ফ্যাশন

‘পদ্মাবতী’ পোশাকের দাম সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ হাজার টাকা

ঢাকা , ৩১ মে, (ডেইলি টাইমস ২৪):

ভারতের বিখ্যাত পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালির ছবি পদ্মাবত বিতর্কে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। বিশাল বাজেটের এই সিনেমার নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোন। পদ্মাবত সিনেমায় তিনি রানি, নাম পদ্মাবতী। সিনেমায় দীপিকা যে পোশাক পরেছেন, তাই বাংলাদেশের ঈদবাজারে ‘পদ্মাবতী’ নামে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। অনেকটা লেহেঙ্গার মতো দেখতে মেয়েদের এই পোশাকের দাম সর্বোচ্চ সাড়ে আট হাজার টাকা।

রাজধানীর বড় বিপণিবিতান বসুন্ধরা শপিং মলের পোশাকের দোকান অর্নিমা সিটির জ্যেষ্ঠ বিক্রয়কর্মী আবুল ফজল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই যে দীপিকা যে ড্রেস পরেছিলেন, তার নামই তো পদ্মাবতী। এইবার তো পদ্মাবতী খুব হিট। শুধু বড় না, ছোটদের জন্যও এই পোশাক আসছে। ভারত থেকে পদ্মাবতী নামেই এই পোশাক পাঠাচ্ছে।’

বসুন্ধরা সিটিরই আরেকটি পোশাকের দোকান তানহা সিটির মালিক মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, বিক্রি বাড়ানোর জন্য অনেক ব্যবসায়ী ফন্দি করে ভারতের বিভিন্ন জনপ্রিয় সিনেমা ও সিরিয়ালের নায়িকাদের নামের সঙ্গে মিল রেখে পোশাকের নামকরণ করেন। আবার অনেক ক্রেতা বাংলাদেশের পোশাক শুনলে ভ্রু কুঁচকান। তাই ব্যবসায়ীরাও ক্রেতাদের ইচ্ছা পূরণের জন্য স্টার জলসাসহ ভারতের বিভিন্ন চ্যানেলে জনপ্রিয় হওয়া ধারাবাহিকের কোনো চরিত্রের নামে পোশাকের বাহারি নাম দেন।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেল, কিছু ক্রেতা ছুটছেন পদ্মাবতীর মতো নাম দেওয়া পোশাকের পেছনে, আবার কিছু ক্রেতা হাওয়ায় গা না ভাসিয়ে খুঁজছেন পছন্দের দেশীয় পোশাক। এবার কামিজের পাশাপাশি লম্বা গাউনের দাপট চলছে। চলছে লং কটি, লেহেঙ্গাও।

আড়ং বরাবরের মতো এবারও এনেছে ‘এক্সক্লুসিভ’ পোশাক। বসুন্ধরা সিটির আড়ংয়ের বিক্রয়কর্মী তিথি বিশ্বাস বলেন, শহরের বিভিন্ন রাস্তার পাশে বিলবোর্ডে বা আড়ংয়ের ফটোশুটে ব্যবহার করা পোশাকগুলোই ক্রেতারা বেশি চাইছেন। হাতের কাজের প্রাধান্য দেওয়া এসব পোশাক পছন্দ করছেন তরুণীরা। এসব পোশাক পাঁচ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বরাবরের মতো এবারও কিশোরীদের পছন্দ আড়ংয়ের ‘তাগা’। এসব পোশাকে হাতের বিভিন্ন জায়গায় কুঁচি দেওয়া আবার কোনোটার হাতার মাঝখানে অনেকটুকু জায়গা ফাঁকা। কোনোটায় ঝালর দেওয়া।

আড়ংয়ের পোশাকের বাহারি কোনো নাম নেই। বিক্রয়কর্মীরা বলেন, সালোয়ার স্বাভাবিক হলে তার নাম এসকেডি, সালোয়ার প্যান্ট কাট হলে তার নাম পিকেডি বা চুড়িদার হলে নাম দেওয়া হয় সিকেডি।

ফ্যাশন হাউস বিশ্বরঙ মা ও মেয়ের জন্য ম্যাচিং (একই রকমের) সালোয়ার-কামিজ এনেছে। সাড়ে চার হাজার টাকায় মিলবে মা ও মেয়ের পোশাক। ফ্যাশন হাউসের ব্যবস্থাপক মানিক ইসলাম বলেন, কম বয়সী মেয়েরা লম্বা কটি লাগানো পোশাক বেশি পছন্দ করে। গাউন পছন্দ প্রায় সব বয়সী ক্রেতার। গাউন সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান স্নোটেক্সের নতুন ব্র্যান্ড সারা লাইফস্টাইল লিমিটেড ঈদপোশাকে লন ও সুতি কাপড়কে প্রাধান্য দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির হেড অব ডিজাইনার কাশফিয়া নেহরীন হোসেন বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে সালোয়ার-কামিজ কিনতে পারবেন ক্রেতারা।

ফ্যাশন হাউস নিপুণ থেকে ঈদের পোশাক কিনেছেন প্রকৌশলী নাজিয়া নাসরীন। তিনি বলেন, এবারের ঈদে বর্ষা ও গরম থাকবে। দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে পোশাক বানায়। পোশাকের রং বাছাই করে আবহাওয়া অনুযায়ী। তাই ঈদ বা অন্য কোনো উৎসবে দেশীয় ফ্যাশন হাউসের কোনো বিকল্প নেই।

আরো সংবাদ...