খেলাধুলা

বিশ্বকাপে ‘অলিম্পিক গোল’ দেখেছেন?

ঢাকা , জুন , (ডেইলি টাইমস ২৪):

রেনে হিগুইতাকে লোকে ডাকত ‘ম্যাডম্যান’। সেটা কলম্বিয়ার গোলপোস্ট ছেড়ে ‘সুইপার কিপার’-এর ভূমিকা নেওয়ার জন্য। ১৯৯০ বিশ্বকাপে এই দৃশ্য দেখা গেছে প্রায়ই। এ ছাড়া ‘স্করপিওন কিক’-এর মাধ্যমে তাঁর গোল ‘সেভ’ করাও মনে রেখেছেন অনেকে। আর কার্লোস ভালদারেমা? সেই যে, সোনালি রঙে চুলের জঙ্গল মাথায় নিয়ে ঘোরা মিডফিল্ডার। কলম্বিয়া দলে তাঁর সতীর্থ ছিলেন আন্দ্রেস এসকোবার। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের জন্য যাকে জীবন দিতে হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের পর্দায় কলম্বিয়া রঙিন দল হলেও সাফল্যের খেরোখাতায় তাঁরা এখনো বেশ সাদামাটাই।
গত বিশ্বকাপে তাঁরা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে। বিশ্বকাপে এটাই কলম্বিয়ার সেরা সাফল্য। শেষ আটে উঠে আসার পথে তাঁরা শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ২-০ গোলে হারিয়েছে উরুগুয়েকে। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটিই কলম্বিয়ার একমাত্র জয়!
কলম্বিয়া বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে প্রথম খেলেছে চিলি বিশ্বকাপে (১৯৬২)। সেবার গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচে দলটি জয়ের মুখ না দেখলেও বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছিলেন একজন খেলোয়াড়—মার্কোস কোল। সেটা ছিল কলম্বিয়ার দ্বিতীয় ম্যাচ, প্রতিপক্ষ লেভ ইয়াসিনের সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। কলম্বিয়ানদের তুলনায় ইউরোপিয়ান এ দলটির বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই দীর্ঘদেহী। ম্যাচের সেই সময় কলম্বিয়া ৪-১ গোলে পিছিয়ে ছিল। তাই ৬৮ মিনিটে পাওয়া কর্নার কীভাবে কাজে লাগাবেন সেটাই ভাবছিলেন কোল। কলম্বিয়ান এই মিডফিল্ডারের মাথায় হঠাৎ একটা বুদ্ধি খেলে গেল। সরাসরি গোলপোস্টে মারলে কেমন হয়!
ইয়াসিন নিজের গোললাইন থেকে একটু সামনে ছিলেন। হয়তো ভেবেছিলেন এটাও আর দশটা রুটিন কর্নারের মতো হবে। কিন্তু কোলের মাপা শট ইয়াসিনের সামনের গোলপোস্ট ফাঁকি দিয়ে ঢুকে পড়ে জালে! ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত ৪-৪ গোলে ড্র হয় এবং ইয়াসিনের মতো কিংবদন্তি গোলরক্ষককেও সেই গোলের জন্য সমালোচনা সইতে হয়েছিল। সে যাই হোক, কর্নার থেকে কোলের সেই গোলটা বিশ্বকাপের ইতিহাসে আজও পর্যন্ত একমাত্র ‘অলিম্পিক গোল’ (কর্নার থেকে সরাসরি গোল)।
এখানে বলে রাখা ভালো, গত বছর না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো কোল মিডফিল্ডার হিসেবে তেমন খ্যাতি কুড়োতে না পারলেও দারুণ এক রেকর্ড গড়ে গেছেন। ফুটবলের পরিসংখ্যানবিদদের মতে, পেশাদার ফুটবলে সর্বোচ্চ ৩২টি ‘অলিম্পিক গোল’ করেছেন এই কোল।
আচ্ছা, ইন্দোনেশিয়া কখনো বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে খেলেছে? মাথা চুলকানোর দরকার নেই। এই প্রশ্নের জবাবে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’—দুটো জবাবই সঠিক। বলতে গেলে, এশিয়া থেকে সবার আগে বিশ্বকাপে খেলেছে ইন্দোনেশিয়া। সেটা ১৯৩৮ বিশ্বকাপে। কিন্তু তখন তাঁদের নাম ছিল ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ। ওই একবারই বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে খেলেছে ইন্দোনেশিয়া। হাঙ্গেরির বিপক্ষে ৬-০ গোলে হেরেছিল দলটি—বিশ্বকাপে এটি আজও ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র ম্যাচ হয়ে আছে। কারণ সেই বিশ্বকাপটা ছিল নকআউট সংস্করণের।
বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ১৬টি দেশ আয়োজক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এর মধ্যে ২০১০ সালে একমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকাই স্বাগতিক দেশ হয়েও গ্রুপপর্ব পারি দিতে পারেনি। আর কে না জানে, ফুটবলে গোটা বিশ্বকে মাত রাখার মতো টুর্নামেন্ট একটাই—বিশ্বকাপ!

আরো সংবাদ...