ফ্যাশন

বাংলাদেশের জাতীয় পোশাক কী?

ঢাকা , এপ্রিল , (ডেইলি টাইমস ২৪):

আমাদের সংস্কৃতি যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি বৈচিত্র্যতা রয়েছে আমাদের দৈনন্দিন পোশাকেও। যেমন মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত শ্রেণির পুরুষদের বেলায় জিন্স, গ্যাবার্ডিন বা ফরমাল প্যান্টের সঙ্গে পাঞ্জাবি, কিংবা স্যুটের মতো পোশাক পরতে দেখা যায়। আর নারীদের বেলায় কামিজ, শাড়ি, টপস কিংবা কুর্তির মতো পোশাক। তবে ইদানীং মেয়েদেরও প্যান্ট শার্ট পরতে দেখা যায়। আর দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী উপজাতিদের পোশাকের দিকে তাকালে দেখা মেলে ভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের।

আবার যখন একটু নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষের দিকে চোখ পড়ে, তখন দেখা যায় তারা লুঙ্গি-শাড়িকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। এত এত বাহারি পোশাকের বৈচিত্র্যের মধ্যে হঠাৎ প্রশ্ন জাগে, ‘বাংলাদেশের জাতীয় পোশাক কী?’

বাংলাদেশে বসবাসকারী পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। 

সেই প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে প্রিয়.কমের প্রতিনিধি ছুটে যান বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের কাছে। মোট ৬৭ জন নারী-পুরুষকে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষক, ডাক্তার, ছাত্র, প্রকৌশলী, আইনজীবী, ব্যাংকার ও সাংবাদিক। এই সাতটি পেশায় কর্মরত প্রায় প্রতি ১০ জনের কাছে হঠাৎ করেই জানতে চাওয়া হয় বাংলাদেশের জাতীয় পোশাক কী?

বিয়ের পোশাকে বর -কনে । 

আচমকা এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে, অনেককেই ইতস্তবোধ করতে দেখা গেছে। আর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় মোটামুটি সবাই নিজেদের দেওয়া উত্তর নিয়ে ছিলেন দ্বিধান্বিত। এবার তাহলে পড়া যেতে পারে বাংলাদেশের জাতীয় পোশাক নিয়ে কয়েকজনের মন্তব্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার জানামতে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কোনো জাতীয় পোশাক এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।’

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক রুবাইয়াৎ হক বলেন, ‘আমার মনে হয় বাংলাদেশের জাতীয় পোশাক লুঙ্গি ও শাড়ি।’

তরুণীর পরনে গাউন। 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেখ মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমার উত্তর কতটা সঠিক তা আমি নিশ্চিত নই। তবে ব্যক্তিগত অভিমত থেকে যদি বলি তাহলে নারীদের শাড়ি আর ছেলেদের পাঞ্জাবি/ফতুয়া, পায়জমা/লুঙ্গি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর বিভাগের ছাত্র নটবর পলাশ বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় পোশাক ছেলেদের লুঙ্গি আর শার্ট। মেয়েদের শাড়ি।’

তারেক মাহমুদ নামে এক আইনজীবী বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় পোশাক কী তা আমি জানতাম না। কিন্তু প্রশ্নটা শোনার পর গুগলে অনুসন্ধান করে জানলাম নারীদের শাড়ি আর পুরুষদের কোর্তা।’

বাংলাদেশের জাতীয় পোশাক কী, এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ৬৭ জন। তাদের উত্তর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়-

জাতীয় পোশাক কী তা জানেন না ১৬% (১১ জন) উত্তরদাতা।

৮% (ছয়জন) উত্তরদাতা বলেছেন বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট জাতীয় পোশাক নেই।

৯% (চারজন) উত্তরদাতা বলেছেন শার্ট-প্যান্ট ও শাড়ি।

১০% (সাতজন) উত্তরদাতা বলেছেন পায়জামা,পাঞ্জাবি ও শাড়ি।

১০% (সাতজন) উত্তরদাতা বলেছেন লুঙ্গি, পাঞ্জাবি ও শাড়ি।

৩৪% (২৩ জন) উত্তরদাতা বলেছেন লুঙ্গি ও শাড়ি।

১.৪% (একজন) উত্তরদাতা বলেছেন চাদর।

১.৪% (একজন) উত্তরদাতা বলেছেন ধুতি ও শাড়ি।

অন্যদিকে ১.৪% (একজন) উত্তরদাতা বলেছেন সুতি কাপড়ের যেকোনো ঢোলা-ঢালা পোশাক।

বাকি ৯% (ছয়জন) উত্তরদাতা বলেছেন বাংলাদেশের জাতীয় পোশাক লুঙ্গি, কোর্তা ও শাড়ি।

পুরুষটি পরেছেন প্যান্ট স্যুট আর নারী পরেছেন সুতি শাড়ি। 

৬৭ জন উত্তরদাতার মধ্যে ১০% (সাতজন) ছিলেন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক। অন্য উত্তরদাতার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক ছিলেন ১৫% (১০ জন) করে।

উত্তরদাতাদের ভিন্ন ভিন্ন উত্তরে বাংলাদেশের জাতীয় পোশাক কী তা যেন আরও গোলমেলে হয়ে গেল। প্রকৃতপক্ষেই জাতীয় পোশাক কী বা সরকারিভাবে জাতীয় পোশাক নির্ধারণ করা আছে কি না তা জানতে প্রিয়.কমের পক্ষ থেকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ১৪ মার্চ মুঠোফোনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমি এখন একটি অনুষ্ঠানে। তাই এখন কথা বলতে পারছি না। পরে কথা বলবো।’ পরে তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি।

সন্ধ্যায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে এক নারী ও শিশু। ছবি: ডন চৌধুরী

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পোশাক পরতে ভালোবাসেন এদেশের মানুষ। অবসরে বা বেড়াতে যাওয়ার বেলায় তরুণরা পরতে ভালোবাসে জিন্স, গ্যাবার্ডিনের সঙ্গে টি-শার্টের মতো পোশাক। তরুণীদের পছন্দের তালিকায় থাকে কুর্তি বা টপসের মতো পোশাক। আবার যখন অফিস-আদালতের দিকে তাকাই, তখন ফরমাল পোশাকের তালিকায় বেশিভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষরা ফরমাল প্যান্টের সঙ্গে পরছেন ফরমাল শার্ট। নারীরা বেছে নিয়েছেন সালোয়ার কামিজ, কেউবা আবার শাড়ি।

আবার যখন কোনো অনুষ্ঠান বা বিশেষ দিন উদযাপনেরর বিষয় আসে। তখন নারীরা শাড়িকে সবার আগে প্রাধান্য দেন। আর পুরুষরা পাঞ্জাবি, তার সঙ্গে জিন্স অথবা পায়জামা কিংবা ফ্যাশনেবল ধুতি। অনেকেই আবার কোট, টাই বা স্যুট।

Related Articles

Close