দুই সদস্যেই ইবি ছাত্রলীগের মেয়াদ পার

0
16

ঢাকা , এপ্রিল , (ডেইলি টাইমস ২৪):

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক বছর মেয়াদী কমিটি গত বছর ১৫ এপ্রিল অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। সেই হিসেবে আজ মেয়াদ উত্তীর্ণ হচ্ছে এ কমিটির। এই এক বছরে অনেক সফলতার পাশাপাশি কিছু ব্যার্থতাও ভারাক্রান্ত করেছে এ কমিটিকে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ১৫ এপ্রিল দুই সদস্যের এক বছর মেয়াদী কমিটির অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন।

গত এক বছরে এ কমিটির মুকুটে যুক্ত হয়েছে অনেক সফলতার পালক। এ কমিটির সবথেকে বড় সফলতা হলো গত ১৪ আগস্ট শিবিরকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করা। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির তাদের ঘাঁটি গড়ে তোলে। তারা এতই শক্তিশালী অবস্থান তৈরী করে যে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরও ছাত্রলীগের কমিটিগুলো শিবিরের সঙ্গে লিয়াজো করে ক্যাম্পাসে রাজনীতি করেছে। কিন্তু বর্তমান কমিটি গঠনের পর থেকেই তারা শিবিরের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে। সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট বিনা সংঘর্ষে পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় সকল হল থেকে একযোগে শিবির বিতাড়িত করতে সক্ষম হয় ছাত্রলীগ।

এছাড়া বর্তমান কমিটির আরেকটি বড় সফলতা হলো তাদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বঙ্গবন্ধুর মুর্যাল ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ প্রতিষ্ঠা। এ মুর্যালটি গত ৭ জানুয়ারি মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ উদ্ধোধন করেন।

বর্তমান কমিটি ক্যাম্পাসে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ছাত্রদলের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করে। বর্তমান কমিটি দায়ীত্ব গ্রহণের পর ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের দৃশ্যমান কোনো তৎতপরা দেখা যায়নি। তবে গত ১৮ নভেম্বর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল মিছিল বের করলে ছাত্রলীগের ধাওয়ায় তারা পালিয়ে যায়। পরে এখন পর্যন্ত তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেনি।

তবে এসব সফলতার পাশাপাশি এ কমিটির সবথেকে বড় ব্যর্থতা এক বছরেও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি। উল্টো সাদ্দাম হোসেন হল ও দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। বর্তমানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাইরে কোনো নেতাকর্মীর পদ পদবি নেই। তাই তারা অনেকেই হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে।

আবার দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও কোনো ইউনিটের কমিটি না থাকায় দলের কর্মীদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। দলীয় কর্মীদের মধ্যে মারামারি নিত্য নৈমত্যিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দলের কিছু ঊশৃঙ্খল কর্মী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এমটি ঘটছে বলে মনে করেন সাবেক কমিটির একাধিন সিনিয়র নেতা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক কমিটির এক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতেই এ কমিটি পূণাঙ্গ করছে না তারা। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলে তাদের স্বেচ্ছাচারিতায় অনেক নেতাই তাদের সঙ্গে গ্রুপিং করবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া টাকা-পয়সার ভাগবাটোয়ারা এখন কাউকে দিতে হয় না।’

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম জাগো নিউজকে বলেন, গত এক বছরে আমাদের অনেক সফলতা রয়েছে। আমরা সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে সকল শিক্ষার্থীর মনিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেয়া হবে। পাশাপাশি হল ও ফ্যাকাল্টি কমিটিও করা হবে। ছাত্রলীগ অনেক বড় সংগঠন। এক জায়গায় এত কর্মী থাকলে মাঝে মধ্যে একটু মান অভিমান হতে পারে।