ফ্যাশন

বিশ্বকাপে চুলের খেলা

ঢাকা , ১ জুলাই , (ডেইলি টাইমস ২৪):

বিশ্ব এখন ভুগছে বিশ্বকাপ ঝড়ে। ফেসবুকে বিপক্ষ দলের সমর্থকদের মধ্যে চলছে ‘চুলোচুলি’। টিভি, পত্রিকায় ফুটবলারদের খেলা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এত কিছুর মধ্যেও যা এড়ানো যাচ্ছে না, তা হলো ফুটবলারদের চুলের স্টাইল। ঢাকার অ্যাডোনিজ মেকওভার সেলুনের চুলসজ্জা বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ হোসেন জানালেন, ছেলেরা শুধু বিশ্বকাপের সময় নয়, বছরজুড়েই প্রিয় ফুটবলারদের চুলের স্টাইল অনুসরণ করেন। বাংলাদেশে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চুলের ছাঁট বেশি জনপ্রিয়। পছন্দের ফুটবল তারকার চুলের ছাঁট একটু এদিক-ওদিক করে নিজের মুখের সঙ্গে মানানসই কাটও দেন অনেকে। দেখা যাক কোন ফুটবলারের চুলের স্টাইল কেমন। কাদের চুল নজর কাড়ছে এবারের ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এ।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

পর্তুগালের ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে বেশির ভাগ সময়ে স্পাইক করা চুলেই দেখা যায়। হেয়ার জেলও তাঁর পছন্দের প্রসাধনী। এ ছাড়া মাথার দুই পাশের চুল ছোট করে ছেঁটে মাঝখানের অংশে নানা রকম কাটও দিতে দেখা গেছে। সুদর্শন এই ফুটবলার যখন যে কাট দেন, সেটিই হয়ে যায় চলতি টেন্ড। রোনালদোর এখনকার চুলের ছাঁটটি গরমের জন্য আদর্শ। বাজ কাট, ক্রু কাট আর হাই হার্ড পার্ট কাট মিলিয়ে মিশিয়ে আছে তাঁর চুলের নতুন ছাঁটে। বাংলাদেশে এটি স্লিক বাজ কাট বা রোনালদো কাট নামেই পরিচিতি পেয়েছে।

 জেরার্ড পিকে

জেরার্ড পিকে

খেলা, ব্যক্তিত্ব আর দর্শন তিনটাতেই তিনি অর্জন করেছেন নামডাক। তাঁর গাঢ় বাদামি চুলের তো জুড়ি নেই। সেই চুলে এবার পিকে দিয়েছেন স্পাইকিòক্রু ছাঁট। সেই সঙ্গে মাথার দুই পাশে কানের কাছে হালকা ফেড ছাঁটও দিয়েছেন। স্পেনর তারকা ফুটবলার পিকের লম্বাটে চেহারার সঙ্গে মানিয়েছে বেশ।

 লিওনেল মেসি

লিওনেল মেসি

চুলের ছাঁট নিয়ে খুব বেশি নিরীক্ষা করেন না আর্জেন্টাইন ফুটবলার লিওনেল মেসি। আগে ছিল বড় চুলের শখ। কিন্তু ছোট করে ছাঁটার পর প্রায় একই ধরনের চুলের স্টাইলেই দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ছাঁট না বদলালেও চুলের রং অবশ্য পাল্টান তিনি। এখন চুলে প্লাটিনাম ব্লন্ড করিয়েছেন।

 নেইমার

নেইমার

ব্রাজিলীয় ফুটবলার নেইমারকে ‘স্টাইল আইকন’ মানা হয়। প্যারিসে নানা ফ্যাশন শোয়ের র‍্যাম্পেও প্রায় হাঁটতে দেখা যায় তাঁকে। পোশাক তো আছেই, নেইমার নানা রকম চুলের ছাঁট দিয়েও ফ্যাশনপ্রেমীদের সামনে নতুন ধারার দুয়ার খুলে দেন বারবার। তবে এবারের বিশ্বকাপে নেইমারের চুলের ছাঁট নিয়ে সমালোচনাই হয়েছে বেশি। নুডলসের সঙ্গে তাঁর চুলের তুলনা করার পরে সম্প্রতি সেই ছাঁট পরিবর্তন করেছেন ব্রাজিলের এই ফুটবলার। মাথার মাঝখানের অংশের চুলের সোনালি রং অবশ্য রয়েই গেছে।

সার্জিয়ো র‍্যামোস

সার্জিয়ো র‍্যামোস

স্টাইলের ক্ষেত্রে স্প্যানিস ফুটবলার সার্জিয়ো র‍্যামোসের সঙ্গে অনেকেই ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যামের তুলনা করেন। দুজনের ফ্যাশনবোধই পরিপাটি ধরনের। এর মধ্যেই চলে আসে একটা ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ ভাব। কিছুদিন পরপরই চুলের সাজে পরিবর্তন আনেন র‍্যামোস। বেশির ভাগ সময়েই জনপ্রিয়তা পায় সেগুলো। এখন যেমন এই তারকা বেছে নিয়েছেন বাজ কাট। বলতেই হবে, খুব সাধারণ স্টাইলেও তিনি সুদর্শন। এই তারকার এখনকার চুলের ছাঁটের নাম ‘স্লিক ব্যাক শর্ট অ্যন্ড সাইডস’।

 পাওলো দিবালা

পাওলো দিবালা

আর্জেন্টিনার এ তরুণ খেলোয়াড় শুধু খেলা দিয়ে নয়, নিজের পুরুষালি ব্যক্তিত্ব দিয়ে জয় করেছেন লাখো হৃদয়। আহামরি কোনো কাটছাঁট না। খুব গড়পড়তা স্টাইল দিয়েই দিবালা নজর কেড়েছেন সবার। দুই পাশে কানের ওপরের অংশের চুল রেজর দিয়ে একেবারেই ছাঁটা, আর মাঝে চুল খানিকটা লম্বা। রেজর দিয়ে ছাঁটা পেছনের চুল। সামনের লম্বা চুলগুলো হালকা ছাঁটা। ব্যস, এই হলো দিবালার চুলের ছাঁট, ঠিক যেন সদ্যই পাশের বাড়ির কলেজের গণ্ডি পেরোনো সোজাসাপ্টা ছেলে!

 টনি ক্রুস

টনি ক্রুস

সোনালি চুলের এই জার্মান ফুটবল তারকা লম্বা সময় ধরেই শর্ট স্পাইক চুলের স্টাইল নিয়ে আছেন। মোহক স্টাইলের মতো মাথার দুই পাশে কানের ওপরের অংশ ছোট করে ছাঁটা। তবে সেটা আবার রেজর শার্প মোহকের মতো পুরোটাই চাঁছাছোলা নয়। কিছুটা চুল থাকে দুই পাশে। আর তালু অংশের চুলগুলো থাকে মাঝারি সাইজে ছাঁটা ও স্পাইক করা।

 হামেস রদ্রিগেজ

হামেস রদ্রিগেজ

কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেজের চুলের স্টাইলটা খুব সুবিধাজনক। তাঁর ‘হার্ড পার্ট’ স্টাইল পশ্চিমা ফ্যাশন জগতে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। মাথার এক দিকের কানের ওপরের দিকের চুল রেজর শার্প করে ট্রিম করে পুরো মাথার চুল সমান রাখতে হয় এই স্টাইলে। স্টাইলিস্টদের ভাষায়, এভাবে চুল ছাঁটার ফলে নানা সময় নানা স্টাইলে চুল সাজানো হয়। চাইলে লম্বা অংশের চুল দিয়ে ছাঁটা অংশ ঢেকে একটা পরিপাটি লুক নেওয়া যায়, আবার সময় বুঝে ট্রিম করা দিকটা বের করে মোহক স্টাইলে সবার সামনে আসা যায়।

 মারসেলো

মারসেলো

আফ্রো হেয়ারস্টাইল দিয়ে নজরে আসা আরেক খেলোয়াড়ের নাম মারসেলো। ব্রাজিলের রক্ষণভাগে (ডিফেন্ডার) খেলে বোঝদারদের মন কেড়েছেন। ফ্যাশন সচেতন মানুষের কাছে তিনি প্রিয় হয়ে উঠেছেন তাঁর অভিনব হেয়ারস্টাইল দিয়ে। আফ্রো ধাঁচের চুলকে তিনি ছেঁটে নয়; বরং একটু লম্বা রাখতেই ভালোবাসেন। সূর্যমুখী ফুলের মতো তাঁর মুখের চারপাশে কোঁকড়া চুলগুলো ছড়িয়ে থাকে। দূরের ড্রোন শট থেকে মাঠে থাকা মারসেলোকে এ কারণে দিব্যি চেনা যায়।

 লুকা মদরিচ

লুকা মদরিচ

ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়ার লুকা মদরিচ জিতেও শান্তি পাচ্ছেন না। কারণ, সমস্যাটা তাঁর খেলায় নয়, তাঁর চুলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাঁকে ক্রোয়েশিয়ার ‘উইলি ওংকা’ বলে সম্বোধন করছেন। কারণ ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া লম্বা বাবরি চুলে লুকাকে নাকি একদম ‘চার্লি অ্যান্ড দ্য চকলেট ফ্যাক্টরি’ গল্পের উন্মাদ উইলি ওংকার মতো দেখাচ্ছিল। তবে লুকা হেয়ারব্যান্ড পরে যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন লম্বা চুলের ফ্যাশন স্টেটমেন্ট দিয়ে নিজেকে আলাদা করতে, কিন্তু শেষ নাগাদ ট্রোল থেকে বাঁচতে পারেননি। চুলের স্টাইলের জন্য বেচারাকে কত কী-ই না শুনতে হচ্ছে!

 মোহাম্মদ সালাহ

মোহাম্মদ সালাহ

মিসর ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে—এটাই শুধু এ দলের প্রতি সবার আগ্রহের একমাত্র কারণ নয়। মিসরের সুদর্শন খেলোয়াড় মোহাম্মদ সালাহর জন্যও এবার অনেকের চোখ গিয়ে ঠেকেছে এ দলের প্রতিটি ম্যাচের দিকে। সালাহ এবারের বিশ্বকাপের পছন্দের খেলোয়াড়দের একজন। তাই তাঁর প্রতিটি শট থেকে শুরু করে, চুলের কাটছাঁট, মুখের অভিব্যক্তি, গালের ভাঁজ—সব দিকেই ভক্তদের তীক্ষ্ণ নজর। কোঁকড়া-চুলো মিসরের এ সুদর্শন মূলত খ্যাতি পান লিভারপুলে খেলে। কোঁকড়া চুলে সাধারাণত আফ্রো ছাঁট দিয়ে রাখেন তিনি। লিভারপুল-ভক্তদের ধারণা, এই ছাঁট থাকলেই সালাহ মাঠে দুর্দান্ত খেলেন। ঝাঁকড়া আফ্রো চুল ছেঁটে ছোট করলেই তার প্রভাব নাকি খেলায় নেতিবাচকভাবে পড়ে। তাই সালাহ মাথার ঝাঁকড়া চুল অগোছালো ঝোপের মতো হয়ে থাকলেও এবার কাঁচি চালাননি। তাতেও অবশ্য খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি এবারের বিশ্বকাপে।

 পল পগবা

পল পগবা

চুলের ছাঁট কতটা কিম্ভূতকিমাকার হতে পারে, এটা জানতে ফ্রান্সের ফুটবলার পল পগবার চুলের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। কখনো শার্প মোহক, কখনো উদ্ভট রঙে চুল রাঙানো—পগবা চুল নিয়ে কোনো নিরীক্ষাই বাদ রাখেন না। তবে এবারের বিশ্বকাপে পল বেশ খানিকটাই স্বাভাবিক রেখেছেন তাঁর চুল। এই তো গেল সপ্তাহেই নিয়েছেন নতুন ছাঁট। রাশিয়ায় তাঁদের অস্থায়ী ফরাসি অনুশীলন শিবিরে বসে নতুন হেয়ার স্টাইল নিলেন তিনি। এ জন্য সুদূর লন্ডন থেকে নিজের নিয়মিত হেয়ার স্টাইলার আহমেদ আলসানাউইকে তলব করে নিয়ে গেছেন রাশিয়ায়। এরপর শুধু নিজেই নন, তাঁর সুবাদে ফরাসি শিবিরের বেশির ভাগ তারকা খেলোয়াড়ই চুলে নতুন ছাঁট নিয়েছেন। সবাইকে পরিপাটি করে সাজাতে মোট ১৮ ঘণ্টা লেগেছে আলসানাউইর। পগবা এবার নিয়েছেন একেবারে রেজার দিয়ে চাঁছা ছাঁট-কাট।

 মানুয়েল নুইয়ার

মানুয়েল নুইয়ার

হেয়ার স্টাইল ক্যাম্প নামে একটি ওয়েবপোর্টাল বলেছে, জার্মানির গোলরক্ষক মানুয়েল নুইয়ারের চুলের ছাঁট গোলরক্ষকদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হেয়ার স্টাইল। এই ছাঁটের নাম ‘আইভি লিগ’। কারণ এতে সামনের চুল এতই ছোট করে কাটা থাকে যে তা চোখ ঢেকে যেতে পারে না। তাই কোনো বিঘ্ন ছাড়াই গোলরক্ষক নজর রাখতে পারেন বলের দিকে।

 মারাওনি ফেলানি

মারাওনি ফেলানি

বেলজিয়ামের খেলোয়াড় মারাওনি ফেলানি গত মার্চে তাঁর চুলের জন্য উঠে আসেন খবরের শিরোনামে। আফ্রো স্টাইলের ঝাঁকড়া কোঁকড়া চুলকে তিনি পোষ মানাতে চেয়েছিলেন। তাই সিঁথিপাটি করে মাথার দুই পাশে দুই ঝুঁটি বেঁধে এসেছিলেন ভক্তদের সামনে। এ নিয়ে কী যে হুল্লোড় শুরু হলো। ফেলানির সেই চেষ্টাকে সবাই ‘মিকি মাউস হেয়ার স্টাইল’ বলা শুরু করল। বিশ্বকাপে শুধু খেলা নিয়েই আলোচনায় থাকতে চান ফেলানি। এ জন্য আর নিরীক্ষা নয়। তিনি এবার মাথাভর্তি ঝাঁকড়া চুলেই মাঠে ফিরেছেন।

 

এবারের বিশ্বকাপ খেলায় বেশির ভাগ তারকা ফুটবলার যে হেয়ার স্টাইলগুলো নিচ্ছেন, সেগুলোর মধ্যে মোহক ও ফউক্স-হক বা ফো হক স্টাইল উল্লেখযোগ্য। অনেকে ফিউশন করে ফেডেড ফো হক্স স্টাইলেও তাক লাগাচ্ছেন সবাইকে।

 

সূত্র: হেয়ার স্টাইল ডটকম, মিরর, সান, ডেইলি মেইল, রিগাল জেন্টেলম্যান, মেনজ এক্স

আরো সংবাদ...