সেলফোন ফেসবুক সেলফি: চলতি পথে কেন?

ঢাকা , ২১ জুন , (ডেইলি টাইমস ২৪):

বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির যে বিপ্লব সাধিত হয়েছে এর কুফলও ভোগ করছে মানুষ। প্রায়ই খবরের শিরোনাম হয় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু।

এসব মৃত্যুর বেশিরভাগ কারণ হিসেবে দেখা যায়, মোবাইলে কথা বলতে বলতে ট্রেনে কাটা পড়ে কিংবা সেলফি তুলতে তুলতে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু। এছাড়া দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অসতর্কতা আর মোবাইল ফোনে কথা বলা, রেললাইন ধরে অসতর্কভাবে হাঁটা, কানে হেডফোন লাগিয়ে রেললাইনের পাশ দিয়ে যাতায়াত করা, তাড়াহুড়া করে রেলক্রসিং পার হওয়া এবং চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

দুই.
আপনি বাসে বসে মোবাইলে ফেসবুক চালাচ্ছেন। বাসে প্রচণ্ড ভিড়। আপনি যে সিটে বসে ফেসবুক চালাচ্ছেন, তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা আপনার ফেসবুক দেখতে পাচ্ছেন। আপনার চ্যাটিং তাদের অনায়াসে চোখে পড়ে। অনেক সময় আপনি ব্যক্তিগত বিষয় ফেসবুকে কারো সঙ্গে চ্যাটিং করছেন, তাও পাশের যাত্রী কিংবা দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী জেনে যাচ্ছেন। এসব কারণে চলতি পথে সাবধানে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা উচিত।

তিন.
শায়লা একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। প্রতিদিন সে বাসে যাতায়াত করে। একদিন অফিস থেকে বাসে বাসায় ফিরছিলেন। জ্যামে বসে পথে ফেসবুক নোটিফিকেশন দেখছিলেন। এমন সময় জানালা দিয়ে তার মোবাইল ছিনতাইকারী হাত থেকে নিয়ে দৌড়ে চলে যায়।

কিছুদিন আগের ঘটনা। অফিস থেকে বাসায় যাচ্ছি। পথে কয়েকজন যাত্রী উঠলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন নারী। তাদের সবার হাতেই স্মার্ট ফোন। কিছুক্ষণ যাবার পর দুই নারীর মধ্যে একজনের মোবাইল ফোনে কল এলো। দেখলাম তিনি ফোন ধরলেন এবং কথা শুরু করলেন। বাস যাচ্ছে। তিনি কথা বলেই যাচ্ছেন। এক পর্যায়ে বাস কতদূর এলো কোনো খেয়াল নেই তার। তার গন্তব্য অতিক্রম করলে ওই নারীর হুঁশ হলো এবং কান থেকে ফোন সরিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগলেন, আমি তো নামব। বাসের যাত্রীরা সবাই অবাক তার এই কাণ্ড দেখে।

প্রায়ই দেখা যায় বাসে ঝুলে হোক কিংবা গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকা একটি স্থানে অনেকেই মোবাইল ফোনে গল্প করেন। প্রিয়জনের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথা বলেন। কিন্তু পাশের যাত্রীর কাছে হতে পারে তা বিরক্তিকর। তাই এমন অবস্থায় ফোনে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। আপনার একান্ত কথা মানুষের সামনে মোবাইল ফোনে না বলাই ভালো।

গত ১৮ জুনের পত্রিকার অনলাইন ভার্সনগুলোতে প্রকাশিত খবর, ‘সেলফি তুলতে প্রাণ গেল বাবাসহ দুই মেয়ে’। খবরে বলা হয়, সেলফি তুলতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেলেন বাবা ও দুই মেয়ে। নরসিংদী সদর উপজেলায় পুরানপাড়া রেল সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তিনজন হলেন হাফিজ মিয়া, তার দুই মেয়ে তারিন ও তুলি । হাফিজ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া গ্রামের জহুরুল হকের ছেলে। নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি পুরানপাড়া রেল সেতুর কাছে পৌঁছালে হাফিজ তার মেয়েদের নিয়ে ট্রেনসহ সেলফি তোলার চেষ্টা করেন। এ সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

প্রিয় পাঠক, একবার চিন্তা করে দেখুন, যাত্রার সময় কী আমাদের খুব বেশি ফোনে কথা বলা উচিত? যেখানে গন্তব্য, অথচ দেখা গেল, ফোনে কথা বলতে বলতে আপনি গন্তব্য ছাড়িয়ে আরো দূরে চলে গেলেন, আশপাশে কী হচ্ছে তা ভাবার বা দেখার কোনো চিন্তা নেই। আপনি হেডফোন কানে দিয়ে রেললাইন পার হচ্ছেন, খেয়াল নেই বিপরীত দিক থেকে ট্রেন আসছে, তখন কী হবে? কিংবা আপনি রেললাইনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছেন, তখন ট্রেন এসে আপনাকে ধাক্কা দিল- তখন ব্যাপারটা কী দাঁড়াবে? তাই চলতিপথে সেলফোন, ফেসবুক ও সেলফি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা জরুরি।