ফ্যাশন

নিপাট পাট

ঢাকা , ২৫ মার্চ , (ডেইলি টাইমস ২৪):

পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে শুধু নয়, জীবনযাপনে বৈচিত্র্য এবং ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসায় পাটের তৈরি পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। বেড়েছে পাটজাত পণ্যের মান ও ধরনও। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ব্লেজার, পাঞ্জাবি—অর্থাৎ পোশাকও তৈরি হচ্ছে পাট থেকে। পাটের তৈরি ঘরের পর্দা, বিছানার চাদর, কুশন কভারসহ শৌখিন পণ্য তো আগে থেকেই ছিল।

জেডিপিসির (জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার) বিপণন পরিচালক সীমা বোস বলেন, বসার ঘর থেকে রান্নাঘর পর্যন্ত দৈনন্দিন জীবনযাপনে যা কিছু প্রয়োজন, প্রায় সবকিছুই তৈরি করা হচ্ছে পাট দিয়ে। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পাটজাত পণ্য বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘পাটের ব্যবহার এখন শুধু ব্যাগ আর বস্তা তৈরিতেই সীমাবদ্ধ নেই। তবে পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবে নতুন ধরনের এসব পাট পণ্যের বিষয়ে জানতে পারছেন না অনেকেই।’

পাট দিয়ে এখন তৈরি হচ্ছে নজরকাড়া সব পণ্য

পাট দিয়ে এখন তৈরি হচ্ছে নজরকাড়া সব পণ্য

নিত্যদিনের ব্যবহারের সঙ্গে ঘর সাজাতেও পাটের জুড়ি নেই। বসার ঘরের সোফার সঙ্গে মিলিয়ে কুশন কভার আর পর্দা বেছে নিতে পারেন পাটের। মেঝেতে বিছিয়ে দিতে পারেন রঙিন কার্পেট ও ফ্লোরম্যাট। পাটের শিকায় ঝোলানো এক টুকরো সবুজ আপনার বসার ঘরে এনে দিতে পারে সতেজ ভাব। পাটের তৈরি দোলনাও ঘর সাজানোর উপকরণ হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়া রয়েছে চেয়ার, সোফার কভার, ল্যাম্পশেড, বিছানার চাদর ইত্যাদি।

পাটপণ্য যেন আমাদের দেশপ্রেমের স্মারক। উপহার হিসেবে দেশীয় পণ্যের আবেদন সব সময়ই আলাদা। পাটের তৈরি মুখোশ, চিত্রকর্ম, ল্যাম্পশেড, বিভিন্ন ধরনের শো-পিস, টেবিল ম্যাট এবং রানার উপহার হিসেবে পেলে যে-কেউ খুশি হবেন। এসব পণ্য দেখতে খুবই নান্দনিক, সেই সঙ্গে দামও হাতের নাগালের মধ্যেই। পরিবেশবান্ধব ও দেশি পণ্য বলে পাটপণ্যের কদর একটু বেশি, জানান এশিয়া জুটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুদ্দিন মুত্তাকী। গোটা পৃথিবীজুড়ে এখন টেকসই উন্নয়নের যে আন্দোলন তৈরি হয়েছে, তাতে পাটজাত পণ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ পাট বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। এর সঙ্গে আবেগও কিছুটা জড়িত বলে মনে করেন তিনি। পাটের তৈরি পণ্য দীর্ঘস্থায়ী ও মজবুত হয় বলে দেশে ও বিদেশে পাটের তৈরি বাজারের ব্যাগের চাহিদা সব থেকে বেশি।

পাটপণ্যের তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে জুতা, ব্যাগ, মেয়েদের পার্স, ঝুড়ি, ওড়না, কটি ও জ্যাকেট। এসব জিনিস একবার দেখে বোঝার উপায় নেই, কী দিয়ে তৈরি। পাটের সুতা এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিখুঁত ও মসৃণ করা সম্ভব। সৌন্দর্য ও নান্দনিকতার কারণে অনেকেরই নজর কাড়ছে।

পাটপণ্যের হারানো ঐতিহ্য আবার ফিরে আসছে। প্রায় ১১৮টি দেশে আমাদের পাটজাত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। দেশের মানুষ সচেতনভাবে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে এবং তেজগাঁওয়ে জেডিপিসি পাটজাত পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া আড়ং, জয়িতা, সোর্স, কারুপল্লীসহ কারুপণ্যের বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যাবে পাটের অনেক রকম পণ্য।

Related Articles

Close