ফ্যাশন

সুরে সুরে শুরু বাটা ফ্যাশন উৎসব

ঢাকা , ০৬ মে, (ডেইলি টাইমস ২৪):

সুরে সুরেই শুরু হয়ে গেল দ্বিতীয় বাটা ফ্যাশন উইকেন্ড। ইতালির মিলান শহরের ভিয়া মোনতেনাপলিয়ানা এলাকায় আসা ক্রেতাদের চমকে দিয়েছে হার্প, গিটার আর পিয়ানোর সুর। শুক্রবার ‘দ্য সাউন্ড অব স্টাইল’ শিরোনামে বাটার আয়োজনে দুই দিনের ফ্যাশন উইকেন্ডের উদ্বোধন করা হয় বেশ ভিন্নভাবেই। এ সময় বিশ্বখ্যাত জুতা প্রস্তুতকারক বাটার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাসহ উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সাংবাদিক ও বাটা নির্বাচিত তারকারা (ইনফ্লুয়েনসার)।

বিশ্বব্যাপী প্রচারণায় গত বছর থেকেই বাটা বেছে নেয় ‘মি অ্যান্ড কমফোরটেবল উইথ ইট’ বিষয়টিকে। সেই বিষয়ের নকশা এ বছরও দেখা যাবে বাটার পণ্যে। আগামী আগস্টে বিশ্ববাজারে আসবে বাটার নতুন পণ্যসম্ভার বি-ফ্লেক্স। সেটারও একঝলক দেখা গেল এখানে।

এই ফ্যাশন আয়োজনের মাধ্যমে বাটার নতুন সংগ্রহ ‘রেড লেবেল’ তুলে ধরা হয় ক্রেতাদের সামনে। জানিয়ে দেওয়া হয়, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়ে যেতে হবে। যে যেমন আছে, নিজেকে সেভাবেই তুলে ধরা হোক। ফ্যাশনেবল হওয়ার জন্য ফ্যাশন ম্যাগাজিনের আদর্শ মডেলদের মতো শারীরিক গঠন থাকতে হবে, এই ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। নারীত্বের প্রতি সম্মান জানাতে, তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্যই বাটার এই উদ্যোগ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিল না কোনো বক্তৃতা, কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। ভিয়া মোনতেনাপলিয়ানার লম্বা সড়ক দুই পাশে বাটাসহ নানা ব্র্যান্ডের দোকান। সেই সড়কেই নাচের তালে গানের সুরে সুরে ক্রেতাদের মুগ্ধ করেছেন শিল্পীরা। গানই পারে বাধাহীনভাবে বিভিন্ন দেশের সীমানা পেরোতে। দ্য সাউন্ড অব স্টাইল শিরোনামটি যেন এ কারণেই বেছে নেওয়া।

অনুষ্ঠান শেষে বাটার গ্লোবাল চিফ মার্কেটিং অফিসার থমাস আরচার বাটার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাওয়া গেল হঠাৎ করেই। ১২৪ বছর বয়সী বাটার এই ফ্যাশন আয়োজন করার পেছনে তাঁর অবদানই মূল।

নতুনভাবে বাটার পণ্য পরিবেশনের কারণ জানতে চাইলে থমাস আরচার বাটা বলেন, আরামদায়ক জুতা হওয়ায় বয়স্কদের জুতা হিসেবেই বাটা মূলত পরিচিত। তরুণদের আকর্ষণ করতে গেলে আরামের সঙ্গে স্টাইলটাও লাগবে। তবে সেই স্টাইল কখনোই ব্যক্তিসত্তাকে উপেক্ষা করে না। বাটা এখন সেদিকেই নজর দিচ্ছে। সৃজনশীল চিন্তা আর নকশার মাধ্যমে জুতা তৈরি হচ্ছে।

বাটার আরেকটা বড় পরিচয়, গোটা দুনিয়ার ক্রেতাদের কাছে এটি ‘স্থানীয় ব্র্যান্ড’। অনেক দেশের মানুষই জানে না, বাটা আন্তর্জাতিক। এর উৎপত্তি চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগে ১৮৯৪ সালে। প্রতিষ্ঠাতা থমাস বাটার হাত ধরে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠান মূলত পারিবারিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।

চতুর্থ প্রজন্ম হিসেবে থমাস আরচার বাটা স্থানীয়ভাবে বাটার পরিচিতি পাওয়াকে ইতিবাচকভাবেই দেখেন। তিনি বলেন, ‘এশিয়ার অনেক দেশে এখনো স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্যাশনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। বাইরের নতুন কোনো পণ্য স্থানীয়ভাবে পাওয়া গেলে সেটার প্রতি আগ্রহ জন্মানো স্বাভাবিক। বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড প্রবেশ করছে এবং ফ্যাশনপ্রেমীরা তা গ্রহণও করছে। আমরা চাই বাটা সেই কাজটা করুক। গবেষণা, বাজার জরিপের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পরিবর্তনগুলো আনছি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও হয়তো বাটা ফ্যাশন উইকেন্ডের আয়োজন করা হবে।’

আরো সংবাদ...