপুরের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল। সেই ক্ষতি পূরণ করার জন্য তিনি শ্রীদেবীর সম্পত্তি বিক্রি করেন। শ্রীদেবীর মধ্যে এই কষ্টটা খুব কাজ করেছিল। ও কিন্তু শান্তিতে ছিল না। তবু সব সময় হাসিমুখেই থাকত। সেই দুঃখ নিয়েই ও চলে গেল।’

বেণুগোপাল রেড্ডি দাবি করেন, এই আর্থিক সমস্যার কারণেই আবার অভিনয় শুরু করেন শ্রীদেবী। ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি।

‘বেণুগোপাল রেড্ডি কে?’ এভাবেই প্রশ্ন করেছেন শ্রীদেবীর বোনের স্বামী সঞ্জয় রামস্বামী। চেন্নাই থেকে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি শ্রীলতাকে বিয়ে করেছি ২৮ বছর হলো। আমি কখনোই এই লোকটির নাম শুনিনি। আমি জানি না, লোকটি কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এসব বলছে কি না।’ সঞ্জয় রামস্বামী সবাইকে অনুরোধ করে বলেন, ‘এই কঠিন সময় বনি কাপুরের পাশে দাঁড়ানো উচিত প্রত্যেকের। সেই সময় তা না করে কেন বিতর্কিত মন্তব্য করা হচ্ছে?’

শ্রীদেবীর মৃত্যুর পর তাঁর বোন শ্রীলতার চুপ হয়ে যাওয়া নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি কোনো ছবিতেই শ্রীদেবীর মরদেহের পাশে শ্রীলতাকে দেখা যায়নি। শ্রীদেবীর সঙ্গে শ্রীলতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বোনের ওপর নানা বিষয়ে নির্ভর করতেন। ক্যারিয়ারের টেনশন কিংবা প্রেমের টানাপোড়েন—সব সময়ই শ্রীদেবীর পাশে থেকেছেন, প্রয়োজনে পরামর্শ দিয়েছেন শ্রীলতা। অনেকই প্রশ্ন করেছেন, শ্রীলতা কি এমন কিছু জানেন, যা নিয়ে মুখ খুললে অন্য কেউ সমস্যায় পড়তে পারেন? ডেকান ক্রনিকেল সূত্রে জানা গেছে, শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে শ্রীলতাকে কাপুর পরিবার থেকেই এক্কেবারে চুপ থাকতে বলা হয়েছে।

মৃত্যুর আগে শেষ সময়ে দুবাইয়ে যে কয়েকজনের সঙ্গে শ্রীদেবীর কথা হয়েছিল, শ্রীলতা তাঁদের একজন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলতা আর তাঁর স্বামী সঞ্জয় রামস্বামীকে নাকি চেন্নাইয়ে শ্রীদেবীর বাংলো লিখে দিচ্ছেন বনি কাপুর। অনেকেই বলছেন, চেন্নাইয়ে বাংলার মালিকানা লিখে দিয়ে শ্রীলতার মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন বনি কাপুর।

আরও শোনা যাচ্ছে, গত শতকের নব্বইয়ের দশকে বোনের সঙ্গে সম্পত্তিসংক্রান্ত বিষয়ে সম্পর্ক তিক্ত হয় শ্রীদেবীর। ক্যারিয়ার শুরু প্রথম দিকে বেশ কিছু সম্পত্তি কিনে ছিলেন তিনি। করসংক্রান্ত ঝামেলা এড়াতে সেগুলো তাঁর মায়ের নামে রেজিস্ট্রি করানো হয়। আর সেই সম্পত্তির ভাগ চান শ্রীলতা। তখনই দুই বোনের সম্পর্কের অবনতি হয়। পরে ২০১৩ সালে আবারও জোড়া লাগে দুই বোনের সম্পর্ক।

আরো সংবাদ...