ফ্যাশন

সালোয়ার কামিজের চেয়ে শাড়িটাই বেশি ভালোলাগে

ঢাকা , ২৮ মার্চ , (ডেইলি টাইমস ২৪):

সুরেলা কণ্ঠি হিসেবে ফাহমিদা নবীর বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে সংগীত পাড়ায়। সুরের জাদু দিয়ে ছুঁয়ে দিয়েছেন শ্রোতাদের হৃদয়। তার নিত্যদিনের স্নিগ্ধ সাজও নজর কেড়েছে অনেকের। প্রচণ্ড শাড়ি প্রেমী তিনি, সুযোগ পেলে চুলে ফুল গুঁজতে মোটেও ভুল করেতে চান না। হালকা সাজে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে ভালোবাসেন। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন তার পছন্দের পোশাক, ব্র্যান্ড, সাজসজ্জা আর তার পছন্দের মানুষের কথা। চলুন জেনে নেওয়া যাক ফাহমিদা নবীর ফ্যাশন সম্পর্কে।আপনাকে শাড়িতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, প্রথমেই জানতে চাইবো আপনার শাড়ি পরার শুরুটা কবে থেকে?

ফাহমিদা নবী: ছোটবেলায় একবার একটা অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় প্রথম শাড়ি পরি। সেই থেকে শুরুটা। আসলে সেই ছোটবেলা থেকেই শাড়ি পরতাম। ছোটবেলায় আমাদের মা-খালাদের সব সময় শাড়ি পরেই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখেছি। তখনকার সময় নায়িকাদেরকেও শাড়ি পরতেই দেখা যেত। এছাড়া শাহনাজ রহমতুল্লাহ, লতা মুঙ্গেশকর, আশা ভোসলে তাদেরকেও শাড়িই পরতে দেখেছি। এদিকে সাবিনা ইয়াসমিন তিনিও সব সময় শাড়িই পরেন। এনাদের আমি কখনো সালোয়ার কামিজ পরতে দেখিনি। আসলে শাড়িটাইতো আমাদের দেশিয় ঐতিহ্য। তাই সালোয়ার কামিজের চেয়ে শাড়িটাই আমার বেশি ভালোলাগে।

প্রায় সময় শাড়ির সঙ্গে চুলে রং-বেরঙের ফুল গুঁজতে দেখা যায় আপনাকে। জানতে চাইবো এই ফুল নিয়ে কোন এক গল্প…

ফাহমিদা নবী: কিছুদিন আগে পাট নিয়ে গান করতে গিয়েছিলাম এক গ্রামে। ওখানে যাওয়ার সময় আমি কিন্তু সঙ্গে করে ফুল নিয়ে যাইনি। সেই গ্রামে গিয়ে দেখি দেশি লাউ গাছ আর শিম গাছ। ওখান থেকেই একটা সাদা রঙের লাউ ফুল নিয়ে নিলাম। তারপর চুলে লাউ ফুল গুজেই গান গেয়ে ফেললাম।
এরপর গতকাল আমাদের আরেকটা প্রোগ্রাম ছিল। সেখানে অবশ্য বেশ কিছু গোলাপ ফুল নিয়ে গিয়েছি। সেদিন আমার সঙ্গে ছিল মোহন। মোহনকে বললাম, ‘চুলে ফুল গুঁজতে চাও?’ তখন সে আমাকে বলল, ‘আপনার মতো আমাকে ফুলে ওতো মানায় না।’ ওরা আসলে এতো ফিটফাট হয়ে এসেছে যে, তারা কোথাও হাতই দিতে দেবে না। এতো করে ফুল পরতে বললাম,পরলো নাতো পরল-ই না।

ফুল বাগান করার শখ আছে কি?

ফাহমিদা নবী: আমার খুব শখ হয় বাসায় একটু ফুল বাগান করি। কয়েকবার চেষ্টাও করেছি। কিন্তু বাসায় যখন ফুলগাছ লাগাই, তখন গাছে দু-একটা ফুল ধরার পর সে ফুল গাছ থেকে ঝরেও পড়ে, কয়েক দিন পর গাছটি আবার মরেও যায়। তাই আর নিজের বাগানের ফুল তেমন একটা চুলে পরা হয় না।

পছন্দের শাড়িগুলো সাধারণত কোথা থেকে কেনা হয়?

ফাহমিদা নবী: বেশিরভাগ শাড়ি ধানমণ্ডি ৫ নম্বরের ‘সপুরা সিল্ক’ এবং ‘উষা সিল্ক’ শো রুমগুলো থেকে কিনি। আর বাকি কিছু কিছু শাড়ি আমি নিজেই ডিজাইন করে পরি।

নদীর পাড়ে নীল শাড়িতে ফাহমিদা নবী । ছবি: সংগৃহীত 

কী ধরনের শাড়ি বেশি পরা হয়?

ফাহমিদা নবী: বিশেষ করে দেশি শাড়ি পরি। এক রাঙা শাড়ি বেশি পরা হয়। এছাড়া যখন যেই শাড়ি পচ্ছন্দ হয়, তখন সেই শাড়ি-ই পরি। এর মধ্যে মসলিন শাড়িটা খুব পছন্দ। রাজশাহী সিল্কটাও বেশ পরা হয়।

সম্প্রতি পাট উৎসবে পাটের কাজ করা মসলিন শাড়িতে ফাহমিদা নবী । ছবি: সংগৃহীত 

শাড়ির সঙ্গে আপনার সাজ সম্পর্কে জানতে চাই?

ফাহমিদা নবী: আমি চুলও তেমন একটা আঁচড়াই না। কখন যে কীভাবে বের হই তারও কোন ঠিক ঠিকানা নাই। বাইরে থেকে আমাকে যতটা গুছানো মনে হয় আমি আসলে ততটা পরিপাটি নই। মালা-টালা খুব একটা পরা হয় না। তবে কোথাও গেলে যখন কানে দুল পরি, সেখান থেকে বের হওয়ার পর-পরেই কান থেকে তা আবার সঙ্গে সঙ্গে খুলে রেখে দিই। অনুষ্ঠানে গেলে হাই হিল পরি এছাড়া আমার তেমন একটা হাই হিল পরা হয় না।

Related Articles

Close