জাতীয়

রেমিট্যান্সে ভ্যাট-ট্যাক্স আরোপ হয়নি, গুজব ছড়ানো হচ্ছে

ঢাকা , জুন , (ডেইলি টাইমস ২৪):

প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের টাকার ওপর বাজেটে নতুন করে ভ্যাট-ট্যাক্স আরোপ করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক প্রচারণা চলছে। এ নিয়ে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভ্যাট-ট্যাক্স আরোপ সংক্রান্ত এ তথ্যটি সঠিক নয়। বাজেটের অর্থ বিলসহ অন্যান্য ডকুমেন্ট পর্যালোচনা করে এমন কোন ধরনের ভ্যাট কিংবা আয়কর আরোপের প্রস্তাবের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বাজেট সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে তারাও জানিয়েছেন, এ তথ্যটি সঠিক নয়। তাদের ধারণা, কোন একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। তারা জানান, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে কোন ধরনের ভ্যাট-ট্যাক্স এখন পরিশোধ করতে হয়না। কেবল অর্থ পাঠানোর সময় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে প্রযোজ্য হারে চার্জ পরিশোধ করতে হয়।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ কেউ লিখছেন, দেশে বছরে দুই লাখ টাকার উপরে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ ভিন্ন ভিন্ন অঙ্কও লিখছেন। এ নিয়ে প্রবাসীরা অর্থমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনাও করছেন। কেউ কেউ ঘোষণাই দিয়ে বসেছেন, এখন থেকে আর ব্যাংকে নয়, টাকা পাঠাবেন হুন্ডি কিংবা বিকাশের মাধ্যমে।
বিষয়টি নিয়ে নানামুখী আলোচনা সমালোচনার পর বুধবার গণমাধ্যমে এনবিআর একটি ব্যাখ্যা পাঠিয়েছে। তাতে বলা হয়, বিদেশ থেকে প্রেরিত রেমিটেন্সের উপর ভ্যাট আরোপিত হয়েছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব। দেশের বৈধ রেমিটেন্সপ্রবাহ বন্ধ করে হুন্ডির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণের অপপ্রয়াস হিসাবে এ প্রচারণা চালানো হতে পারে মর্মে এনবিআর মনে করে।
এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে ভ্যাট-ট্যাক্স আরোপের প্রচারণাকে গুজব বলে জানিয়েছেন। বুধবার তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলেন, প্রবাসী ভাইয়েরা গুজবে কান দেবেন না। এই বাজেটে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ওপর কোনো ভ্যাট বা ট্যাক্স আরোপ করা হয়নি। এরকম কোনো আলোচনাও কোথাও হয়নি। পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরো সংবাদ...