যে আমল মানুষকে হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাবে

0
22

ঢাকা , ০৯ এপ্রিল , (ডেইলি টাইমস ২৪):

রাসুলে আরাবি ঘোষণা করেছেন, কোনো মুমিন (কারো সঙ্গে) কটুভাষী হতে পারে না; (কাউকে) লানতকারী হতে পারে না এবং অশ্লীল ও অশালীন কথাবার্তা বলতে পারে না।’ (আদাবুল মুফরাদ) কারণ এ সব কর্মগুলো ঈমান ও মুমিনের শানের পরিপন্থী।মুমিন বান্দার উচিত হলো, সব সময় যাবতীয় খারাপ কাজ থেকে নিজেকে পবিত্র রাখা। এ সব গুণের কোনো একটির যথাযথ আমল করলেই জান্নাতের ছায়াতলে আশ্রয় লাভ করবে মুমিন। হাদিসে পাকে এমনই একটি ঘোষণা দিয়েছেন প্রিয়নবি-

তাবেয়ি হজরত আবদুর রহমান বিন উযায়নাহ একবার বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এ মর্মে আবেদন জানালেন যে, আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন, যেই আমল করলে বান্দা জান্নাতে যাবে?
তিনি বললেন, এই বিষয়টি আমিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আবেদন করেছিলাম, প্রিয়নবি উত্তরে বলেছিলেন- সে আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখবে।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, নিশ্চয় ঈমানের সঙ্গে কোনো আমল আছে?
তিনি বললেন, আল্লাহ তাকে যা দান করেছেন তা থেকে কিছু পরিমাণে দান করবে।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, যদি সে এমন নিঃস্ব হয় যে, তার দান করার মতো কিছুই নেই?
তিনি বললেন, মুখে সুন্দর কথা বলবে।
আমি বললাম, যদি কথা বলতে না পারে?
তিনি বললেন, তাহলে বিপদ-গ্রস্তকে সাহায্য করবে।
আমি বললাম, যদি সে এমন দুর্বল হয় যে, তার সাহায্যে এগিয়ে যাওয়ারও কোনো ক্ষমতা নেই?
তিনি বললেন, তাহলে কর্মহীনকে কাজের ব্যবস্থা করে দেবে।
আমি বললাম, সে নিজেই যদি কর্মহীন হয়?
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন-
‘তুমি যদি বলতে চাও যে, তোমার সঙ্গীর মধ্যে কোনো ভালো যোগ্যতাই নেই, তবে সে যেন অন্তত অন্য মানুষকে কষ্ট দেয়া থেকে নিরাপদ রাখে।
তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! এ তো অনেক সহজ কথা!
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-
‘সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, যে বান্দাই আল্লাহর কাছে প্রতিদান পাওয়ার উদ্দেশ্যে এসবের কোনো একটার ওপর আমল করবে, কিয়ামতের দিন উক্ত আমল তাকে হাত ধরে নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেবে।’ (ইবনে হিব্বান)

 

পরিশেষে…
উম্মতের প্রতি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ হাদিসটির ওপর আমল করা জরুরি। তিনি বলেছেন, তোমার ঈমানকে খাঁটি কর। অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সৎ গুণের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। প্রিয়নবির দেখানো পথে উত্তম গুণের বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। এ সৎগুণগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশের তাওফিক দান করুন। আমিন।