ফ্যাশন

ঈদে চাই ভিন্ন ধাঁচের শাড়ি

ঢাকা , ৩০ মে, (ডেইলি টাইমস ২৪):

শাড়ির পাড়ের কাজটা ভালো, কিন্তু আঁচলের ডিজাইনটা এমন না হলে ভালো হতো। আরে, শাড়ির জমিনটা তো কেমন যেন, পেটানো জমিন দেখান। এই হলো ঈদবাজারের শাড়ির ক্রেতাদের অবস্থা। ধানমন্ডির রাপা প্লাজায় একজন বিক্রেতা বলেই ফেললেন, ‘শাড়ি কিনতে আইস্যা সবাই দেখি ডিজাইনার হইয়্যা গেছেন।’

রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানের বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এবার ক্রেতার নজর কাতান এবং একটু ভিন্ন ধরনের শাড়ির দিকে।

গতকাল মঙ্গলবার রাপা প্লাজায় ময়ূরী শাড়িঘর থেকে গৃহিণী হুমায়রা আক্তার একটি কাতান কিনলেন ৭ হাজার ৮০০ টাকায়। তিনি জানালেন, এবার ঠিক করেই রেখেছিলেন, ঈদে কাতান কিনবেন।

রাপা প্লাজার ডায়না শাড়ির দোকানের বিক্রয়কর্মী রাজেশ কুমার দাস ১৪ হাজার ৫০০ টাকার বেনারসি কাতান দেখিয়ে বললেন, ক্রেতারা এবার এই ধরনের শাড়ি পছন্দ করছেন। এর বাইরে সিল্ক কাতান, চেন্নাই কাতান, আর্নি কাতানের চাহিদাও আছে।

জ্যোতি শাড়ির সেলস এক্সিকিউটিভ হারুন উর রশীদও জানালেন, ক্রেতারা ট্র্যাডিশনাল কাতান চাচ্ছেন। বিভিন্ন কাতানের দাম ৩ থেকে শুরু করে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। খাড্ডি, মনপুরার মতো কাতানও এবার ঈদে বেশ চলছে।

তবে বিভিন্ন বিপণিবিতানের বিক্রেতাদের মুখে তেমন একটা হাসি নেই। তাঁদের ভাষায়, ক্রেতার চাহিদার সব শাড়ি সাজিয়ে বসে আছেন। কিন্তু ক্রেতার দেখাই তো তেমন একটা মিলছে না। বৃষ্টি, রাস্তাঘাটে পানি, মাসের শেষ, যানজট, অলিগলিতে বিপণিবিতানের ছড়াছড়ি—সবকিছুকেই দায়ী করছেন তাঁরা। ১০ বা ১৫ রোজার দিকে পরিস্থিতি পাল্টাবে বলেই বিক্রেতাদের আশা।

বসুন্ধরা শপিং মলের সিল্ক হাউসের বিক্রয়কর্মী বশির আহমেদ তাঁর দোকানের বিভিন্ন ক্যাটালগ দেখিয়ে জানালেন, চেন্নাই সিল্কের শাড়ির জমিন ও কুঁচিতে দুই রং ব্যবহার করা হয়েছে। কুঁচির প্রিন্টের সঙ্গে মিলিয়ে ব্লাউজ পিস করা হয়েছে। আরেকটি শাড়ি দেখিয়ে জানালেন, শাড়ির জমিন শিফন কাপড়ের আর পাড় লাগানো হয়েছে সাটিন কাপড় দিয়ে। এ শাড়ির সঙ্গে সিল্কের ব্লাউজ পিস আছে।

যে ক্রেতারা একটু ভিন্ন ধাঁচের কিছু চাচ্ছেন, তাঁরা ঢুঁ দিচ্ছেন বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব নকশা ফ্যাশন হাউস সাদাকালোর শাড়ি ও বিভিন্ন পোশাকে স্থান পেয়েছে।

সাদাকালোর জ্যেষ্ঠ বিক্রয়কর্মী হালিমা আক্তার জানালেন, ‘ট্রাইবাল মোটিফ’কে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যই এবারের এই আয়োজন। মসলিনে এমব্রয়ডারি, হাফসিল্কে হাতের কাজসহ ‘এক্সক্লুসিভ’ শাড়ি ক্রেতারা বেশি পছন্দ করছেন। মসলিনের শাড়ি ৪ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। শৌখিন ক্রেতাদের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবসা করা ব্যবসায়ীরা। সাভেরী’স ক্লথিং লাইনের স্বত্বাধিকারী কাকলী তানভীর জানালেন, তিনি মূলত ভারতের কলকাতা, ওডিশা, শান্তিনিকেতন ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন শাড়ি যেমন জয়পুরী কলামকারী, মসলিন, গাদোয়াল, সম্বলপুরী, ওডিশার তসর, ইক্কাত, শান্তিনিকেতনী বাটিক, খাদিসহ বিভিন্ন শাড়ি বিক্রি করছেন। এসব শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে গয়নাও পাওয়া যাচ্ছে।

ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসা ফারজানা’স বুটিকের স্বত্বাধিকারী ফারজানা চৌধুরীর মতে, শাড়ি মানেই ক্রেতারা ভিন্ন কিছু চান। ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে সিল্কের শাড়িতে ভেজিটেবল ডাই করা হয়েছে। অ্যান্ডি আর জামদানির মিশেলে তৈরি করা হয়েছে ভিন্ন মাত্রার শাড়ি। এ ছাড়া নিজস্ব তাঁতিকে দিয়ে বোনানো জামদানি বা টিস্যু কাপড়ে ডাইসহ একটু অন্য ধরনের শাড়িও পছন্দ করছেন ক্রেতারা।

আরো সংবাদ...