বাংলাদেশ’ এ ম্যাচেও ভুগিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে

0
8

ঢাকা , ১৩ মার্চ , (ডেইলি টাইমস ২৪):

ম্যাচ শেষ হতে তখনো ৪ ওভার বাকি। অথচ প্রেমাদাসার গ্যালারি ফাঁকা হতে শুরু করেছে। ম্যাচের ভবিষ্যৎ পড়তে পেরে কি না, শ্রীলঙ্কান দর্শকেরা একটু আগেভাগেই ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন!

বাংলাদেশে টানা তিনটি সিরিজ জিতে এসে দেশের মাঠে ভারতকে হারিয়ে নিদাহাস ট্রফিতে দুর্দান্ত সূচনাই করেছিল শ্রীলঙ্কা। পরশু বাংলাদেশের কাছে হারের পর আজ ভারতের কাছে ৬ উইকেটের পরাজয়—টানা দুই ম্যাচে হেরে ফাইনালে ওঠার হিসাব জটিলই হয়ে গেল শ্রীলঙ্কার। গত ম্যাচে বাংলাদেশেও অমন রান তাড়া এই ম্যাচেও শ্রীলঙ্কাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে রেখেছিল কি না, এই প্রশ্নটা বারবার উঠল। এমন ধাক্কা সামলানোর সময়ও শ্রীলঙ্কা পায়নি। এক দিনের বিরতিতে নেমে পড়তে হয়েছে মাঠে। তা ছাড়া গত ম্যাচে পাওয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক চাণ্ডিমালও ছিলেন না আজ। কুশল পেরেরা দিয়েছেন নেতৃত্ব। বাংলাদেশ যে চক্রের মধ্যে ছিল, সেটা এবার ভালোভাবে টের পাচ্ছে শ্রীলঙ্কাই।

৮৫ রানে ফিরে গেছেন দলের শীর্ষ ৪ ব্যাটসম্যান, দরকার ৫৪ বলে ৬৮ রান। তবুও ম্যাচটা মুঠোয় পুরতে সমস্যা হয়নি ভারতের। দিনেশ কার্তিক-মনীশ পান্ডের ৪৬ বলে অবিচ্ছিন্ন ৬৮ রানের জুটি ভারতকে এনে দিয়েছে সহজ এক জয়। টস জিতে লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে ম্যাচটা নিজেদের করে নাও—নিদাহাস ট্রফিতে এটাই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সূত্র মেন আজও জিতেছ ভারত।

বাংলাদেশের কাছে হারের পর নিয়মিত অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমালকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কা যে বেশ ধাক্কা খেয়েছে, সেটি তাদের নড়বড়ে শুরু দেখেই বোঝা গেছে। ৩৪ রানে তারা হারিয়ে ফেলেছে ২ উইকেট। তারপরও শ্রীলঙ্কা লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছে কুশল মেন্ডিস-উপুল থারাঙ্গার তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করা ৪৬ বলে ৬২ রানের সৌজন্যে। ফর্মের তুঙ্গে থাকা মেন্ডিস পেয়েছেন টানা দুই ফিফটি।

কুশল-থারাঙ্গা যেভাবে এগোচ্ছিলেন, মনে হচ্ছিল আবারও রানের পাহাড় গড়বে শ্রীলঙ্কা। প্রায় ১০ গড়ে রান তোলা শ্রীলঙ্কা হঠাৎ খেই হারিয়ে ফেলল। ১০.৩ ওভারে ২ উইকেটে ৯৬ করা শ্রীলঙ্কা ২২ বলের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে বসল। এ সময়ে রান উঠল ২৪। ১১তম ওভারেও দশের কাছাকাছি রানরেট, সেই শ্রীলঙ্কাই শেষ ৮ ওভারে নিতে পারল মাত্র ৪৪ রান! কুশলের ৩৮ বলে ৫৫ রান ছাড়া ঝলমলে আর কোনা ইনিংস নেই শ্রীলঙ্কার। বৃষ্টিবাধায় ১৯ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে শ্রীলঙ্কা করতে পারল ৯ উইকেট ১৫২।

প্রতিপক্ষের সামনে বড় স্কোর ছুড়ে দিতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা, বোলাররাও পারেননি দুর্দান্ত কিছু করতে—টানা দুই ম্যাচে স্বাগতিক দর্শকেরা ঘরে ফিরলেন একরাশ হতাশা নিয়ে। পরের ম্যাচে বাংলাদেশ ভারতকে হারাতে পারলে শ্রীলঙ্কা ভুগবে নিজেদের টুর্নামেন্টে দর্শক হয়ে থাকার শঙ্কায়!