ধর্ম ও জীবন

রাসূলের কাছ থেকে দ্বীনের শিক্ষা

ঢাকা , ১২ মে, (ডেইলি টাইমস ২৪):  

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এটাই চিরন্তন বিধান যে, বনী আদম পৃথিবীতে আগমন করবে একই পথ ও পন্থায়। দুনিয়ার বুকে পা রেখেছি যখন আমি আমরা; সকলেই একই পথ দিয়ে এসেছি। এসেছি বিবস্ত্র হয়ে, উদোম গায়ে। কিন্তু অতীত ইতিহাসে এ ধরায় এমন এক মহামানবের আবির্ভাব ঘটেছিল যিনি দুনিয়াতে আসার পর থেকে আবার চলে যাবার ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কেউ তাকে বিবস্ত্র দেখেনি। নাভি থেকে হাঁটু অবধি এমনই অদৃশ্য আড়াল ছিল যে, প্রসবের সময় ধাত্রীও তার লজ্জাস্থান দেখেনি। সেই মহামানব, সেই লাজুকলতা আর কেউ নন স্বয়ং রাসূলে কারীম (সা.) । তিনি এতটাই লাজুক প্রকৃতির মানুষ ছিলেন যার উদাহরণ পৃথিবীতে আর দুটো মেলে না। যার ব্যাপারে সহধর্মিনীর স্পষ্ট বক্তব্য হলো- আমিও কোনদিন স্বামীর লজ্জাস্থান দেখিনি। রাসূল (সা.) বলেছেন― লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। অন্যত্র ইরশাদ করেন― তোমার লজ্জাই যদি না থাকে তাহলে যা ইচ্ছে তাই করতে পার।

রাসূলের জীবনের একদিনের বিশেষ ঘটনা

শৈশবে একবার রাসূল (সা.) এর অসতর্কে লুঙ্গি খুলে গেল। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বেহুঁশ ও অবচেতন হয়ে গিয়েছিলেন। কতটা লাজুক হলে মানুষ এমন বেহুঁশ হতে পারে! আরেকদিনের ঘটনা—একদা উমর ফারুক (রা.) বিশ্রাম করার নিমিত্তে বসে আছেন। পাশ দিয়ে রাসূল (সা.) অতিক্রম করছিলেন। উমরের দিকে দৃষ্টি পড়তেই চোখ ঘুরিয়ে বললেন―‘উমর, তোমার ঊরু ঢেকে নাও।’

জেনে রাখা ভালো

হাঁটু পুরুষের সতর। সে যুগে কাপড় পর্যাপ্ত ছিল না। তবুও রাসূল (সা.) সতর ঢাকতে কোনরূপ বেগ পেতে হয়নি।

হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বলেন― ‘আমরা যখন স্বামী-স্ত্রী একান্তে সময় কাটাতাম তখন রাসূল (সা.) পাতলা চাদর গায়ে জড়িয়ে নিতেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, সহবাসের সময় দ্বিতীয় ব্যক্তি সেখানে থাকবে না, থাকতে পারে না, থাকা সঙ্গতও নয়। তবুও রাসূল (সা.) চাদর জড়িয়ে নিতেন। লজ্জাশীলতা মানুষের কত বড় গুণ, জীবনে তার বাস্তবতা কতটা প্রয়োজনীয় রাসূল (সা.) তার জ্বলন্ত নমুনা। উম্মতকে অক্ষরে অক্ষরে শিখিয়ে গেছেন। কোনো কিছুই শেখাতে বাদ রাখেননি। লজ্জার বিষয়গুলোও উম্মতকে শেখাতে লজ্জা করেননি। তবে লজ্জার সবক পড়িয়ে গেছেন মহব্বতের উম্মতদেরকে। কারণ রাসূল তো উম্মতের সবচে’ বড় শিক্ষাগুরু। সবার চেয়ে বড় জ্ঞানী শিক্ষক।

আরো সংবাদ...